টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সোমবার খালেদার আত্মসমর্পণ

চট্টগ্রাম, ২৯ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):: নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আগামীকাল সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন। 

ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ মো. আমিনুল ইসলামের আদালতে মামলাটিতে তিনি এই আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া।

প্রসঙ্গত, চলতি বছর ১৮ জুন এই মামলাসংক্রান্তে রিটের রুল খারিজ করে বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি জাফর আহমদ নিম্ন আদালতে আদেশ পৌঁছানোর দুই মাসের মধ্যে খালেদা জিয়াকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

হাইকোর্টের এ রায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর নিম্ন আদালতে পৌঁছালে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ মো. আমিনুল ইসলাম ৩০ নভেম্বর খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে শুনানির দিন ধার্য করেন।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাটির তদন্তের পর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটের বৈধতা চ্যলেঞ্জ করে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে ২০০৮ সালের ৯ জুলাই হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন। চলতি বছর ১৮ জুন হাইকোর্ট রুল ডিচার্জ করে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, হাইকোটের্র আত্মসমর্পণের আদেশে নিম্ন আদালতকে খালেদা জিয়া যেহেতু জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেন নাই তাই তাকে জামিন দেওয়া যেতে পারে বলে অবজারভেশন রয়েছে। তবে ৩০ নভেম্বর তিনি আদালতে হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে ওইদিন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে।

উল্লেখ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে ‘তুলে দেওয়ার’ অভিযোগে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগে মামলাটি করা হয়। মামলাটিতে ২০০৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এ মামলায় জামিন পান খালেদা।

নাইকোকে কাজ দিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি করার অভিযোগে খালেদার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও একই দিনে আরেকটি মামলা করেছিল দুদক।

আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর ২০১০ সালের মার্চে হাইকোর্ট ওই মামলা বাতিল করে দেয়।

মামলাটিতে খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলার বাকি আসামিরা হলেন- চারদলীয় জোট সরকারের আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একে এম মোশাররফ হোসেন, তখনকার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া (সিলভার সেলিম) এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

মতামত