টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

১৯৫ পাকিস্তানির বিচার, ভারতের সহযোগিতা চাইলেন কামরুল

imageচট্টগ্রাম, ১৭ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস): মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে চিহ্নিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১৯৫ জন কর্মকর্তার বিচারে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ এদের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিমলা চুক্তির পর বিচার করবে বলে এদেরকে নিয়ে যায় পাকিস্তান। (সূত্র আনন্দবাজার)

দেশে ফেরানোর চর সিমলা চুক্তি লঙ্ঘন করে যুদ্ধাপরাধের দায়ে চিহ্নিত কর্মকর্তাদের আর বিচার করেনি পাকিস্তান। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহযোগীদের বিচার শুরুর পর চিহ্নিত ১৯৫ সেনা কর্মকর্তার কী হবে সে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কেউ কেউ এদের অনুপস্থিতিতে বিচারের দাবি তুলছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের নৃশংসতার কাহিনি উঠে আসার পর এই বিচার নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে পাকিস্তান। এমনটি মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধের দায়ও অস্বীকার করে দেশটি। এই প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের দাবি উঠে। এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে।

বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতাতেও যুদ্ধাপরাধের দায়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর চিহ্নিত কর্মকর্তাদের বিচারের দাবি উঠে।

বাংলাদেশের পাশাপাশি ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালন করে ভারতীয় সেনাবাহিনীও। এ বছর ‘বিজয় দিবস’উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধাসহ বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কলকাতায় গেছেন কামরুল।সেখানে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘শিমলা চুক্তির ভিত্তিতে যুদ্ধবন্দি ১৯৫ জন পাকসেনাকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো বিচার করেনি পাকিস্তান’। তিনি বলেন, ‘এর জন্য ভারত এবং বিশ্বের সমর্থন চাইব আমরা’।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে পাকিস্তান বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কামরুল। বলেন, ‘আমরাঘাতকদের বিচার করছি। তা নিয়ে পাকিস্তান প্রতিবাদ করছে। সে দেশের পার্লামেন্টে নিন্দা প্রস্তাবও আনা হচ্ছে। এটা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সামিল’।

কলকাতায় বিজয় বিজয় দিবস অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ফোর্ট উইলিয়ামে। স্মারকস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের জিওসি-ইন-সি লেফটেন্যান্ট জেনারেল প্রবীণ বক্সীসহ দেই দেশের সেনা কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা।

তার পরে রেসকোর্সে ভারতীয় সেনার প্যারাট্রুপাররা আকাশ থেকে প্যারাস্যুটে চেপে নেমে আসাসহ নানা ধরনের কারসাজি দেখান। ছিল পোলো খেলা এবং ঘোড়দৌড়ের নানা রকম প্রদর্শনীও। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী।

অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসবাদ নিয়েও কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারত একযোগে কাজ করবে বলেও জানান তিনি। কামরুল বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে হাত মিলিয়েই জঙ্গি দমন করতে চান তারা। দু’দেশের যৌথ উদ্যোগে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত