টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বিকল্প পথে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে

চট্টগ্রাম, ০৫ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস):: সরকার দেশে ফেসবুক বন্ধ রাখলেও বিকল্প পথে (প্রক্সি সার্ভার ও ভিপিএন ব্যবহার করে) অংখ্য ব্যবহারকারী এতে প্রবেশ করছেন। যারা বিকল্প পথে ফেসবুকে ঢুকছেন, তারা রয়েছেন চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে। এমনকি বিকল্প পথে ঢোকা এসব আইডি হ্যাকও হতে পারে বলে প্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।

যদিও এরই মধ্যে এমন ৩ জনের খবর এই প্রতিবেদক জেনেছেন, যারা বিকল্প পথে ফেসবুকে প্রবেশ করায় ঝামেলা্র মধ্যে পড়েছেন। গত ৩-৪ দিন ধরে তারা ফেসুবকে ঢুকতে পারছেন না। তারা জানান, তাদের আইডি ব্লক দেখাচ্ছে। এই ৩ জনের একজন শিক্ষার্থী, একজন কবি এবং একজন বেকার তরুণ। তিনজনেরই আশঙ্কা, বিকল্প মাধ্যম ব্যবহার করে ফেসবুকে বারবার লগইন করায় হয়তো তাদের আইডি ব্লক হয়ে গেছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ নভেম্বর নিরাপত্তার স্বার্থে সরকার ফেসবুকসহ কয়েকটি অ্যাপস বন্ধ করে দেয়। তারপর থেকে অনেকেই বিকল্প পথে ফেসবুকে প্রবেশ করছেন। বন্ধের প্রথম দু্ই-একদিন দেশে মোট ব্যবহারকারীর (পৌনে দুই কোটি) ১০ শতাংশ ফেসবুকে থাকলেও দিন যত গড়াচ্ছে, বিকল্প পথে ফেসবুকে প্রবেশকারীর সংখ্যাও তত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমনিতেই বিকল্প পথে ফেসবুকে প্রবেশকারীরা ইন্টারনেটে ধীরগতি পাচ্ছেন। দীর্ঘ মেয়াদে ফেসবুক বন্ধ থাকলে এবং বিকল্প পথে তাতে প্রবেশ করলে এ ধরনের জটিলতা আরও বাড়বে। এতে ইন্টারনেটের গতি আরও ধীর হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, যারা বিকল্প পথে (প্রক্সি সার্ভার ও ভিপিএন ব্যবহার করে) ফেসবুকে ঢুকছেন, তাদের আইডি হ্যাক হতে পারে। ওই আইডি দিয়ে অন্য কেউ জঙ্গি কার্যক্রম ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে। এতে যে কেউ ফেঁসে যেতে পারেন। আমাদের কিন্তু হাত-পা একেবারে বাঁধা। তখন চাইলেও আমরা এ বিষয়ে কাউকে কোনও সহযোগিতা করতে পারব না। তিনি আরও বলেন, আমরা একটি ভয়াবহ ধরনের ডিভাইস উদ্ধারের (র‌্যাবের মাধ্যমে) ঘটনা জেনেছি। ওই ডিভাইসটা এতটাই আধুনিক যে, কোনও ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ সেটা দিয়ে ঘটিয়ে ফেলা সম্ভব। তিনি জানান, ওই ডিভাইস দিয়ে কারও কাছে কোনও মেসেজ পাঠানো হলে তা ১০-১৫ সেকেন্ডের মধ্যে স্বয়ংক্রিভাবে ডিলিট (মুছে) হয়ে যায়। কোনও তথ্যই সেটা থেকে উদ্ধার করা যায় না। তিনি এর ভয়াবহতা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, এই ধরনের ডিভাইসের মাধ্যমে কোনও বড় ধরনের ঘটনা ঘটানো কোনও ব্যাপারই নয়, যারা এটা ব্যবহার করে তাদের পক্ষে।

তারানা হালিম বলেন, সব তথ্য গণমাধ্যমে আসছে না। ফেসবুক বন্ধ রেখে আমরা এ ধরনের অনেক কিছুই চিহ্নিত করতে পেরেছি। অনেক কিছুই শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এখন যা করা হচ্ছে সবই নিরাপত্তার স্বার্থে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছু একজন প্রযুক্তিকর্মী বললেন, আমরা যে ভিপিএন (ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক) দিয়ে ফেসবুকে প্রবেশ করছি, তা আসলে অন্য একজনের ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক। সেই নেটওয়ার্ক দিয়ে যখন আমরা প্রবেশ করছি, তখন সেখানে আমার সব তথ্য রয়ে যাচ্ছে। এখন কোনও হ্যাকার যদি আমার আইডি হ্যাক করে কোনও ধরনের অনিষ্ট করতে চায়, তা সে করতে পারবে। তখন আমার আসলে কিছুই করার থাকবে না। বিভিন্ন ব্রাউজার বা ভিপিএন ব্যবহার করার (ফেসবুক ব্যবহার) এই এক অসুবিধা।

এদিকে, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক অপারেটর্স গ্রুপের (বিডিনগ) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সুমন আহমেদ সাবির বলেন, বিকল্প উপায়ে ফেসবুকে প্রবেশ করলে যে কেউ ভিক্টিমাইজ হতে পারেন। যে কেউ তার তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। প্রক্সি সার্ভার বা ভিপিএন ব্যবহার করে কেউ ফেসবুক ব্যবহার করতে চাইলে তাকে অনেক সাবধানতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এগুলো করতে থার্ড পার্টির সঙ্গে একটা টানেল তৈরি করে করতে হয়। আপনি তাদেরটা ব্যবহার করে ফেসবুকে ঢুকছেন। কখনও কখনও তারা আপনাকেও ব্যবহার করতে পারে। এটাই খারাপ ফল দেয়। তিনি জানান, দেশে এখন যেসব ভিপিএন ব্যবহার হচ্ছে, তার ৯৯ শতাংশই ফ্রি। দেশে কোনও ভিপিএন প্রোভাইডার না থাকায় এর নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি অনেক বেশি। প্রোভাইডার থাকলে কোনও ধরনের সমস্যা হলে তারা বন্ধ করতে পারত কিন্তু সে ধরনের কোনও উপায় নেই। অন্যদিকে কমার্শিয়াল ভিপিএন অনেক বেশি সিকিউরড।

ফ্রি ভিপিএন ব্যবহার বিষয়ে সুমন আহমেদ সাবির বলেন, দেখা যাবে ব্যবহারের সময় অ্যাপস বা কিছু একটা পুশ করবে এর প্রোভাইডাররা। সেসব ওপেন করলে দেখা যাবে তাতে রয়েছে অ্যাডওয়ার বা ম্যালওয়্যার। এসব সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীকে ভোগাতে পারে।

এ ধরনের ব্রাউজার বা ভিপিএন ডেস্কটপে ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্রাউজার বন্ধ করে যেতে হবে। বন্ধ করা না হলে সেটা যদি অন্য কেউ ব্যবহার করে ফেসবুকে ঢোকে এবং কোনও ধরনের দুষ্কর্ম করে তাহলে সে দায়ভার যিনি প্রথম ব্যবহার করেছেন তাকেই নিতে হবে। কারণ, প্রথমবার যিনি এটাতে ব্যবহার করেছেন তিনিই ধরা পড়বেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনও ডিভাইসে কিছু করবেন এবং সেটাতে কোনও ছাপ বা দাগ (প্রযুক্তিগত) থাকবে না তা হতে পারে না।

সাবির জানালেন, ফেসবুক বন্ধের কারণে দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুগল প্লাস ও টুইটারে পোস্ট এবং শেয়ার বেড়ে গেছে। এ দুটোর ব্যবহারকারীও বেড়েছে বলে তিনি জানান।- বাংলা ট্রিবিউন

মতামত