টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কোকেন মামলায় চার্জশিট প্রত্যাখ্যান, আরো তদন্তের নির্দেশ

চট্টগ্রাম, ০৭ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস)::  চট্টগ্রাম বন্দরে তেলের চালানে কোকেন সনাক্তের মাদক মামলায় পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য র‌্যাবকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মো. রহমত আলী শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আদালত একই সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার নিচে নয় এমন একজন কমকর্তাকে দিয়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য র‌্যাবকে নির্দেশ দিয়েছে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান বলেন, ‘মামলায় এজহারভুক্ত প্রধান আসামি খান জাহান আলী লিমিটেডের মলিক নুর মোহাম্মদের নাম না থাকায় অভিযোগপত্র গ্রহণ করেনি আদালত। র‌্যাবকে অধিকতর তদন্ত করার আদেশ দিয়েছে।’

তবে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ হয়নি বলে জানান তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. কামরুজ্জামান গত ১৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেন। পরে আদালত এটি গ্রহণের শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য রাখে।

কোকেন জব্দের ঘটনায় চট্টগ্রামের বন্দর থানায় গত ২৭ জুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এ মামলা করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে চোরাচালানের অভিযোগে এই মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের ধারাও সংযোজন করা হয়। তবে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ধারায় পৃথক অভিযোগপত্রটি এখনো দেয়নি ডিবি পুলিশ।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগপত্রে জব্দ হওয়া কোকেনের চালানের গন্তব্য গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সাড়ে চার মাসের তদন্তেও বের করতে পারেনি। তেলের চালানে কোকেন সনাক্তের ঘটনায় লন্ডনপ্রবাসী দুই বাংলাদেশিসহ আটজনকে আসামি করা হয় অভিযোগপত্রে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, চালানটিতে ৩৭০ লিটার তরল কোকেন রয়েছে। সাক্ষী রাখা হয়েছে ৫৮ জনকে।

গত ৬ জুন পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোকেন সন্দেহে চট্টগ্রাম বন্দরে সূর্যমুখী তেলের চালান জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এরপর ২৭ জুন তেলের চালানের ১০৭টি ড্রামের মধ্যে একটি ড্রামের নমুনায় কোকেন সনাক্ত হয়।

প্রতিটি ড্রামে ১৮৫ কেজি করে সূর্যমুখী তেল রয়েছে। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাসায়নিক পরীক্ষাগারসহ চারটি পরীক্ষাগারে তেলের চালানের দুটি ড্রামের (৯৬ ও ৫৯ নম্বর) নমুনায় কোকেন সনাক্ত হয়।

অভিযোগপত্রে যে আটজনকে আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- লন্ডনপ্রবাসী চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের ফজলুর রহমান ও মৌলভীবাজারের রাজনগরের বকুল মিয়া, তেলের চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খানজাহান আলী লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা, কসকো বাংলাদেশ শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপক এ কে আজাদ, পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মন্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান, সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মেহেদী আলম, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সাইফুল আলম ও আবাসন ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল।

এর মধ্যে আসামি ফজলুর রহমান ও বকুল মিয়া পলাতক। গত ১৮ নভেম্বর জামিনে ছাড়া পেয়েছেন সাইফুল আলম। বাকি পাঁচ আসামি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন।

তবে অভিযোগপত্রে তেলের চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খানজাহান আলী লিমিটেড চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। যদিও মামলার এজাহারে তার নাম ছিল।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তদন্তে চালানটি আনার পেছনে নুর মোহাম্মদের জড়িত থাকার তথ্য মেলেনি। তার অগোচরে গোলাম মোস্তফা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে চালানটি দেশে আনতে বকুল মিয়াকে সহায়তা করেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত