টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বারইয়ারহাটে বিদ্রোহী প্রার্থীই আ’লীগের বাধা, প্রকাশ্যে নেই বিএনপি

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই  প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ০৫ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস)::  বারইয়ারহাট পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে ভোটারদের মধ্যে। পাশাপাশি সুষ্ঠ ভোট গ্রহণ নিয়ে শংকায়ও রয়েছেন অনেকে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় একক প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন আওয়ামীলীগ ও বিএনপি। তবে আ’লীগে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে দু’জন বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ভোটের সময় বেকাদায় পড়তে পারে দলীয় প্রার্থীকে। অন্যদিকে পৌর বিএনপির সাবেক আহŸায়ক মাঈন উদ্দিন লিটনকে বিএনপি প্রার্থী দিলেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার ওয়ারেন্ট থাকায় অনেকটা আড়ালে রয়েছেন তিনি। এছাড়াও পৌর বিএনপির আহŸায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি এবং তার অনুসারীরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

জানা গেছে, গত ১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী ও আ’লীগের দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা বারইয়ারহাট পৌর আ’লীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিনকে (ভিপি নিজাম) আ’লীগের প্রার্থী মনোনয়ন দেন। এর আগে চট্টগ্রাম জেলা আ’লীগের মনোনয়ন কমিটিতে দলীয় মনোনয়ন চান পৌর আ’লীগের সহ-সভাপতি ফজলুল করিম লিটন, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম খোকন, বর্তমান মেয়র এসএম তাহের। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ফজলুল করিম লিটন ও খোকন। সর্বশেষ ৫ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের দিনও তারা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে শেষ পর্যন্ত থাকার ঘোষণা দেন। এই নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত দলীয় প্রার্থী ভিপি নিজাম উদ্দিন। কারণ বারইয়ারহাট পৌরসভায় রেজাউল করিম খোকনের দলীয় নেতকর্মীদের কাছে গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে। অনেকে মনে করেন খোকন শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলে দলীয় প্রার্থী ভিপি নিজামের ভোটের উপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে উপজেলা আ’লীগের এক সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন মিরসরাইয়ের সাংসদ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আজ কালকের মধ্যে খোকনকে ডেকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিবেন। প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করলে খোকনকে দল থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ারও গুঞ্জণ রয়েছে। মিরসরাই উপজেলার রাজনীতিতে গণপূর্তমন্ত্রীর কথাই অনেকটা শেষ কথা। গণপূর্ত মন্তী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের কথার বাইরে কারো কিছু করার সুযোগ নেই বলে জানান বারইয়ারহাট পৌরসভার একাধিক আ’লীগ নেতা।

পৌর আ’লীগের সভাপতি ভিপি নিজাম বলেন, ‘দল নৌকা প্রতীকে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। সকল নেতাকর্মী আমার সাথে রয়েছে। এক্ষেত্রে ¯্রােতের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাতে আমার ভোটের উপর কোন প্রভাব পড়বেনা।’

পৌর আ’লীগের সহ-সভাপতি ফজলুল করিম লিটন বলেন, ‘দীর্ঘদিন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু দল প্রার্থী নির্বাচনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য দল যতই চাপ দিক আমি প্রত্যাহার করবো না। এক্ষেত্রে দল যে সিদ্ধান্ত নিবে তা মেনে নেবো।’

বারইয়ারহাট পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম খোকন বলেন, ‘বিগত সময়ে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা অবরোধ হরতালে রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার সতর্ক অবস্থানের কারণে বারইয়ারহাট পৌর এলাকায় কোন প্রকার নাশকতা করতে পারেনি বিএনপি-জামায়াত। কিন্তু তাকে দলীয় মনোনয়ন না দেয়ায় তিনি হতাশ হয়েছে। তাই নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর অনুরোধে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করতে যাচ্ছেন। নেতকর্মীদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। এতে দল তার বিরুদ্ধে যে সিদ্ধান্ত নেয় তা তিনি মেনে নেবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন (ভিপি নিজাম) তিনি শুক্রবার ছাড়া এলাকায় তেমন থাকেন না। নির্বাচনে দল কোন বিবেচনায় তাকে মনোনয় দিয়েছেন কিছু বুঝতে পারতেছিনা।’

এদিকে বিএনপির মনোনয়ন কমিটি বারইয়ারহাট পৌরসভায় দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন পৌর বিএনপি সাবেক সভাপতি মাঈন উদ্দিন লিটনকে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার ওয়ারেন্ট থাকায় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা, জমা দেওয়া ও যাচাই বাচাইয়ে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি। অনেকটা গোপনে থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। জানা গেছে, বারইয়ারহাট পৌর নির্বাচনে বিএনপির দলীয় সমর্থন চেয়েছেন পৌর বিএনপির আহŸায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী, সাবেক মেয়র জালাল উদ্দিন, সাবেক সভাপতি মাঈন উদ্দিন লিটন। এছাড়া উপজেলা ও জেলা কমিটি দিদারুল আলম মিয়াজীর পক্ষে সমর্থন দিয়ে কেন্দ্রে মনোনয়ন কমিটি বরাবরে চিঠি পেরণ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বারইয়ারহাট পৌরসভার এক বিএনপি নেতা বলেন, বিএনপির মনোনয়ন কমিটি প্রার্থী মনোনয়নে ভুল করেছেন। যিনি মামলার কারণে অনেকটা আত্মগোপনে রয়েছেন তিনি কিভাবে নির্বাচনে অংশ নিবেন বুঝতে পারছিনা। তবে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিতরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে কাজ নাও করতে পারেন। নির্বাচনের আগে মাঈন উদ্দিন লিটন ও দিদারুল আলম মিয়াজী যদি এক না হন তাহলে ভোটে তা চরম প্রভাব পড়তে পারে।

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মাঈন উদ্দিন লিটন বলেন, ‘২০০৮ সালের পৌর নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করি। আমার নিশ্চিত জয় আ’লীগ প্রার্থী জোর করে ছিনিয়ে নেয়। দলের নেতাদের সুখে দুখে সব সময় ছিলাম বিধায় দল আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। প্রতীক বরাদ্ধের পর দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে প্রচারণা শুরু করবো। নির্বাচন সুষ্ঠ হলে আমি বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।’

বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির আহŸায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী বলেন, ‘দলের রাজনীতি করতে গিয়ে বিগত সময়ে ২৩টি মামলার আসামী হয়েছি। কিন্তু দল প্রার্থী দিতে গিয়ে তৃণমূলের কোন মতামত নেয়নি। তবুও দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তার পক্ষে কাজ করবো। এই ক্ষেত্রে তাকেই (মাঈন উদ্দিন লিটন) এগিয়ে আসতে হবে।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত