টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চবির ছাত্রী প্রমিতির মৃত্যু : দায়ী ৩ শিক্ষক?

promitiচট্টগ্রাম, ১৩ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস):  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (আইআর) বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্রী প্রমিতি রহমানের অকাল মৃত্যুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে দায়ী করেছেন তার মা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (বাজেট ও অডিট) আলম আরা বেগম।

তিন শিক্ষকের কাছ থেকে প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টির ফলেই একমাত্র সন্তান প্রমিতির মুত্যু হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এক লিখিত অভিযোগে দাবি করেন তিনি। অভিযুক্ত তিন শিক্ষক হলেন- আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফয়সাল, প্রীতিলতা হলের সাবেক প্রভোস্ট মাহাবুব হক এবং একই হলের হাউস টিউটর ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মুনমুন নেসা চৌধুরী।

জানা যায়, বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ও মেধাবী ছাত্রী প্রমিতি রহমান আকস্মিকভাবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের নিজ বাড়িতে মারা যান। প্রাথমিকভাবে আলসার থেকে এ মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। কিন্তু প্রমিতি রহমানের মা আলম আরা বেগমের দাবি, প্রমিতিকে অতিমাত্রায় মানসিক চাপ প্রয়োগ করেছেন তিন শিক্ষক। আর এ কারণেই অকালে মারা গেছে প্রমিতি।

প্রমিতির মৃত্যুর নেপথ্যের তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ২৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বরাবর আবেদন করেছেন আলম আরা বেগম। তার এ আবেদন আমলে নিয়ে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিষয়টির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সমাজতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. এ এফ ইমাম আলিকে।

আলম আরা বেগম তার অভিযোগপত্রে বলেন, ‘মোহাম্মদ ফয়সাল আই আর বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্নজনকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করে আসছিলেন। এ সময় আমার মেয়েটিও টার্গেটে পরিণত হয়। প্রায়ই বিভাগে ডেকে নিয়ে প্রমিতিকে আজেবাজে কথা বলতেন তিনি। এমনকি তাকে তার ‘মা’ সর্ম্পকে অশালীন ইঙ্গিত দিয়ে কথা বলেছেন। বিভাগে প্রমিতির একাডেমিক পড়াশোনায় বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হতো। এমনকি পরীক্ষার হলে বিনা কারণে কেবলমাত্র হয়রানির উদ্দেশ্যে প্রমিতিসহ বেশ কয়েকজনের খাতা এক ঘণ্টা জব্দ করে রাখেন, যার ফলে তার রেজাল্ট খারাপ হয়।’

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘প্রমিতি প্রীতিলতা হলে একটি সিট বরাদ্দ পাওয়ার জন্য হলের প্রভোস্ট মাহাবুব হককে মাসের পর মাস অনুরোধ করলেও তাকে সিট দেওয়ার কথা বলেও কথা রাখেননি তিনি। এর পরিবর্তে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয় দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে। ওই ছাত্রীর দুর্ব্যবহার ও তাকে সিট ছেড়ে দেওয়ার জন্য বললে প্রমিতি প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে পড়ে যায়। কিন্তু তাতেও কোনো প্রকার সহযোগিতা করেননি মাহাবুব হক।’

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ‘সর্বশেষ মানসিক অত্যাচারের শেষ পেরেক ঠুকেছেন হাউস টিউটর মুনমুন নেসা চৌধুরী। ওই ছাত্রীর কাছে নালিশ শুনে প্রমিতির বা অন্যান্য রুমমেটের কাছে সত্য-মিথ্যা যাচাই না করেই একতরফা প্রমিতিকে চাপ সৃষ্টি করেন। এমনকি হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। এ সব কারণে প্রমিতি মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে থাকে। অবশেষে বর্তমান হল প্রভোস্টের হস্তক্ষেপে প্রমিতি হলে একটি সিট বরাদ্দ পায়। কিন্তু সেই সিটে আর তার থাকা হল না। সে চলে যায় না ফেরার দেশে।’

অভিযোগপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে  আলম আরা বেগম বলেন, ‘প্রমিতির ওপর মোহাম্মদ ফয়সাল, মাহাবুব হক, মুনমুন নেসা চৌধুরী ক্রমাগত মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছেন, যার কারণে আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। আমি আমার একমাত্র মেয়ের মৃত্যুর জন্য অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে করে আমার মতো আর কোনো মায়ের কোল খালি না হয়।’

তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. এ এফ ইমাম আলি বলেন, ‘আমি এরই মধ্যে অভিযুক্ত তিনজনের কাছ থেকেই লিখিত বক্তব্য নিয়েছি। কারণ তারা পরে যাতে কোন বিষয় অস্বীকার না করতে পারেন। গতকাল (শনিবার) প্রমিতির মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তার শেষ কথাগুলো জানাবেন বলে জানিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি এ পর্যন্ত যা পর্যবেক্ষণ করেছি তাতে প্রমিতি বিভাগ ও হল থেকে সে রকম কোনো সহযোগিতা পায়নি। আর রিপোর্ট জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমি একটু সময় নেব, যাতে করে কোথাও কোনো সমস্যা না থাকে।’-দ্য রিপোর্ট

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত