টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সীতাকুণ্ডে যেনতেন নিয়মেই চলছে প্রাইভেট হাসপাতালগুলো

মো. ইমরান হোসেন
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ২৭ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস)::  প্রশাসনের নজরধারীর অভাবে সীতাকুণ্ডে প্রাইভেট হাসপাতাল চলছে যেনতেন নিয়মে। হাতের নাগালে সরকারী হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও প্রাইভেট হাসপাতালের দিকে ঝুকছে সাধারন মানুষ। এরপরও টাকা ব্যায়ে সেবা নিতে এসে ধোকা খাচ্ছে সাধারণ মানুষ প্রাইভেট হাসপাতালে।

পৌরসদরে অবস্থিত ৩ টিসহ মোট ৫ টি বেসরকারী হাসপাতালে গড়ে উঠেছে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এসব প্রতিষ্ঠানে সমব সময় রোগীদের ভীড় থাকে চোখে পড়ার মত। প্রতিদিন ডায়াবেটিস,গাইনি,হার্ট ও র্দুঘটনায় আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে আসে হাসপাতালগুলোতে। সু-চিকিৎসার নামে হাসপাতাল সমূহ পরিচালিত হলেও চলছে দুর্বল সেবা মান নিয়ে। ফলে সেবা না পেলেও ঘন্টা প্রতি গুনতে হয় মোটা অংকের টাকা। আর ভর্তি রোগী হলেতো কথায় নেই ৪/৫ দিনে গুনতে হবে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১’শ সিটের কেবিন ও জেনারেল বেড দিয়ে ২/৩ তলা বিশিষ্ট হাসপাতালগুলো গড়ে উঠেছে মহাসড়কের পাশ জুড়ে। রোগীর কেবিন মূল্য ৪’শ-৫’শ,সাধারন সিট ২’শ-২৫০’শ টাকা মূল্য তালিকা দেয়া হলেও রাখা হয়নি যথাযথ ব্যবস্থা। সার্বক্ষনিক চিকিৎসা নিয়োজিত থাকে ১/২জন এম বি বি এস ডাক্তার। আর এরাই হলো সর্ব রোগের একমাত্র চিকিৎসক। যোগ্যতা সম্পন্ন ডাক্তার না হলেও হার্ট, ডায়াবেটিস, গাইনজনিত রোগসহ কঠিন রোগের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন নিন্মমানের এসব ডাক্তাররা। ডায়াগনষ্টিকে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত টেকনেশিয়ানের অভাবে পরিক্ষা-নিরিক্ষায় দেয়াা হয় ভূলবাল রির্পোট। জরুরী মুহুর্তে এ্যাম্বোলেন্স রাখা বাধ্যতামূলক হলেও ভাড়া গাড়িতে চলে রোগী প্রেরন।

ভোক্তভোগী ইকবাল হোসেন বলেন, ডেলিভারী চিকিৎসায় বোনকে ভর্তি করানো হয় পৌরসদর ন্যাশনাল হাসপাতালে। রোগী ভর্তি পরপরই জানানো হয় রোগীকে সিজার করাতে হবে নয়তো রোগী বাচবে না। উপায়ন্তু না পেয়ে তাদের কথা মতে সিজার অপারেশন করিয়ে ৪ দিন থাকতে হয় হাসপাতালে। পর্যাপ্ত সেবাতো পেলাম না কিন্তু রিলিজের সময় গুনতে হয়েছে ২৫ হাজার টাকা।

সব রকমের অনিয়ম সত্ত্বেও হাসপাতালগুলো তদারকির প্রয়োজন মনে করছে না সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। অথচ স্থানীয় স্বাস্থ্যখাতগুলো দেখার জন্য রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকতার কার্যালয়।

বাংলাদেশের কোনো প্রাইভেট হাসপাতাল সঠিক নিয়ম-কানুন মেনে পরিচালনা করা সম্ভব না বলে মন্তব্য করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.এসএম আবদুল মোমেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, কোন কোন হাসপাতালে লাইসেন্স আছে তা জানা নেই। তিনি আরো বলেন, নিয়মবর্হিবুত পরিচালিত হাসপাতাল সমূহের বিরুদ্ধে যেকোন সময় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

মতামত