টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ

desh-perem-bdচট্টগ্রাম, ১৫ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস):  দেশপ্রেম অর্থাৎ দেশকে ভালোবাসা ইমানের অঙ্গ। মাতৃভূমিকে ভালোবাসা, মাতৃভূমির মানসম্মান এবং সম্পদ রক্ষা ও এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের ইমানি দায়িত্ব। ইসলামে দেশপ্রেমের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যখন প্রিয়মাতৃভূমি থেকে হিজরত করেছিলেন, বারবার ফিরে ফিরে তাকাচ্ছিলেন।

দেশপ্রেম অর্থাৎ দেশকে ভালোবাসা ইমানের অঙ্গ। মাতৃভূমিকে ভালোবাসা, মাতৃভূমির মানসম্মান এবং সম্পদ রক্ষা ও এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের ইমানি দায়িত্ব। ইসলামে দেশপ্রেমের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যখন প্রিয়মাতৃভূমি থেকে হিজরত করেছিলেন, বারবার ফিরে ফিরে তাকাচ্ছিলেন। বারবার ঘুরে মক্কার পাহাড়ের দিকে, বৃক্ষের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, হে মক্কা! আমি তোমাকে ভালোবাসি। নবীজির (সা.) এমন আচরণ থেকে মাতৃভূমির প্রতি তার গভীর ভালোবাসার প্রতিচ্ছবিই প্রস্ফূটিত হয় এবং এই জীবন চিত্র থেকে দেশকে ভালোবাসার অমিয় শিক্ষা পাই আমরা। সুতরাং একজন খাঁটি মুসলিম হিসেবে, একজন মুমিন বান্দা হিসেবে হƒদয়ে দেশের প্রতি ভালোবাসা লালন করা উচিত। অথবা এভাবেও বলা যেতে পারে, যার মাঝে দেশপ্রেম নেই, দেশ ও দেশের সম্পদ-সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নেই, খাঁটি মুমিন তিনি নন।

নবীজি (সা.) বলেছেন, দেশপ্রেম তথা দেশকে ভালোবাসা ইমানের অঙ্গ। ইমানের মতো অপরিহার্য বিষয়ের অঙ্গ নির্ধারণ করার মধ্যে দিয়েই দেশপ্রেম তথা দেশকে ভালোবাসা গুরুত্ব অনুমান করা যায়। ইসলাম এ বিষয়টিকে এতটা গুরুত্ব প্রদান করেছে বলেই ইমানের অঙ্গ হিসেবে ঘোষণা করেছে। কেবল ইমানে অঙ্গ ঘোষণা করেই ক্ষান্ত হয়নি। আরো একধাপ এগিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ জীবনদানকারী মানুষগুলোকে শহীদের মর্যাদা দান করেছে ইসলাম। দেশকে ভালোবেসে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে যারাই জীবন উৎসর্গ করবে ইসলাম তাদের শহীদের মর্যাদায় ভূষিত করেছে। মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা ইমানি দায়িত্ব। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে যারা দেশ রক্ষায় নিয়োজিত থাকবে, দেশের উন্নয়নের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখবে, তাদের জন্য হাদিসে বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। হজরত রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, একদিন এক রাতের প্রহরা ক্রমাগত এক মাসের নফল রোজা এবং সারারাত ইবাদতে কাটিয়ে দেয়া অপেক্ষাও উত্তম। (মুসলিম)

হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন একজন আদর্শ দেশপ্রেমী মানুষ। দেশের প্রতি ভালোবাসা, দেশকে প্রাধান্য দেয়া, দেশ ও দেশের মানুষকে সম্মান করাসহ দেশাত্ববোধকমূলক এমন কোনো ভালো গুণ নেই নবীজির (সা.) মাঝে যার সম্মিলন ঘটেনি। দেশকে ভালোবেসে, দেশের মানুষ ও সম্পদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নিজ হিজরত করেছেন কিন্তু দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি কোনো অভিযোগ তোলেননি। দেশাত্ববোধ ও দেশপ্রেমের এমন উজ্জ্বল উদাহরণ পৃথিবীর ইতিহাসে নেই বললেই চলে। তাই আমাদের সবার উচিত নবীজির (সা.) সঠিক অনুসারী হিসেবে দেশকে ভালোবাসা, দেশের সম্মান ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং খাঁটি দেশপ্রেমিক হওয়া চর্চা করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে শুদ্ধ নিয়মে দেশকে ভালোবাসার তওফিক দান করুন। আমিন

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত