টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

শর্তসাপেক্ষে পৌর নির্বাচনে যাচ্ছে বিএনপি জোট

চট্টগ্রাম, ২৭ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস): নির্বাচন ১৫ দিন পিছিয়ে দেওয়াসহ কয়েকটি শর্তে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট।

শুক্রবার নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন জোটের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

বিএনপি জোটের শর্তের মধ্যে রয়েছে- ১৫ দিন পিছিয়ে নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষণা করা, গ্রেপ্তার দলীয় নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করা।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন রেখে ইতোমধ্যে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুসারে, আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই ৫ ও ৬ ডিসেম্বর এবং প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন ১৩ ডিসেম্বর।

আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘সরকারিভাবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে এমনিতেই জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। এরপরও জনগণ যখন কিছুটা ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়, সরকার তাদের ভোটের মর্যাদাকে ভুলুণ্ঠিত করে, অধিকার অস্বীকার করে।’

তিনি বলেন, ‘তারপরেও বিএনপি বিদ্যমান প্রেক্ষাপটকে আমলে নিয়ে শুধুমাত্র গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করা এবং জনগণের ভোটাধিকার আকাঙ্ক্ষাকে পূরণ করার জন্য শর্তসাপেক্ষে এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘দলের সিনিয়র নেতা ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত বিশ্লেষণ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বৃহস্পতিবার রাতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের বিবেচনার জন্য দলের পক্ষ থেকে কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।

বিএনপির এই মুখপাত্র নির্বাচনের সময়সীমা ৩০ ডিসেম্বর থেকে আরো ১৫ দিন পেছানোর শর্ত দেন। সেই সঙ্গে পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবি জানান।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ২ জানুয়ারি থেকে নতুন ৫০ লাখ তরুণ ভোটার তালিকাভুক্ত হবেন। তার তিন দিন আগে অর্থাৎ ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় নতুন ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন না। এছাড়া নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা থেকে মনোনয়ন দেওয়া পর্যন্ত ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়কে অপ্রতুল মনে করে বিএনপি। যৌক্তিক কারণে এ সময় বাড়ানো প্রয়োজন।

আসাদুজ্জামান রিপন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য কোনো ভুঁইফোড় সংগঠনকে কার্ড না দেওয়ারও দাবি জানান।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে এক জায়গা থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। এতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সরকারদলীয় ক্যাডাররা হুমকি দিচ্ছেন। অনেক জায়গায় পাহারা বসানো হয়েছে। তাই একাধিক জায়গা থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার বিধান রাখার অনুরোধ করছি।

জনমত গঠন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম খুলে দেওয়ারও দাবি জানান আসাদুজ্জামান রিপন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। কমিশনের জনবল থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। পৌর এলাকায় সরকারদলীয় এমপি ও নেতাদের অনুরোধে ইউএনও ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব এলাকায় ওসি ও ইউএনওদের রদবদল করতে হবে।

রিপন বলেন, বিএনপি মনে করে, সরকার জনগণকে কতটা তোয়াক্কা করে এই নির্বাচনে তার পরীক্ষা হবে।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বৈঠকে পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট।

গুলশান কার্যালয়ে রাত নয়টার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এই বৈঠক শুরু হয়। এতে জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন জানিয়েছিলেন, ‘আমরা শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানাব নির্বাচনে যাচ্ছি কি না।’

তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনে গেলে শরিকরা ধানের শীষ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে কিনা, তার আইনি ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারপাম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এএস এম আবদুল হালিম, সংগঠনিক সম্পাদক হারুন আর রশিদ, সহ-আইন বিষয়য়ক সম্পাদক অ্যাভভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করিম শাহীন, সহ-স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, নিবার্হী কমিটির সদস্য শাম্মী আক্তার, তকদির হোসেন জসিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ।

মতামত