টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নাহার ডেইরী ফার্মে অবস্থান করছেন নেদারল্যান্ডের ডেইরী বিশেষজ্ঞ ডঃ পিটর পাস্তর

নাহার এগ্রো,চট্টগ্রাম চেম্বার এবং নেদারল্যান্ডের পাম যৌথ ভাবে কাজ করেছে

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

Mirsarai-Nhara-Dairy-Photoচট্টগ্রাম, ১৫ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস):  দেশের সুনামধন্য নাহার এগ্রো গ্রুপের অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান নাহার ডেইরী ফার্ম। বর্তমানে এখানে প্রায় ৭শ গরু লালন পালন করা হয়ে থাকে। এসব গরু থেকে দৈনিক প্রায় ৩হাজার লিটার দুধ উৎপাদন সাপেক্ষে বহুদিন যাবৎ দেশের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে আসছে। একই সাথে এই আধুনিক খামারটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জেনেটিক/ব্রিড/জাত উন্নয়ন করে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে ধীরে ধীরে পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছে। এই খামারটি ২০২১ সাল নাগাদ দৈনিক ১০ হারজার লিটার দুধ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এবং এই কাক্সিক্ষত লক্ষ্য পূরণে এই খামারের প্রতিটা কর্মমর্তা কর্মচারি দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। একই কারণে এই খামারটি নানা দেশের অভিজ্ঞ ডেইরী এক্সর্পাট,ভেটেরেনারী এক্সর্পাট এবং অভিজ্ঞ বিদেশি খামারীদের সাথে নানা প্রকল্পে কাজ করে যাচ্ছে। যাতে করে এই খামারটি উন্নত জাতের গরু উৎপাদন সাপেক্ষে অধিক দুগ্ধ এবং দুগ্ধজাত পণ্য উৎপদন করতে পারে। একই লক্ষ্য পূরণে গত ৫ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ড থেকে ডঃ পিটার পাস্তর বাংলাদেশে এসেছেন শুধুমাত্র নাহার ডেইরীর উন্নয়ন সাধনে ভূমিকা রাখার জন্য। তার আগমনে নাহার এগ্রো,চট্টগ্রাম চেম্বার এবং নেদারল্যান্ডের পাম যৌথ ভাবে কাজ করেছে। পিটার পাস্তর খামারে সর্বমোট ১৪ দিন অবস্থান করবেন। এই অবস্থান সময়কালে উনি এই খামারের ফিডিং,বেডিং,মিল্কিং,ব্যবস্থাপনা,জৈব নিরাপত্তা,স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা,মিল্ক চিলিং, বিফ ফেটেনিং,কাঁচা ঘাস ও শুকনা খড় ব্যবস্থাপনা,গরুর বাছুর ব্যবস্থাপনা সহ অনেক ব্যাপার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। সর্বশেষে উনি এই খামারকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিবেন যাতে করে এই খামার তার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে কোন রকম সমস্যা না হয়। বর্তমান ব্যবস্থাপনা আরও বৈজ্ঞানিক করার জন্য উনি কাজ করে যাবেন। বিভিন্ন সমস্যা সমূহের গভীরে প্রবেশ করার জন্য ইতিমধ্যে উনি বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সাথে আলাদা আলাদা মিটিং করেছেন। তিনি কোম্পানির চেয়ারম্যান,ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং ফার্ম ম্যানেজারের সাথেও বৈঠক করেছেন ইতিমধ্যে। এই ব্যাপারে কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাকিবুর রহমান টুটুল বলেন,আমাদের এই ধরনের প্রচেষ্টা ১৯৯৯ সাল থেকে চলে আসছে এবং সামনে আরও প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে যাতে করে এই খামার একটি আধুনিক মান বজায় রেখে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। এই খামারের ব্যবসায়িক কনসালটেন্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ মোঃ শামসুদ্দোহা বলেন, আমরা বিভিন্ন বিদেশি প্রকল্প,কনসাল্টেন্ট,বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এম,ও,ইউ স্বাক্ষর করেছি যাতে করে এই খামার একটি পরিবেশ বান্ধব এবং সাস্টেইবেল হতে পারে। সঠিক নিয়মে ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করলে আশা করা যায় এই খামার বাংলাদেশের একটা বৃহৎ খামার হিসাবে দেশের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা পূরণে ব্যাপক ভ’মিকা রাখতে পারবে। এইসব খামারের বিকাশে সরকারি,বেসরকারী,বিদেশি কিংবা অন্য যেকোন ধরনের উদ্যোগকে এই খামারের কর্মকর্তারা সাধুবাদ জানায়। এছাড়াও বহুদিন ধরেই এই ফার্ম ডেইরী বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পাশ্ববর্তী পরিবেশ রক্ষা করে আসছে যা অন্যান্য নতুন উদ্যেক্তাকে নতুন নতুন ফার্ম করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত