টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ডিজিটালাইজড হচ্ছে চট্টগ্রামের ৪০ লাখ খতিয়ান

voচট্টগ্রাম, ১৭ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস):  ডিজিটালাইজড হচ্ছে চট্টগ্রামের ৪০ লাখ খতিয়ান। শুধু খতিয়ান নয়, শত বছরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও অনলাইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে আয়োজিত রেকর্ডরুম ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে প্রায় ৪০ লক্ষ খতিয়ানকে ডিজিটালাইজড করে ডাটাবেজ সিস্টেমে আনা হবে।ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমানে রেকর্ডরুম ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম একটি মাইলফলক।

ভূমি সংক্রন্ত বিরম্ভনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে চলে আসছে জানিয়ে সাইফুজ্জামান চোধুরী বলেন, ভূমি জরিপ, রেকর্ড প্রণয়ন ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের ডিজিটাল পদ্ধতির সেবা জনগনে দোড়গোড়ায় নিয়ে যেতে পারলে মানুষের হয়রানি ও দুর্ভোগের পরিমান অনেক কমে আসবে।

সেবার মান যতবেশি আপডেট হবে তত বেশি স্বচ্ছতা চলে আসবে। সেই সাথে ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে আরো এশধাপ এগিয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্য সেবাকে মানুষের দোরগড়ায় পোচ্ছে দিতে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতার জন্য ডিজিটালাইজেশনের বিকল্প নেই, উল্লেখ করেন তিনি।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (আইসিটি) রাজীব উল আহসান বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং চট্টগ্রামের ১৪ জেলার ৪০ লাখ খতিয়ান ডিজিটালাইজড করার প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পাঁচজন কর্মকর্তা রেকর্ডরুম সম্পর্কে ঢাকা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা চট্টগ্রামের ২১৩টি ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র থেকে ২১৩ জন, ২২ জন অফিস সহকারী ও ৩০ জন আউট সোর্সার মিলে মোট ২৬৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ডিজিটালাইজড করার প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। খতিয়ান ও নথিপত্র সংরক্ষণের জন্য সফটওয়ার তৈরি করা হয়েছে। কিছু নথিপত্রের ডাটা ইনপুটও করা হচ্ছে। এ ছাড়া ডিজিটালাইজড কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় এ জন্য রেকর্ডরুমে চারটি ওয়াইফাই সংযোগ দেওয়া হয়েছে।’

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখা ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ ও রেকর্ড প্রণয়ন এবং সংরক্ষণ’ (প্রথম পর্যায়ে বিদ্যমান মৌজার ম্যাপ ও খতিয়ানসমূহের কম্পিউটারাইজেশন) শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে রেকর্ডরুম আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

রেকর্ডরুম কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের থেকে তিনজন অনলাইনে প্রতিটি খতিয়ানের লেখার নির্ভুলতা যাচাই করবেন। তারপর সংশ্লিষ্ট সর্বোচ্চ কর্মকর্তা খতিয়ানে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে প্রতিটি খতিয়ান ডিজিটালাইজড প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। অনলাইনে ডাটা এন্ট্রির ক্ষেত্রে প্রথমজন খতিয়ান লেখবেন। দ্বিতীয়জন তা রিভিশন দেবেন। তৃতীয়জন তা আবার যাচাই বাছাই করে দেখবেন। এ ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে নেই বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

সহকারী কমিশনার (আইসিটি) রাজীব উল আহসান বলেন, রেকর্ডরুম ডিজিটালাইজড করা হলে ইউনিয়ন অফিস থেকে খতিয়ানের জন্য আবেদন করা, অনলাইনে টাকা জমা দেওয়া, রেকর্ড সংরক্ষণ, ডাটাবেইজ তৈরি ও দ্রুত সেবা দেওয়া যাবে। তাছাড়া রেকর্ডরুমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অসাধু চক্রটি আর সুবিধা ভোগ করতে পারবে না।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত