টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফেসবুক-ভাইবার বন্ধ: মোবাইল অপারেটরদের পোয়াবারো!

চট্টগ্রাম, ২৭ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):: সরকার নিরাপত্তার স্বার্থে দেশে ফেসবুকসহ জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়াগুলো বন্ধ থাকায় এখন পোয়াবারো মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর! সোশ্যাল মিডিয়া-মোবাইল অপারেটরদের মতে, ফেসবুক, ভাইবার, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, লাইন ও ট্যাঙ্গো থাকায় ইন্টারনেট ডাটা বিক্রি কমেছে সত্য। কিন্তু মোবাইলে এসএমএস, স্থানীয় মোবাইল কল ও আন্তর্জাতিক ইনকামিং কল বেড়ে গেছে। ফলে ইন্টারনেট ডাটা বিক্রিতে ভাটা দেখা গেলেও সব মিলিয়ে তাদের রাজস্ব বেশিই হবে। মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ফেসবুক, ভাইবার, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, লাইন, ট্যাঙ্গো ও হ্যাংআউটের মতো সেবাগুলো বন্ধ থাকায় মোবাইল অপারেটরগুলোর ফেসবুক প্যাকেজসহ (ফেসবুক লাইট) অন্যান্য ইন্টারনেট প্যাকেজ (বিশেষ করে মিনিপ্যাক) বিক্রি কমে গেছে। এ কারণে মোটাদাগে মোবাইল অপারেটরগুলোর ইন্টারনেট ডাটা বিক্রির তথ্যগুলোই আলোচনায় উঠে আসছে।

সূত্রের দাবি, অপারেটরগুলোর এসএমএস, স্থানীয় মোবাইল কল ও আন্তর্জাতিক ইনকামিং কল বেড়ে গেলেও সেগুলো নিয়ে কোনও আলোচনা হচ্ছে না। অথচ, এই তিনটি সেবা-ই অপারেটরগুলোর রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ নভেম্বর দুপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এরপর জামায়াত বৃহস্পতিবার হরতাল আহ্বান করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায়’ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সোশ্যাল মিডিয়াগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা—বিটিআরসি। অবশ্যই, এর আগেই বেলা ১১টার দিকে বিটিআরসি প্রথম দফায় ফেসবুক, ভাইবার, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধের নির্দেশনা দেয়। পরবর্তী সময়ে লাইন, ট্যাঙ্গো ও হ্যাংআউট বন্ধেরও নির্দেশনা আসে। এক পর্যায়ে ইন্টারনেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে দেড় ঘণ্টা ইন্টারনেট সংযোগ ছিল না সারাদেশে। যদিও সরকার দাবি করে, ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়নি। ‘কারিগরি ত্রুটির’ কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়।

গত ১০ দিন ফেসবুকসহ অন্যান্য অ্যাপ বন্ধ থাকায় ইন্টারনেট ডাটা ব্যবহার মোবাইল ইন্টারনেটে ৩০ শতাংশের বেশি কমেছে বলে দাবি করছে অপারেটরগুলো। যদিও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএপিএবি বলছে, ইন্টারনেট ডাটার ব্যবহার কমেছে ৫০ শতাংশের বেশি।

জানা যায়, ফেসবুকে প্রবেশের স্বাভাবিক পথ বন্ধ থাকায় মোট ব্যবহৃত (প্রায় ১৩৭ গিগা) ব্যান্ডউইথের প্রায় ৪০ শতাংশ অব্যবহৃত থাকছে। বন্ধের মেয়াদ বাড়লে এ হারও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।

দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইলফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স সৈয়দ তালাত কামাল জানান, ফেসবুকসহ কয়েকটি অ্যাপস বন্ধের প্রথম তিনদিন আমাদের এসএমএস (শর্ট মেসেজ সার্ভিস) বেড়ে গিয়েছিল। পরে তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। স্থানীয় কল ও আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলও স্বাভা্বিক আছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, ইন্টারনেট ডাটা বিক্রি হ্রাস পেয়েছে। তবে কী পরিমাণ এসএমএস বেড়ে গিয়েছিল এবং কী পরিমাণ ইন্টারনেট ডাটা বিক্রি কমে গেছে, তা তিনি বলেননি।

এ প্রসঙ্গে মোবাইল অপারেটর রবির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি উদ্ধৃত হয়ে কথা বলতে চাননি। তবে তিনি জানান, এ সব বন্ধ থাকার ফলে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক কল যে বেড়েছে, তা তো সহজেই অনুমেয়। তবে কী পরিমাণ তা বলতে তিনি রাজি হননি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, ইন্টারনেট ডাটা বিক্রি অনেক কমে গেছে।

আরেক মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ইন্টারনেট ডাটা বিক্রি কমে যাওয়ার কথা বললেও এসএমএস, স্থানীয় কল এবং আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের বিষয়ে কিছু বলতে চাননি।

তবে ফেসবুক, ভাইবার, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, লাইন, ট্যাঙ্গো ও হ্যাংআউট বন্ধ থাকায় মোবাইল অপারেটরগুলোর এসএমএস, স্থানীয় কল এবং আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলে কী পরিমাণ রাজস্ব বেড়েছে, তা জানা যাবে চলতি মাস শেষে বলে জানিয়েছেন অপারেটরগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা।- বাংলা ট্রিবিউন

মতামত