টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অসহযোগ আন্দোলনের হুমকি সন্তু লারমার

চট্টগ্রাম, ০২ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস):: পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে ১ জানুয়ারি থেকে তিন পার্বত্য জেলায় গণ-অসহযোগ আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা।

তিনি বলেন, এ গণ-অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে হরতাল, অবরোধ, অফিস-আদালত বর্জন, ছাত্র ধর্মঘট, পর্যটন বর্জন কর্মসূচি পালন করা হবে। সরকার পার্বত্য চুক্তিকে গলাটিপে হত্যা করার জন্য জুম্ম-স্বার্থ পরিপস্থী ষড়যন্ত্র করছে। তাই পার্বত্য চুক্তি উদ্দেশ্য-প্রণোদিতভাবে বাস্তবায়ন করছে না।

তিনি বলেন, সরকারের চুক্তি বাস্তবায়নে অসদিচ্ছা ও কায়েমী স্বার্থবাদীদের ষড়যন্ত্রের কারণে সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী গোষ্ঠী এবং উগ্র-জাতীয়তবাদী শক্তি তাদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। তাছাড়া পার্বত্যাঞ্চলে যেসব জুম্মজাতি চুক্তিবিরোধী দালাল তাদের চিহ্নিক করে প্রতিহিত করার নির্দেশও দেন সন্তু লারমা।

বুধবার সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৮ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে রাঙামাটি জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গনে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত গণ-সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসেবে সন্তু লারমা এ ঘোষণা দেন।

‘চুক্তিবিরোধী ও জুম্ম-স্বার্থ পরিপস্থী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করুন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চলমান অসহযোগ আন্দোলন জোরদার করুন’ স্লোগানে গণসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতি সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা সন্তু লারমা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কেন্দ্রীয় সদস্য সাধুরাম ত্রিপুরার সভাপতিত্বে গণ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সংসদ সদস্য ও ওর্য়াকস পার্টির সাধরাণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের সভাপতি গৌতম দেওয়ান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রাহমান নাসিম উদ্দিন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবিন্দ্রনাথ সরেন প্রমুখ।

এদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৮তম বর্ষপূর্তিতে উপলক্ষ্যে রাঙ্গামাটির জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গনে আয়োজিত গণ সমাবেশে তিন পার্বত্য জেলা থেকে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান থেকে হাজার হাজার উপজাতি নারী-পুরুষ যোগ দিতে এসে অবরোধ সৃষ্টি করে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক।

ফলে রাঙামাটি শহরের দুপাশের দুরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিপাকে পরে সাধারণ মানুষ। মোতায়ন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকারের পক্ষ্যে তৎকালীন চীপ হুইপ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা।

চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে তত্কালীন সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ শান্তিবাহিনীর দীর্ঘ প্রায় দুদশকের সংগ্রামের। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে শান্তিবাহিনীর সশস্ত্র আন্দোলনকারী সদস্যরা। পরিচয় লাভ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএস নামে।

মতামত