টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সম্ভাবনা: গোবর ও মুরগির বিষ্ঠা থেকে ব্যায়োগ্যাস উৎপাদন করছে নাহার এগ্রো

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি 

Mirsarai-Baio-Gias-Photoচট্টগ্রাম, ০৬ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস):: পোলট্রি ও ডেইরি শিল্পে বিল্পব ঘটানোর পর এবার বায়ুগ্যাস উৎপাদনে এগিয়ে যাচ্ছেন নাহার এগ্রো গ্রুপ। গরুর গোবর ও মুরগির বিষ্ঠা থেকে প্রতিদিন ৮শ ঘনমিটার বায়ুগ্যাস উৎপন্ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। দেশে বায়ুগ্যাস উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা জাগিয়েছে তারা। এতে করে প্রাকৃতিক গ্যাস সাশ্রয়ের পাশাপাশি বায়ুগ্যাস দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখে চলছে। ভবিষ্যতে বায়ুগ্যাস উৎপন্ন আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের জিএম (প্রোডাক্টন) মনোজ কুমার চৌহান।

জানা গেছে, দেশে পোলট্রি ও ডেইরি শিল্পে বিশাল অবদান রেখে চলছে নাহার এগ্রো গ্রুপ। দেশে পোলট্রি শিল্পে প্রথম সারির অবস্থানে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া কৃষি, মৎস্য শিল্পেও এগিয়ে যাচ্ছেন তারা। দেশের মানুষের প্রোাটিনের চাহিদার কথা বিবেচনা করে নাহার এগ্রো গ্রæপ ১৯৯০ সাল থেকে ছোট্ট পরিসরে পোলট্রি ও ডেইরি শিল্প দিয়ে যাত্রা শুরু করেন। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, দৃঢ মনোবল নিয়ে শত প্রতিকুলতা সত্বেও প্রতিষ্ঠানের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মো: রকিবুর রহমান (টুটুল) ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঐকান্তিক কর্ম প্রচেষ্ঠায় প্রতিষ্ঠানটি তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে।

নাহার এগ্রো গ্রুপের জিএম (পোডাক্টন) মনোজ কুমার চৌহান জানান, ২০০৯ সালে দেড়শ গরুর গোবর দিয়ে মিরসরাইয়ের সোনাপাহাড় এলাকায় ডেইরি র্ফামে বায়ুগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়। বায়ুগ্যাস প্ল্যান্ট প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সহযোগীতায় তখন থেকে ছোট পরিসরে করে উৎপাদন শুরু করা হয়। ক্রমান্বয়ে গ্যাস উৎপাদনের পরিধি বাড়তে থাকে। বর্তমানে ডেইরি ফার্মে ৬৪০টি ছোট-বড় গরু রয়েছে। বায়ুগ্যাস প্ল্যান্টে দৈনিক ১০-১২ টন গোবর পেলানো হয়। বায়ুগ্যাস মুরগির বাচ্চা ব্রæডিং রান্না-বান্না ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা হয়। সেলারী (বৃষ্ঠা) দিয়ে সার তৈরী করে ডেইরী ফার্মের ঘাসের জমিতে ব্যবহার করা হয়। এবং কৃষি কাজেও এই সার ব্যবহার করা হয়।

ডেইরি ফার্মে থাকা গরু থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার লিটার গরুর দুধ পাওয়া যায়। দুধগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এসব দুধ দিয়ে দধি, রসমালাই, মিষ্টিসহ বিভিন্ন সুস্বাধু খাবার তৈরি হয়ে থাকে।

তিনি আরো জানান, গরুর গোবর থেকে বায়ু গ্যাস উৎপন্নের পাশাপাশি মুরগির বিষ্ঠা দিয়েও গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৮শ ঘনমিটার বায়ুগ্যাস উৎপন্ন হচ্ছে। সোনা পাহাড়ে ২টি গ্যাস প্লান্ট থেকে ২৫০ ঘনমিটার, করেরহাট মিরসরাই লেয়ার ফার্মে ২টি প্ল্যান্ট থেকে ২৫০ ঘনমিটার, কুমিরা ফার্মে ৫টি প্ল্যান্ট থেকে ২৩০ ঘনমিটার, অলিনগর ফার্মে ১টি প্ল্যান্ট থেকে ৭০ ঘনমিটার বায়ুগ্যাস উৎপন্ন হয়। শীতকালের চেয়ে গরমকালে বেশি গ্যাস উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন হওয়া বায়ুগ্যাস দিয়ে মুরগীর বাচ্চা উৎপাদন ও কোম্পানীর বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত প্রায় ৮শ কর্মকর্তা, কর্মচারীদের খাবারের রান্না-বান্নাসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়।

নাহার এগ্রো গ্রæপের ম্যানেজার (প্রশাসন) ফাইম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, আমাদের প্রজেক্টে প্রতিদিন অনেক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। তারমধ্যে এক ব্যাচ মুরগী উৎপাদনে প্রায় ২৫ লাখ টাকার গ্যাস প্রয়োজন হয়। কিন্ত আমরা বায়ুগ্যাস উৎপন্নের কারণে বাইরে থেকে গ্যাস ক্রয় করা দরকার হয়না। এতে করে প্রতিষ্ঠান মাসে কয়েক লাখ টাকা লাভবান হচ্ছে।

নাহার এগ্রো গ্রæপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুর রহমান (টুটুল) বলেন, নাহার এগ্রো গ্রæপ দেশের অর্থনীতি ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে ব্যপক অবদান রাখছে। ভবিষ্যতেও এই ভূমিকা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ। আমরা পোলট্রি, ডেইরি, কৃষি শিল্পের পাশাপাশি গ্যাসের চাহিদা পুরণে বায়ুগ্যাস উৎপন্ন করছি। বায়ুগ্যাস উৎপাদনের কারণে একদিকে প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলপি গ্যাসের উপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশের গ্যাসের চাহিদা পুরণ করছে। এছাড়া বায়ুগ্যাস দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের ব্যাপক অবদান রেখে চলছে। কেউ যদি আমাদের মত গ্যাসের প্ল্যান্ট করতে আগ্রহ প্রকাশ করে আমরা তাদের সহযোগীতা করবো।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত