টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

তুরস্কের বিরুদ্ধে রাশিয়ার অবরোধের তাৎপর্য কী

চট্টগ্রাম, ২৯ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):: রাশিয়ার জঙ্গিবিমান ভূপাতিত করার পর মস্কো তুরস্কের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

শনিবার এক সংক্রান্ত একটি ডিক্রি জারি করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

দৃশ্যত রাশিয়ার লৌহমানব এক্ষেত্রে তুরস্কের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দিকেই যাচ্ছেন। কিন্তু তুরস্কের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে রাশিয়ার কোনো লাভ হবে কী?

সিএনএনে ইভানা কোটাসোভা লিখেছেন, চারটি কারণে রাশিয়া ও তুরস্কের অর্থনৈতিক যুদ্ধে কারোই লাভ হবে না।

রাশিয়া অনেকটাই একঘরে
ইউক্রেন সংকটকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়া এখন অনেকটাই একঘরে। তার বাণিজ্যিক বন্ধুর সংখ্যাও বেশি নয়। তুরস্ক এমন একটি দেশ যার ওপর রাশিয়া নির্ভর করতে পারে।

ইউক্রেন সংকট নিয়ে ইউরোপ ও আমেরিকা রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করলেও তুরস্ক তাতে যোগ দেয়নি। ন্যাটোর সদস্য তুরস্ক বরং রাশিয়ার সাথে ২০২০ সালের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ তিনগুণ বাড়িয়ে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছিল।

রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবরোধে এই পরিকল্পনা ভণ্ডুল হয়ে যেতে পারে।

২. কৌশলগত জ্বালানি সংযোগ
মাত্র বছরখানেক আগে দুটি দেশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক জ্বালানি চুক্তি করেছে। এর মধ্যে প্রধান ছিল তার্কিশ স্ট্রিম প্রজেক্ট-যার মাধ্যমে পাইপলাইনে রাশিয়ার জ্বালানি তুরস্কে এনে তুরস্ক এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে সরবরাহ করা হবে।

এর আগে এই প্রকল্পটি ছিল ইউক্রেন হয়ে। কিন্তু গত বছর সেই চুক্তি বাতিল করে রাশিয়া।

জার্মানির পরই তুরস্ক হলো রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা।

এছাড়া তুরস্কের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে রাশিয়া। গত এপ্রিলে এর নির্মাণ শুরু হয়েছে এবং ২০২০ সাল নাগাদ শেষ হবে। ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে ২২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়সাপেক্ষ প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করবে রাশিয়া এবং রাশিয়াই এটি পরিচালনা করবে।

অর্থনৈতিক অবরোধে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

৩. পর্যটকের আনাগোনা
তুরস্কের পর্যটন শিল্পের জন্য রাশিয়ার পর্যটক গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৪ সালে ৪৫ লাখ রাশিয়ান তুরস্ক ভ্রমণ করেন। তুরস্কের মোট পর্যটকের ১২ ভাগই রাশিয়ান। জার্মানির পরেই রাশিয়ার অবস্থান।

কিন্তু রাশিয়ার জঙ্গিবিমান ভূপাতিত করার পরই রাশিয়ার ট্রাভেল এজেন্টগুলো তুরস্কে ট্যুর বন্ধ করে দিয়েছে। মিশরের শার্ম এল শেখে রাশিয়ার বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর তুরস্কে রাশিয়ার পর্যটক বাড়বে বলে আশা করা হয়েছিল। এখন তার সম্ভাবনা কমে গেল।

৪. উভয় দেশই অর্থনৈতিক চাপে
বর্তমানে দুটি দেশই অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। আরেকটি অবরোধ তাদের জন্য ভীষণ ক্ষতির কারণ হবে।

তেলের দাম হ্রাস এবং পশ্চিমা অবরোধে চলতি বছর রাশিয়ার জিডিপি ৩.৮ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।

তুরস্কও চাপে আছে। এবার দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩.১ শতাংশ, যা ২০১০ সালে ছিল ৯ শতাংশ।

গত জুনের সংসদ নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ডলারের বিপরীতে তুরস্কের লিরার দাম ২০ ভাগ কমে যায়। ফলে তুরস্কের যে স্বল্পমেয়াদী ১২৫ বিলিয়ন বৈদেশিক ঋণ আছে তা পরিশোধ করা আরো ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত