টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পাহাড়ে ঘন কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা

এস.এম ইসমাইল হাসান
আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি

Ak-Winter-news.pcচট্টগ্রাম, ৩০ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস)::  শীতের আগমনী ধ্বণী বাজছে পাহাড়ের গায়ে। যদিও খেজুর রস আর পিঠাপুলির মাতামাতি পাহাড়ে তেমনটা নেই, তবুও শীতের চাদর মুড়ি দিয়ে পাহাড়ের খড়কুটো পুড়িয়ে আগুন পোহানোর চিত্র এখানকার মানুষের চিরচেনা। প্রকৃতির অধম্য নিয়ম মানতে গিয়ে বছর ঘুরে ফের দেখা মিলেছে পঞ্চম ঋতু শীতের। দেশের অন্যান্য এলাকা থেকে পাহাড়ি এলকার চিত্র স্বাভাবতই একটু ভিন্ন। তার উপর শীত আসলে ভিন্নতার মাত্র বেড়ে চলে যায় বিপরীত মেরুতে। এ যেন দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা। কুয়াশার দুর্ভেদ্য পর্দা চিরতে চিরতে সূর্যী মামার কখনো বারটা আবার কাখনোবা সারা দিনেও সম্ভাবনা সম্ভাবনায়ই থেকে যায়।

পৌষ মাঘ দুই মাস শীত কাল হলেও শীতের সূচনাটা হয় আরো আগে। শরতের মাঝামাঝি থেকে শীত শুরু হয় বেশির ভাগ সময়। তবে এবছরের বিষয়টাতে রয়েছে একটু ভিন্নতা। টানা বর্ষন না হলেও মাঝে মধ্যে আকাশে মেঘের ঘনগটা কিংবা এক আধ ফোটা বৃষ্টি ঝরা। যার কারণে শীত আসি আসি বলেও যেন মাঝ পথে এসে থমকে দাড়ানোর চিরচেনা অভ্যেস। স্বাভাবিকভাবে আকাশে মেঘ করলে শীতের প্রকোপ কমে যায়। আর এবছরতো কদিন পর পর থেমে থেমেই ঝরেছে বৃষ্টি। কিন্তু বৃষ্টির ঘোর কাটতে কাটতে পাহাড়ে ঝেঁকে বসেছে শীত। সমতলের চেয়ে পাহাড়ে অনেক আগেই শীতের আগমন ঘটে থাকে এবং সমতলের চেয়ে পাহাড়ে শীতের প্রকোপটাও থাকে বেশি। অগ্রহায়ন মাসের শুরুর দিক থেকে বাড়তে শুরু করেছে শীতের প্রকোপ।

অন্যদিকে শীতে কারো পৌষ মাস হলেও এক শ্রেণীর মানুষের সর্বনাষ ও হয়ে থাকে। আর তাই চিন্তায় পড়েছে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার হতদরিদ্র মানুষগুলো। শীতের আগমন উপলক্ষে শহরের দোকানগুলোতে শোভা পাচ্ছে দেশী-বিদেশী গরম কাপড়। ফুটপাত ও বাদ যায়না। রাস্তার ধারে ফুটপাতে শীতের বাহারি পোষাকের ডালা সাজিয়ে বসে নি¤œ ও মধ্যমানের ব্যবসায়ীরা। কিন্তু কজনের সামর্থে কুলায় সেসব বাহারী পোষাক কেনার। সেই চির চেনা আদী সংস্কৃতি! লতাপাতা কুড়িয়ে কজন মিলে বসে আগুন পোহানোই পাহাড়ের বড় এক অংশ মানুষের ললাটের লিখন।

উপজেলার অধিকাংশ মানুষ নিম্ম আয়ের হওয়ায় তাদের এক মাত্র ভরসা বিদেশী পুরানো গরম কাপড়। বাজার ঘুরে দেখা যায় উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলের বসবাসরত পাহাড়ীরা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষ পত্র ক্রয়ের সাথে সাথে যুক্ত হয়েছে শীত পোষাক কেনা। ঝুঁকছে ফুটপাতের কাপড়ের দোকান গুলোর দিকে। যেখানে কিনা দেশীয় এবং বিদেশী পুরাতন শীত পোষাকে মেলা বসেছে। নিম্ম আয়ের মানুষগুলো শীত নিবারণ করতে কাপড় ক্রয়ের উদ্দ্যেশ্য ঘিরে ধরেছে সেই দোকানিদেরকে। এছাড়াও শীতের আগমনে অধিকাংশ দোকানগুলোতে নতুন তৈরী পোষাকের পাশাপাশি বিদেশী পুরানো কাপড়ও শোভা পাচ্ছে বিশাল অংশ। নতুন গরম কাপড়ের চেয়ে অনেক সস্তায় মেলে বলে পুরানো কাপড়ের ক্রেতার সংখ্যাও চোখে পড়ার মত। আর বিদেশী পুরানো কাপড়ের সবচেয়ে বেশী গ্রাহক হচ্ছে নিম্ম আয়ের মানুষ। তাদের এক মাত্র ভরসা বিদেশী পুরানো কাপড়।

জেলা শহরের চেয়ে দুর্গম এলাকায় শীতের প্রকোপ আরো বেশী। দুর্গম এলাকার মানুষ নিম্ম আয়ের হওয়ায় এদের কাছে পুরানো কাপড়ই একমাত্র ভরসা। পরিবারের কর্তা বাজার করতে আসায় তারা পরিবারের ছোট-বড় সকল সদস্যদের জন্য নন্যুতম একটি করে গরম কাপড় ক্রয় করতে দেখা যায়। গায়ের গরম কাপড়ের পাশাপশি পুরানো কম্বল, বেড়শীট, ছোট ছেলে মেয়েদের হরেক রকম কাপড়ও দেখা যায়। পুরানো কাপড়েরর মধ্য রয়েছে পুরুষের ও ছেলেদের জেকেট, জিন্স শার্ট-প্যান্ট, গরম কম্বল, ছোট শিশু ও ছেলেমেয়েদের হরেক রকমের কাপড়।

কথা বলতে গেলে কয়েকজন কাপড় বিক্রেতা জানান, প্রতি বছর শীতের মৌসুমে বিদেশী পুরানো কাপড়ের কদর বেশী থাকেলেও চলতি বছরে আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে শীতের প্রাদুর্ভাব খুবই কম। তাই মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র ক্রয়ের হিড়িকটাও অন্যান্য বছরের তুলনায় নেই বললেই চলে। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে বেচাকেনা কম হলে পোষানো যায় না। প্রতি বছর বাজার বারে কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা বিক্রয় হত। কিন্তু এবছর ২ হাজার টাকা বিক্রয় করতেও হিমসিম খেতে হচ্ছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত