টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রিজভী ইন, রিপন আউট!

bnpচট্টগ্রাম, ০৯ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস):   দীর্ঘ ১১ মাস পর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বেশি সময় বিশ্রামে না কাটিয়ে চলে আসেন দলীয় কার্যালয়ে।

দলে যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বে থাকলেও মূলত তার ব্যস্ততা ছিল দপ্তর নিয়ে। সকাল থেকে রাত অবধি কার্যালয়েই তিনি সময় পার করতেন। আর সে কারণেই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রিজভীর আগমনকে ঘিরে নয়াপল্টনে অনেকটা উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।

রিজভীর অবর্তমানে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালনকারী আরেক নেতা ড. আসাদুজ্জামান রিপনকে অন্যত্র দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে! ১১ মাসের কারাভোগের ধকল কাটিয়ে উঠলে আবারো দপ্তর নিয়ে ব্যস্ত হতে পারেন রিজভী আহমেদ।

গত ৩১ জানুয়ারি বারিধারার একটি বাসা থেকে আত্মগোপনে থাকাবস্থায় আটক হন রিজভী। এর আগে ৩ জানুয়ারি নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তুলে নিয়ে অসুস্থ রিজভীকে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নানা নাটকীয়তার পর গত সোমবার জামিনে মুক্তি পান রিজভী। ওইদিন রাতেই তিনি দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এর ফাঁকে একদিন বিশ্রাম নিয়ে বুধবার বিকালে আসেন নয়াপল্টনে।

বিকালের দিকে রিজভী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসবেন এমন খবরে আগে থেকেই নেতাকর্মীরা ফুল নিয়ে অপেক্ষা করেন। বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে কার্যালয়ের সামনে আসার পর তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। কেউ ফুলের তোড়া হাতে দিয়ে, কেউ আবার নেতার গলায় মালা পড়িয়ে দেন। এসময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

পরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন রিজভী আহমেদ। যদিও ততক্ষণে কার্যালয়ে আসতে পারেননি তার অবর্তমানে মুখপাত্রের দায়িত্ব পালনকারী নেতা ড. আসাদুজ্জামান রিপন। তবে রিজভী কথা বলার কিছুক্ষণ পরই রিপন কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

সামনের দিনগুলোতেও ড. রিপন মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘আসাদুজ্জামান রিপন ছাত্র জীবনে আমার নেতা ছিলেন। তিনি দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। তিনি তার দায়িত্ব পালন করবেন। আমাদের দলের মহাসচিব গ্রেপ্তার হলেও সেখানে অন্য কেউ দায়িত্ব পালন করেন।’

কারান্তরীণ সময়ের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘গোটা দেশ প্রাতিষ্ঠানিক কারাগারে পরিণত হয়েছে। ভেতরে বাহিরে কোনো পার্থক্য নেই। ৫ জানুয়ারির পর সরকারের সব বৈধ সত্ত্বা বিবর্জিত হয়েছে। ৭২-৭৫ সালের মতো রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। তারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে।’

রিজভী ইন, রিপন আউট!
অবৈধ সত্ত্বা নিয়ে জনগণের কাঁধের উপর বসে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না-সরকারের উদ্দেশে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন,‘অবৈধ সরকারের পতন হয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’

পৌরসভা নির্বাচনের বিষয়ে গণতন্ত্রকে স্বৈরতন্ত্রে বন্দী রাখা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এ বন্দীশালা থেকে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি।’

রিজভী বলেন, ‘সাবলীল স্বচ্ছ, স্বতঃস্ফূর্ত এবং সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

নির্বাচন কমিশন গণতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী কাজ করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকার গায়ের জোরে নির্বাচন নিজেদের অনুকূলে নেয়ার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের ধরপাকড় ও নানাভাবে হয়রানি করছে। নির্বাচনের আগে উৎসবমুখর পরিবেশ না থাকলে ও যুদ্ধাবস্থা ও কারফিউ জারির মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’

রিজভী বলেন, ‘নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে না পারলে সরকার যে দুর্বিসহ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চায় তা প্রমাণ হবে।’-ঢাকাটাইমস

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত