টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সীতাকুণ্ড বড় ভাই জামায়াতের প্রার্থী ছোট ভাই আওয়ামী লীগের

চট্টগ্রাম, ০৫ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস):: এক পরিবার থেকে দুই দলের দুই প্রার্থী। একজন আওয়ামী লীগের, অন্যজন জামায়াতে ইসলামীর। বড় ভাই তৌহিদুল হক চৌধুরী সীতাকুণ্ড পৌরসভা জামায়াতের আমির। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি মেয়র পদে লড়ছেন। তাঁর ছোট ভাই তরিকতুল হক চৌধুরী সীতাকুণ্ড উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি। তিনি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।

রাজনীতিতে আদর্শগতভাবে বিপরীতমুখী অবস্থানে থাকা দুই ভাইয়ের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘটনা এলাকায় কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

তবে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ জে এম হোসেন লিটন বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে একাধিক কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আওয়ামী লীগ করেন। এখনো কাউকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। শিগগিরই দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইফতেখার হাসান জানান, ২০১৩ সালে সীতাকুণ্ডে নাশকতার ঘটনায় তৌহিদুল হকের বিরুদ্ধে ৩২টি মামলা রয়েছে। বেশির ভাগ মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার মেয়র পদে পৌরসভা জামায়াতের আমির তৌহিদুল হক চৌধুরীর পক্ষে তাঁর স্ত্রী কামরুজ্জাহান রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। একই দিনে পৌরসভা ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন তরিকতুল হক চৌধুরী।

কাউন্সিলর প্রার্থী তরিকতুল হক বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি। দলীয়ভাবে নির্বাচন করার জন্য কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছি।’ তিনি বলেন, তাঁর বড় ভাই প্রার্থী হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না। বড় ভাইয়ের রাজনীতির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানান তিনি।

তরিকতুলের বড় ভাই তৌহিদুল হক চৌধুরী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও প্রকাশ্যে আসছেন না। মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

পৌর বিএনপির সভাপতি ইউছুপ নিজামী বলেন, এখনো মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় রয়েছে। জামায়াতের প্রার্থীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বিএনপির মেয়র প্রার্থী সৈয়দ আবুল মুনছুর বলেন, জামায়াতের প্রার্থী কোনো প্রভাব ফেলবে না।

তবে নেতা-কর্মীদের আশঙ্কা, জামায়াত স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় ভোটে প্রভাব পড়বে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি আসলাম চৌধুরী বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট হয়েছে জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ে। তাদের প্রার্থিতা নিয়ে জোটে ও ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না।

সুত্রঃ প্রথম আলো

মতামত