টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি  

চট্টগ্রাম, ০৪ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস)::  মিরসরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বদলি বানিজ্য, প্রাথমিক সমাপনীর প্রবেশপত্র, মার্কশীট ও সার্টিফিকেট দিতে টাকা আদায়, শিক্ষকদের সমন্বয় সভার জন্য টাকা আদায়, পরীক্ষা সময় শিক্ষকদের দায়িত্ব বন্টনে অনিয়ম দূর্নীতি করে আসছেন। শিক্ষা কর্মকর্তাকে অনিয়ম দূর্নীতিতে দুয়েকজন সুবিধাবাদী শিক্ষক সহযোগীতা করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত মঙ্গলবার (১ডিসেম্বর) উপজেলা সম্বনয় সভায় কয়েকজন চেয়ারম্যান শিক্ষা কর্মকর্তার অনিয়ম দূর্নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। এরআগে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামের নেতৃত্বে শিক্ষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহম্মদ সুমনের সাথে দেখা করে মৌখিক ভাবে অভিযোগ করেন।

মিরসরাই প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় উপজেলার ৩১৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৮টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৯৪৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার ফি বাবদ প্রত্যেকে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে ৬০ টাকা করে ব্যাংকের মাধ্যমে শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে জমা দিয়েছে। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার খরচের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মিরসরাই উপজেলার জন্য ৯ লাখ ৬৩ হাজার ৭৮২ টাকা ৭৫ পয়সা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র নেয়ার সময় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমান প্রবশপত্র প্রতি এক টাকা করে প্রায় দশ হাজার টাকা অন্যায় ভাবে আদায় করেছেন বলে অভিযোগ করেন আব্দুর ছাত্তার ভূঁঞা হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস এ কামরুল হাসান। এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সমাপনী পরীক্ষার ব্যয় সংক্রান্ত বাজেট বিবরণীর একটি চিঠিতে দেখা গেছে, মিরসরাই থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার শিক্ষার্থী ৮ হাজার ২৬৫ জন। অবশিষ্ট এক হাজার ৬৮৪জন পরীক্ষার্থীর ৬০ টাকা করে ফিসের প্রায় এক লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

দক্ষিণ নাহেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাইনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা উর্ত্তীণ হওয়া ৭ হাজার ৬২১ জন ছাত্রছাত্রীদের সার্টিফিকেট প্রদানের ক্ষেত্রে শিক্ষা কর্মকর্তা প্রতি সার্টিফিকেট ৫ টাকা করে প্রায় ৩৮ হাজার টাকা কেন আদায় করছেন এর কোন জবাব নেই। শিক্ষকরাও হয়রানির ভয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার অন্যায় মুখভুজে তা সহ্য করে যাচ্ছেন। এরআগে ওই শিক্ষার্থীদের প্রতি মার্কশীটে দুই টাকা করে আদায় করেন। জব্বারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল করিম জানান, ২০১৪ সালে সমাপনী পরীক্ষায় মিঠাছড়া কেন্দ্রের হল সুপার গোপালপুর সরকারি প্রথামকি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল করিমকে কর্তব্য অবহেলার অভিযোগে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু চলতি সমাপনী পরীক্ষায় ওই শিক্ষককে একই কেন্দ্রে আবার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, চলতি সমাপনী পরীক্ষার অভিজ্ঞ শিক্ষকদের দায়িত্ব না দিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা নিজের ইচ্ছে মতো দায়িত্ব বন্টন করেছেন। দায়িত্ব বন্টনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলোচনা ও অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু এবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে কোন কিছুই তিনি জানাননি। আশরাফ উদ্দিন নামে এক শিক্ষক জানান, সমাপনী পরীক্ষার সময় কক্ষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব কোন বিদ্যালয় থেকে একাধিক শিক্ষককে দায়িত্ব দেয়া হয় আবার একান বিদ্যালয় থেকে একজনকেও দায়িত্ব দেয়া হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বদলি নীতিমালা অনুযায়ী একজন শিক্ষক নতুন কর্মস্থলে যোগদানের এক বছর আগে অন্য কোথাও বদলির নিয়ম নেই। কিন্তু শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমান টাকার বিনিময়ে ২০১৪ সালের ২৬ জুন মরগাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করা শিক্ষিকা সানজিদা সুলতানাকে গত ১ মার্চ দক্ষিণ ধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিয়ন কাম প্রহরী নিয়োগের ক্ষেত্রেও ব্যাপক বাণিজ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। মধ্য আজমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী অভিযোগ করেন, ক্লাষ্টার সচিব নামে কোন পদ না থাকলেও ওই পদ সৃষ্টি করে শিক্ষকদের সমন্বয় সভার জন্য সচিবের মাধ্যমে প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে এক’শ টাকা করে আদায় করেন শিক্ষা কর্মকর্তা। টাকা আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের কাজে সুবিধাবাদী কয়েকজন শিক্ষককে ব্যবহার করেন শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমান।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম জানান, ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে গোলাম রহমান মিরসরাইয়ে যোগদানের পর থেকে অনিয়ম চালিয়ে আসছেন। তাকে এ কাজে সহযোগীতা করে আসছেন সমিতির কিছু শিক্ষক নেতা। অনিয়মের প্রতিবাদ করার কারণে শিক্ষকদের তিনি বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে আসছেন। তাকে মিথ্যা অভিযোগ শোকজ করেছেন বলে দাবি করেন। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অনিয়ম দূর্নীতি এমন চরম পর্যায়ে পৌছেছে যে অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পর্যন্ত অভিযোগ জানাতে হয়েছে। এটা শিক্ষক সমাজের জন্য লজ্জাজনক।

মিরসরাই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমান প্রবেশপত্র, সার্টিফিকেট, মার্কশীটের কম্পিউটার প্রিন্টের জন্য টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করলেও অন্য কোন অনিয়ম তিনি করেননি জানিয়ে বলেন, কিছু শিক্ষকের অন্যায় অবদান রক্ষা করতে না পারার কারণে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা কিছু বদনাম রটাচ্ছেন। উপজেলা সম্বনয় সভার একজন চেয়ারম্যানও তার বিরুদ্ধে বিষাদাগার করেন। এতে তার কিছু আসে যায় না।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত