টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের দাবি

128429_1চট্টগ্রাম, ১৩ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস):  শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ। বাঙালির জীবনের এক বেদনাঘন দিন। দিনটিকে গভীর বেদনার সঙ্গে স্মরণ করছে জাতি। দিনটি উপলক্ষ্যে রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমির স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যরা।

যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নেওয়ায় পাকিস্তানের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন এবং জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবি ছিল তাদের কণ্ঠে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গঠিত প্রজন্ম ’৭১-এর সঙ্গে বধ্যভূমির স্মৃতিসৌধে আসেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার সরকার বাজেয়াপ্ত করবে এবং জামায়াতের রাজনীতি করার কোনো অধিকার থাকবে না। অচিরেই জামায়াতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হবে।’

পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে একটি মানববন্ধন করে প্রজন্ম’৭১-এর সদস্যরা। সেখানে শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের ছেলে জাহীদ রেজা নূর ও তৌহীদ রেজা নূর, শহীদ ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নূজহাত চৌধুরী, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীনের ছেলে সুমন জাহিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ চত্বরে মানববন্ধন করে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ’৭১। সেখানে ১৯৭১ সালে বাঙালির ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও বর্বরতার দায় অস্বীকার করে দেশটির সরকারের দেওয়া সাম্প্রতিক বিবৃতিকে প্রত্যাখ্যান করা হয়।

শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের নেতা-কর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী ১৯৫ জন পাকিস্তানিকে বিচার করবে বলে দেশটি নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তারা বিচার করে নাই ও আমাদের ন্যায্য হিস্যা দেয় নাই। আমরা এখন এই পর্যায়ে আন্দোলন শুরু করতে চাই, আমাদের ন্যায্য হিস্যা দিতে হবে। তারা আমাদের সম্পর্কে যে কটূক্তি করেছে, এর জন্য তাদের ক্ষমা চাইতে হবে।’

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও দীপু মণি, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন প্রমুখ।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মাহবুব উল আলম হানিফ। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালেই পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ছেদ হয়ে গেছে। তাদের পরাস্ত করেই আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। পাকিস্তান নিয়ে আমরা ভাবছি না। পাকিস্তান একটা ব্যর্থ রাষ্ট্র। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। এই ব্যর্থ রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা না থাকা অর্থহীন।’

জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়ে হানিফ বলেন, ‘ইতিমধ্যে উচ্চ আদালতে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে। শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখুন। যুদ্ধাপরাধী, মৌলবাদী ও ধর্মান্ধ দল জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে শেখ হাসিনা জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করবেন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘যখন পাকিস্তানিরা বুঝে গিয়েছিল, বাংলাদেশের স্বাধীনতা মুহূর্তের ব্যাপার তখন তারা বেছে বেছে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা শুরু করে, যেন বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে। আজকে ২০১৫ সালে এসে তারা বলছে ১৯৭১ সালে তারা কোনো গণহত্যা চালায়নি। আমি মনে করি, এটা নির্জলা মিথ্যা। ১৯৭১ সালে তারা গণহত্যা চালিয়েছে। সে জন্য মনে করি—পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক রাখা উচিত নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট আজ অপরাহ্নে বসে পাকিস্তানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক রাখার বিষয়ে পর্যালোচনা করবে।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত