টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নারীকে তার নিজের ভাগ্য গড়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ০৯ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস):  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছেন।নারীরা আজ অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।তারা আজ মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারছে সমাজে।আমাদের মেয়েরা আজ স্বাবলম্বী হয়ে সমাজে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীরা যাতে প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজ নিজ অবস্থানে দৃঢ়ভাবে থাকতে পারেন সে চেষ্টা আমরা করে যাচ্ছি।

নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পেছনে জাতির পিতার অবদান স্বরণ করে শেখ হাসিনা বলেন,মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক নির্যাতিতা নারীর বিয়ের সময় তাদের কাবিননামায় পিতার নাম লেখার সময় জাতির পিতা বলেছিলেন, লেখ, এদের পিতার নাম শেখ মুজিবুর রহমান।

জাতির পিতা আমাদের পথ দেখিয়ে গেছেন। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করেন। চাকরির ক্ষেত্রে তিনি মেয়েদের জন্য কোটার ব্যবস্থা করেছিলেন। সব সময় তিনি একটি কথা বলতেন, ‘একটা মেয়ে যখন টাকা আয় করে বাড়িতে ফেরে তখন তার কথার একটা দাম থাকে’। আজ সেই অবস্থা সৃষ্টি করার সুযোগ এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীকে তার নিজের ভাগ্য গড়ে নিতে হবে।নারীরা কেন পিছিয়ে থাকবে। আর এ জন্য নারীদেরকে এগিয়ে আসতে হবে, ভূমিকা রাখতে হবে।

আজ মঙ্গলবার বেগম রোকেয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, এইতো কিছু দিন আগেও মেয়েদের ফুটবল খেলা নিয়ে প্রবল বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।শেষ পর্যন্ত মেয়েরা এখন খেলতে পারছেন ।এখন আর কোনো বাধা নেই।

তিনি বলেন, আমরাই অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সরকাই প্রথম নারীকে সচিব পদে নিয়োগ দেয়।সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে মহিলাদের নিয়ে আসা ছাড়াও এখন বেশ কয়েকজন এখন নারী সচিব পদে কাজ করছেন।

পুলিশের এসপি ও ওসি পদে আজ নারীরা ভালো করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভিসি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পদে নারী থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংকে ডেপুটি গভর্নরও আজ নারীদের বসানো হয়েছে।যা এর আগে ভাবা যেত ন।বিমান চালাচ্ছেন আজ নারীরা।সশস্ত্র বাহিনীতে নারীদের নিয়োগ দেয়া আমাদের সময়ই শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ১৯৯৬ সালের ক্ষমতায় থাকার সময়ের স্মৃতিচারণ বলেন, ‘আপনারা খেয়াল করে দেখুন, উচ্চ আদালতে কোনো মহিলা জজ ছিল না। প্রথম মহিলা জজ হাইকোর্ট ডিভিশনে, পরে অ্যাপিলেট ডিভিশনে। সেটাও আওয়ামী লীগেরই করা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি চেয়েছিলাম তৃণমূল থেকে নারী নেতৃত্ব গড়ে উঠুক। আর সে কারনে অনেক বাধা পেরিয়ে আজ জাতীয় সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে নারীরা আজ আসীন রয়েছেন। আমরা নারীদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছি। সরকারি সংস্থাগুলোতে ডে-কেয়ার সেন্টার করা হয়েছে, যাতে করে নারীরা ভালোভাবে অফিস করতে পারে।

তিনি বলেন, তাছাড়া নারীরা যাতে সমাজে মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারে সে জন্য আরও অনেক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।নারীদের জন্য আলাদা হাসপাতালের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম তৃণমূল পর্যায় থেকে নেতৃত্ব গড়ে উঠুক। প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিলাম, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। সে জন্য মেয়েদের ৩০ শতাংশ কোটা সুনির্দিষ্ট করলাম। কিন্তু মেয়েরা দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইবে? এটা অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। অনেক বাধা এলো। অথচ ৪৫ হাজার মেয়ে সেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল ১২ হাজার সিটের (আসন) জন্য। যারা বাধা দিয়েছিল, তারাই আবার কুপিবাতি বা পাটখড়িতে আগুন দিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে ওই মেয়েদের পক্ষে ভোট চাইলেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘একইভাবে আমরা মেয়েদের খেলাধুলার ব্যবস্থা করেছি। প্রথমবার যখন দেশে প্রমীলা ফুটবলের আয়োজনের চেষ্টা করা হয়, তখন অনেকের বাধার মুখে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে এখন সেসব বাধা কেটে গেছে।’

‘এখন আমাদের মেয়েরা ক্রিকেট খেলছে, ফুটবল খেলছে’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী

বিবি রাসেল

লন্ডন কলেজ অব ফ্যাশন থেকে ফ্যাশন ডিজাইনে স্নাতক ডিগ্রিধারী বিবি রাসেলের জন্ম ১৯৫০ সালে চট্টগ্রামে।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উন্নয়ন, তাঁতশিল্প ও তাঁতীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এখনও কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

১৯৭৬ সালে মডেলিংয়ে ইউরোপে খ্যাতি অর্জনের পর বাংলাদেশের খাদি ও জামদানি শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯০ সালে ঢাকায় ফেরেন বিবি রাসেল।

বাংলাদেশের বয়নশিল্পীদের উন্নয়ন এবং মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও দারিদ্র দূরীকরণের লক্ষ্যে তাঁতশিল্পের প্রসারে অঙ্গীকারের জন্য বিবি রাসেল জাতিসংঘের ‘ডিজাইনার ফর ডেভেলপমেন্ট’ উপাধি পান।

দেশীয় উপাদানে নান্দনিক পোশাক ডিজাইনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৯ সালে বাংলা একাডেমি তাকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ দেয়। এছাড়া দেশি বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা-প্রতিষ্ঠান থেকে ফেলোশিপ ও সম্মাননা পেয়েছেন।

পরিচ্ছদ ডিজাইনের জন্য বিবি রাসেল ২০১০ সালে বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

তাইবুন নাহার রশীদ?

১৯১৯ সালের ৫ মে ঢাকায় জন্ম নেওয়া তাইবুন নাহারের নাম ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন- বাংলাদেশের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে জড়িয়ে আছে।

১৯৪৮ সালে পাকিস্তান মহিলা জাতীয় রক্ষীবাহিনীর কমান্ডার ক্যাপ্টেন নিযুক্ত হয়ে খুলনা, বগুড়া, পাবনা, কুষ্টিয়ার স্কুল-কলেজের মেয়েদের রাইফেল চালনা, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং নার্সিং ট্রেনিং দেন তিনি। এছাড়া যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া ও বরিশাল জেলার কোম্পানি কমান্ডারও ছিলেন তিনি।

১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় বাংলায় কবিতা লিখে সরকারের রোষানলে পড়েন তাইবুন নাহার। ১৯৫৪ সালে খুলনা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন তিনি।

১৯৭১ সালে অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নিয়ে ঢাকায় মেয়েদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার খবর ফাঁস হওয়ায় নয় মাস তাকে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ নিজের প্রশিক্ষিত দল নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে গার্ড অব অনার দেন মহিয়সী এই নারী। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানেও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল তার।

নারী উন্নয়ন আর সমাজসেবায় অবদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সিয়েনাহাইটন বিশ্ববিদ্যালয় তাইবুন নাহারকে সম্মানসূচক ‘ডক্টারস অব হিউম্যান লেটারস’ ডিগ্রি দেয়।

শিক্ষানুরাগী এই নারী লেখালেখিতেও খ্যাতি পেয়েছেন। কলকাতার গৌড়বঙ্গ সাহিত্য পরিষদ ১৯৫০ সালে তাইবুন নাহারকে বাংলা সাহিত্যে ‘কবিরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত করে।

‘শতাব্দীর মহানায়ক অনন্য মুজিব’, ‘তুমি আর আমি’, ‘মধ্যরাত (উপন্যাস) ১ম খণ্ড’, ‘মধ্যরাত (উপন্যাস) ২য় খণ্ড’, ‘জীবনের ডায়েরী থেকে’, ‘আমার বাবা আমার জীবন’ এবং ‘একটু কিছু বল’ তার উল্লেখযোগ্য রচনা।

সমাজসেবায়ও ছিলেন তাইবুন নাহার। ১৯৭৭ সালে তিনি সমাজসেবায় অনন্য পদক পান। ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সহ-সভাপতি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত