টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি মাশরাফি-সাকিব

চট্টগ্রাম, ১২  ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস): বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের রঙিন জার্সির অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা আর তার ডেপুটি সাকিব আল হাসান। এবার তারা মুখোমুখি। বিপিএলে দু’জনকে আরও একবার মুখোমুখি করেছিল। সেবার জিতেছিল সাকিবই। যদিও সাকিবের দলকে এর আগে একবার হারিয়েছিল মাশরাফির দল। ওই ম্যাচে নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে পারেননি সাকিব।

বিপিএলের কল্যাণে আবারও দু’জন মুখোমুখি। মাশরাফির নেতৃত্বে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স আর সাকিবের নেতৃত্বে রংপুর রাইডার্স। লিগ পর্বের খেলা শেষে ফাইনালের মঞ্চে জায়গা করে নিতে শনিবার মুখোমুখি হচ্ছে মাশরাফি-সাকিবের দল। প্রথম কোয়ালিফায়ারের এ ম্যাচ জিতে দুই দলই চায় ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলতে। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের ঝুঁকি কে’ই বা নিতে চায়!

শক্তি এবং পরিসংখ্যানের বিচারে এবারের বিপিএলে সমান তালেই এগিয়ে যাচ্ছে কুমিল্লা এবং রংপুর। গ্রুপ পর্ব শেষে ১০ ম্যাচ খেলে দুই দলই তুলে নিয়েছে ৭টি করে জয়। এমনকি মুখোমুখি লড়াইয়েও তারা সমানে সমান। নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে একটি করে জয় তুলে নিয়েছে দুই দলই। প্রথম খেলায় রংপুরকে মাত্র ৮২ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৯ উইকেটের বড় জয় তুলে নিয়েছিল কুমিল্লা। ফিরতি ম্যাচে কুমিল্লাকে ২১ রানে হারিয়ে প্রতিশোধ নেয় রংপুর।

এখন পর্যন্ত সমান তালে লড়াই হলেও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বড় দুশ্চিন্তার বিষয় ‘ইনজুরি’ সমস্যা। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পরে টানা পাঁচ ম্যাচে শুধুমাত্র অধিনায়ক হিসেবেই খেলে যাচ্ছেন অধিনায়ক মাশরাফি। যদিও দলের পেসারদের অনাকাঙ্ক্ষিত ইনজুরির জন্য বাধ্য হয়ে ছোট ছোট রানআপে দুই ম্যাচে বোলিং করেছিলেনন তিনি। তবে ফিল্ডিংয়ে দারুণভাবে চোখে পড়েছে তার ফিটনেসের অভাব। ইনজুরি নিয়ে আগের দিন মাশরাফি বলেছেন, ‘ইনজুরির অবস্থা খুব কঠিন। এ মুহুর্তে প্রায় পাঁচ-ছয় জন ক্রিকেটার ইনজুরিতে আছে। গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটাররাই ইনজুরিতে। ফিজিওর উপর খুব চাপ পড়ে যাচ্ছে ক্রিকেটারদের ফিট করতে। কুলাসেকারা বিশ্রামে ছিল। আজকে খেলেছে কিন্তু পুরোপুরি ফিট না। অলককে কোনোভাবে নামিয়ে দিয়েছি। আমি বোলিং করতে পারছি না। রাব্বিও আছে। মালিকও ইনজুরিতে। ওর দশটা ইনজেকশন নেওয়ার কথা রয়েছে। আটটা নিয়ে নিয়েছে। আজকে খেললে সেমিফাইনালে ওকে মিস করতে হত। তাই তাকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে।’

ইনজুরি সমস্যা নিয়েও মাঠে দারুণ নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাশরাফি। তরুণ আবু হায়দার রনি বোলিংয়ের ঘাটতি পুষিয়ে দিয়ে তুরুপের তাস হয়ে উঠেছেন। শেষ দুই ম্যাচে দারুণ ব্যাটিং করেছেন অভিজ্ঞ ইমরুল কায়েসও। ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলে যাচ্ছেন ঢাকার মাঠের পরীক্ষিত সৈনিক পাকিস্তানি আসহার জাইদি। এছাড়া আন্দ্রে রাসেল, আহমেদ শেহজাদও ভালো ফর্মে রয়েছেন।

অপরদিকে ইনজুরি নিয়ে কোন ভাবনা নেই রংপুরের। তবে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ফর্মহীনতা কিছুটা কপালে ভাঁজ ফেলেছে তাদের। তবে শেষদিকে থিসারা পেরেরা, ড্যারেন স্যামি ও মোহাম্মদ নবিরা তা দারুণভাবে পুষিয়ে দিচ্ছেন। জহুরুল ইসলাম অমি শেষ কয়েকটি ম্যাচে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে টপ অর্ডার নিয়ে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে তারা। ৮ ম্যাচে ১৯৬ রান তুলে নিয়েছেন এই ব্যাটসম্যান। বোলিংয়ে দলকে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক সাকিব। এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে কুমিল্লার আবু হায়দারের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ শিকারী এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। সাকিবের সঙ্গে দারুণ ছন্দে রয়েছেন আরেক বাঁ-হাতি আরাফাত সানি। এই আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ উইকেট তার।

প্রতিপক্ষ্য কুমিল্লাকে দারুণ সমীহ করছেন দলের ক্যারিবিয়ান তারকা ড্যারেন স্যামি। কুমিল্লা দল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তারা নিঃসন্দেহে ভালো দল। তারা খুব ভালো খেলছে। প্রতিপক্ষকে সব সময়ই সম্মান দিতে হবে। তবে আমরা কিন্তু তাদের বিপক্ষে খেলা শেষ ম্যাচটি জিতেছি। খুব ভালোভাবেই জানা আছে যে, আমাদের কি করতে হবে। কুমিল্লার শক্তিমত্তা নিয়ে অবশ্যই আলোচনা করবো। তবে পূর্ণ মনোযোগ নিজেদের সামর্থ্যের ওপর। একটা ভালো টি-টোয়েন্টি দল হিসেবে আমরা কি করার ক্ষমতা রাখি, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। মৌলিক বিষয়গুলোতে ভালো করতে হবে। স্পিনাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ব্যাটসম্যানদের অবশ্য আরো ভালো করার দরকার। আমরা যে ক্রিকেটটা খেলতে চাই, সেটা এখনো পারিনি। আগামীকাল আমরা আমাদের সামর্থ্যের পুরোটা স্পর্শ করতে চাই। সেটা করা গেলে আমার মনে হয় না ফাইনালে যেতে কোনো সমস্যা হবে।’

মতামত