টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

১৪ ডিসেম্বরের আগে প্রতীক নিয়ে প্রচারণা নয়

চট্টগ্রাম, ০৯ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস):  ১৪ ডিসেম্বরের আগে কোনো প্রার্থী দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালাতে পারবেন না। ১৪ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হলে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এক সঙ্গে প্রতীক নিয়ে প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। তবে প্রার্থীরা প্রতীক ছাড়া বুধবার থেকে ঘরোয়া ও পথসভাসহ সীমিত আকারে প্রচারণা চালাতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বুধবার বেলা পৌনে ২টায় নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানিয়েছেন।

সচিব বলেন, ‘বিধিতে বলা আছে, ভোটগ্রহণের একুশ দিন আগে প্রচারণা চালানো যাবে না। অর্থাৎ একুশ দিনের মধ্যে সীমাটা চলে আসলে প্রচারণা চালাতে পারবেন। তাই আজ থেকে প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রার্থীদের কবে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে তাও বিধিতে বলা আছে। তবে তার আগে প্রত্যাহারের একটি বিষয় আছে।’

সচিব বলেন, ‘তফসিল অুনযায়ী, ১৪ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ১৩ ডিসেম্বর প্রত্যাহার শেষে কমিশন জানতে পারবে কারা প্রার্থী হচ্ছেন। এরপরই কমিশন ১৪ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেবে। সেদিন থেকেই প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালাতে পারবেন। তার আগেই নয়।’

তিনি বলেন, ‘একটি প্রশ্ন এসেছিল, যেহেতু দলীয়ভাবে নির্বাচন হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য প্রতীক বরাদ্দ আছে, তারা সেই প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালাতে পারবেন কিনা।’ একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, বিধিতে রাজনৈতিক দলের যারা মনোনীত প্রার্থী তাদের যেমন নির্বাচন করার সুযোগ আছে, তেমনি স্বতন্ত্র প্রার্থীরও সুযোগ রয়েছে। যেহেতু ১৪ ডিসেম্বরের আগে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতীক পাচ্ছেন না, তাই রাজনৈতিক দলকে এ সুযোগ দেওয়া হলে বৈষম্যের সৃষ্টি হবে। এ নিয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রার্থীরা ১৪ ডিসেম্বর থেকে প্রচারণা চালাতে পারবেন।

কেউ যদি ১৪ ডিসেম্বরে আগে প্রচারণায় নামে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কমিশন কি ব্যবস্থা নেবে জানতে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে ১৪ ডিসেম্বর থেকে তারা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবেন।’

‘নির্বাচনে সব সচেতন মানুষ অংশ নিচ্ছেন। যারা প্রার্থী হচ্ছেন প্রত্যেকই আইন বিধির বিষয়ে সচেতন আছেন। আশা করছি, তারা কমিশনের সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন।, বলেন সচিব।

না মানলে কি ব্যবস্থা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা পরে দেখা যাবে।’

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নির্ধারিত প্রতীক আছে। তারা প্রতীকের বিষয়ে মুখে বলতে পারবেন। এ থেকে বিরত রাখা যাবে না, বাস্তবতাটা ‍বুঝতে হবে।’

বিধি অনুযায়ী ৯ ডিসেম্বর থেকে প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করতে পারলেও দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রচারণা করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে ইসি সিদ্ধান্তহীনতায় ছিলেন। গত সোমবার নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ সাংবাদিকদের জানান, ৯ ডিসেম্বর থেকে দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রচারণায় বাধা নেই।

১৪ ডিসেম্বর সব প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেবে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এর আগে ৯ ডিসেম্বর থেকে দলীয় প্রার্থীরা প্রতীক নিয়ে প্রচারণার সুযোগ পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বঞ্চিত হবেন। আর এ নিয়েই বিপত্তির শুরু।

এ নিয়ে মঙ্গলবার কমিশনারগণ এবং ইসি সচিব কয়েক দফা বৈঠক করেন। কিন্তু এ দিন তারা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি। বৈঠকে কমিশনার শাহনেওয়াজ ৯ ডিসেম্বরের পক্ষে থাকলেও কেউ কেউ বিরোধিতা করেন। ফলে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বৈঠক শেষ করতে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসির এক পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ‘অতীতের সব স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দের পর একসঙ্গে প্রচারণা শুরু করতেন। এবারও তাই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৯ ডিসেম্বর থেকে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে বাধা নেই- একজন কমিশনারের এমন ঘোষণার পর সব এলোমেলো হয়ে যায়।’

নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল কিংবা তার মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ সময়ের আগে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারেন না। সে হিসেবে ৯ ডিসেম্বর থেকে প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা।

নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিধি অনুসারে মেয়র প্রার্থীরা ৯ ডিসেম্বের থেকে দলীয় প্রতীকে প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীকের জন্য আরও পাঁচ দিন অপেক্ষা করতে হবে।’

স্বতন্ত্র ও দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে শাহনেওয়াজ বলেন, ‘এটা খুব সামান্য ব্যাপার। ভোটাররা প্রতীক নয়, ব্যক্তিকে দেখে নির্বাচনে ভোট দেন। পৌরসভা খুব ছোট এলাকা। খুব বেশি ক্ষতি হবে না। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিজ পরিচিতিতে প্রচারণা চালাবেন।’

প্রসঙ্গত, আগামী ৩০ ডিসেম্বর দেশের ২৩৫টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে। ১৩ ডিসেম্বর নাম প্রত্যাহারের শেষ দিন। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ১৪ ডিসেম্বর।

মতামত