টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে হচ্ছে দেশের প্রথম সিঙ্গেল মুরিং টার্মিনাল

চট্টগ্রাম, ০৬ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস):: চীনের সহায়তায় চট্টগ্রামে তৈরি হচ্ছে দেশের প্রথম সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং টার্মিনাল ও ডাবল পাইপ লাইন। ফলে জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেল ও ফিনিশড প্রোডাক্ট (এইচএসডি) সহজে, নিরাপদে, স্বল্প খরচে ও স্বল্প সময়ে খালাস নিশ্চিত করার সম্ভব হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৯৩৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৯২০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, চায়না এক্সিম ব্যাংকের ঋণ থেকে ৩ হাজার ৯০৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১১১ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য এ সংক্রান্ত প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে। অনুমোদন পেলে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পক্ষে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)।

পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য এস এম গোলাম ফারুক পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে এ বিষয়ে বলেছেন, ইতোমধ্যেই প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং প্রক্রিয়াকরণ শেষ হয়েছে। এটি বাস্তায়িত হলে লাইটারেজ অপারেশনের মাধ্যমে ক্রুড ওয়েল ও ফিনিশড প্রোডাক্ট আমদানিতে যে সিস্টেম লস হয় তা কমানো যাবে এবং দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা হবে। এ সব বিবেচনায় প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের বাৎসরিক ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা দেড় মিলিয়ন টন। চলমান ইউনিট টু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ইআরএলের ক্রুড অয়েল প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা প্রতি বছর সাড়ে ৪ মিলিয়ন টন হবে। অন্যদিকে দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রতি বছর ৩ মিলিয়ন মেট্রিকটন এইচএসডি আমদানি করা প্রয়োজন। এ ছাড়া আন্তঃদেশীয় এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে আরও বেশি পরিমাণ এইচএসডি আমদানি প্রয়োজন পড়বে।

চট্টগ্রাম বন্দরের অবকাঠামোতে বড় ক্রড ভেসেল হ্যান্ডেল করা সম্ভব নয়। কেননা, কর্ণফুলী নদীর চ্যানেলের নাব্য মাত্র ৮ থকে ১৪ মিটার। এ সব সীমাবদ্ধতার কারণে বড় ক্রুড ভেসেলগুলো গভীর সমুদ্রে নোঙ্গর করা হয়। এরপর ছোট লাইটারেজ ভেসেলের মাধ্যমে ক্রুড আনলোডিং করা হয়। এভাবে ১১ দিনে একটি এক লাখ ডিডব্লিউ ট্যাংকার খালাস করা হয়। সুতরাং লাইটারেজ অপারেশনের মাধ্যমে বেশি পরিমান ক্রুড ইনলোড করা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। এসব সমস্যা হতে উত্তরণের জন্য একটি সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১০ সালে ইনস্টেলেশন অব সিঙ্গেল মুরিং (এসপিএম) শীর্ষক একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন দেয়। সে সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৫৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৪৭ কোটি ৮২ লাখ, ইসলামিক উন্নয়ক ব্যাংকের (আইডিবি) ঋণ ৯০৪ কোটি ৪১ লাখ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার ২ কোটি ৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছিল। ২০১২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব চলতি বছরের ৬ মার্চ পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। এতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৪ হাজার ২৪৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৮০২ কোটি ৭৮ লাখ, বৈদেশিক সহায়তা ৩ হাজার ৩০০ কোটি এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়। বৈদেশিক সহায়তার অংশে আইডিবি হতে ইতোপূর্বে গৃহীত ঋণের ৩৪ কোটি ২৫ লাখ এবং অবশিষ্ট অর্থ চায়না এক্সিম ব্যাংক হতে ঋণ গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়। প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে আইডিবির ঋণ সীমার অতিরিক্ত হওয়ায় এবং প্রকল্পের ডিজাইন ব্যাপক পরিবর্তন হওয়ায় আইডিবি সংশোধিত প্রকল্পের অর্থায়নে অপারগতা প্রকাশ করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের ব্যয় ৩৩৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাস্তবায়ন,পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) কর্তৃক ব্যয় যৌক্তিকীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আইএমইডির সুপারিশ অনুযায়ী পরিকল্পনামন্ত্রীর দিকনির্দেশনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ২৪ আগস্ট পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল পূর্বের গৃহীত প্রকল্পটি সমাপ্ত ঘোষণা করে নতুন করে প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে এবং ৯৪ কিলোমিটার পাইপলাইন যুক্ত করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়।

অর্থপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিষয়ে বিদ্যু, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, এ প্রকল্পের ইপিসি ঠিকাদার হিসেবে চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ব্যুরো (সিপিপি) কাজ করবে বলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশেন (বিপিসি) এবং সিপিপি’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। সম্প্রতি চীনের এক্সিম ব্যাংক এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা বাংলাদেশে অবস্থিত চীনের দূতাবাস এক পত্রের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে। চীনের এক্সিম ব্যাংক ওই বাণিজ্যিক চুক্তি পর্যালোচনা করছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত