টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঘরের মাঠেও চিটাগাং ভাইকিংসের হার

চট্টগ্রাম, ৩০ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):: ঘরের মাঠে এসেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি চিটাগাং ভাইকিংস। ব্যর্থতার বৃত্তে আবদ্ধ দলটি বরিশাল বুলসের কাছে পরাজয় মানে ৩৩ রানে। অথচ ম্যাচের শুরুতে ৬৩ রানে বরিশালের সেরা পাঁচ ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে ম্যাচে দারুণ কিছুর আভাস দিচ্ছিল চিটাগাং ভাইকিংস। কিন্তু এরপর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পর বোলারদের দাপটে ম্যাচটি নিজেদের করে নেয় বরিশাল বুলস।

এই জয়ে সমান ৬ পয়েন্ট নিয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, ঢাকা ডায়নামাইটস এবং রংপুর রাইডার্সের কাতারে চলে আসলো বরিশাল বুলস। তবে রান রেট হিসেবে শীর্ষে রয়েছে যথারীতি মাশরাফির কুমিল্লা। আর পাঁচ ম্যাচে ১টি জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের পাঁচ নাম্বারেই রইল চিটাগাং ভাইকিংস।

বরিশাল বুলসের দেওয়া ১৭১ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই অধিনায়ক তামিমকে হারায় চিটাগাং ভাইকিংস। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকলে শেষ পর্যন্ত ১৩৭ রানে থামে চিটাগাংয়ের ইনিংস। তামিম, দিলশান, আকমল, বিজয়, চিগুম্বুরাদের মত বড় বড় নাম দলে থাকলেও ব্যাট হাতে নিষ্প্রভ থাকায় পাঁচ ম্যাচে চতুর্থ হারের স্বাদ পেতে হয় দলকে।

শেষদিকে নাঈম ইসলামের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সঙ্গে মো. আমিরের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়তে পারলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিলনা। এই দুই ব্যাটসম্যানের ৪৫ রানের জুটি কেবল পরাজয়ের ব্যবধান কমাতে পেরেছে। একই সঙ্গে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে তামিম ইকবালের অধিনায়কত্ব। বোলিংয়ে আমির, আজমল, তাসকিন, শফিউলদের মত বড় বড় নাম থাকলেও তার সঠিক ব্যবহার করতে না পারায় ধুকতে হচ্ছে দলকে।

এক প্রান্তে দারুণ ব্যাটিং করে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন নাঈম ইসলাম। ৪০ বল মোকাবেলা করে ৩টি চারের সাহায্যে এই রান করেন এই অলরাউন্ডার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান আসে আমিরের ব্যাট থেকে। ১২ বলে ২টি ছক্কায় ২০ রান করেন এই পাকিস্তানি।

বরিশালের পক্ষে ২৮ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নিয়ে সেরা বোলার। আল-আমিন হোসেন ৩৪ রানে ২টি উইকেট পান। এছাড়া সামি এবং তাইজুল ১টি করে উইকেট নেন।

সোমবার চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বরিশাল। মাত্র ১২ রানেই প্রথম সারির তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ধাক্কা খায় দলটি। তবে চতুর্থ উইকেট জুটিতে তরুণ মেহেদী মারুফকে নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে নেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। দলের পক্ষে ৪০ রান যোগ করেন এই দুই ব্যাটসম্যান।

দলে সুযোগ পেয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন মারুফ। ২৫ বলে ১টি চার এবং ২টি ছক্কায় ২৮ রান করেন এই তরুণ। তবে দলীয় ৫২ রানে মারুফ এবং ৬৩ রানে নাদিফের বিদায়ে আবার চাপে পড়ে বরিশাল। এবার শ্রীলঙ্কান সেকুগে প্রসন্নকে নিয়ে দলের ত্রাণকর্তা হয়ে আসেন সেই মাহমুদউল্লাহ। এই দুই ব্যাটসম্যান দলের হয়ে মূল্যবান ৬৩ রান যোগ করে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যায় দলকে।

দলীয় ১২৪ রানে প্রসন্নর বিদায়ের পর শেষদিকে কেভিন কুপারের ঝড়ে শেষ পর্যন্ত ১৭০ রানের সংগ্রহ পায় বরিশাল। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ৪৫ বলে ৩টি চার এবং ১টি ছক্কার সাহায্যে এই রান করেন এই ব্যাটসম্যান।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান আসে সেকুগে প্রসন্নর ব্যাট থেকে। ২০ বলে ১টি চার এবং ৪টি ছক্কায় ৩৬ রান করেন এই লঙ্কান। শেষদিকে মাত্র ১১ বলে ২টি ছক্কার সাহায্যে ২১ রান করেন কুপার।

চট্টগ্রামের পক্ষে ২০ রান দিয়ে দুই উইকেট নিয়ে সেরা বোলার মো. আমির। জিয়াউর রহামান ২৪ রান দিয়ে দুটি উইকেট পান। এছাড়া শফিউল, চিগুম্বুরা এবং দিলশান ১টি করে উইকেট নেন।

মতামত