টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সিআরবিতে জোড়া খুন: অধিকতর তদন্তের নির্দেশ

চট্টগ্রাম, ২৬  নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):: নগরীর সিআরবিতে ২০১৩ সালের ২৪ জুন সংঘটিত জোড়া খুনের মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দিয়ে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম নওরীন আক্তার কাকন এ আদেশ দেন।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী মুত্তাকিন ইবনু মিনান  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এরআগে গত সোমবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক আতিক আহমেদ চৌধুরী চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআর শাখায় অভিযোগপত্রটি জমা দেন। নানা রাজনৈতিক চাপ আর নাটকীয়তায় ঘটনার ২৮ মাস পর তিনবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের পর এ অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল ডিবি।

সিআরবিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শিশুসহ দু’জন নিহতের ঘটনায় যুবলীগের কেন্দ্রিয় উপ অর্থ সম্পাদক নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবব ও বহিস্কৃত ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমনসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৬২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিল ডিবি। অভিযোগপত্রে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু,নগর যুবলীগ নেতা খোকন চন্দ্র তাতীকেও অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

অভিযোগপত্র গ্রহণের ওপর শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম নওরীন আক্তার কাকন ডিবির দাখিল করা অভিযোগপত্রটি গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্ত করে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৪ জুন সিআরবিতে এক কোটি ১০ লাখ টাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বাবর ও লিমনের অনুসারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে যুবলীগের কর্মী সাজু পালিত (২৮) ও শিশু আরমান (৮) নিহত হয়। এঘটনায় আদালতে জমা দেয়া মামলার অভিযোগপত্রে বাবর ও লিমনসহ মোট ৬২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সাক্ষী রাখা হয়েছে ৪০জনকে। যদিও সংঘর্ষের ঘটনায় কোতোয়ালি থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মহিবুর রহমান বাদী হয়ে বাবর-লিমনসহ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করে নগরের কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন। পরে নিহত সাজু পালিতের মা মিনতি পালিত বাদী হয়ে অজিত বিশ্বাসকে আসামি করে আদালতে অপর একটি হত্যা মামলা করেন।

তবে অভিযোগপত্রে বাবর-লিমনসহ ৬২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দিলেও মোট ২৬ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আবার এজাহারে না থাকলেও শাহ আলম নামে একজনে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে সাইফুল আলম লিমনকে এক নম্বর, লিমনের অনুসারি চবি ছাত্রলীগ সভাপতি আলমগীর টিপুকে সাত নম্বর ও অপর অভিযুক্ত হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরকে ৩৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রভুক্ত ৬২ আসামির মধ্যে পলাতক রয়েছেন ১২ জন। গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে রয়েছেন ৪৮ জন। বর্তমানে কারাগারে আটক আছেন আসামি অমিত মুহুরী ও শিমুল প্রসাদ। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা যায়নি।

ডিবির তদন্তে উঠে এসেছে, রেলের ১ কোটি ১০ লাখ টাকার দরপত্র নিয়ে বাবর ও লিমনের অনুসারীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার করা নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনার পর পৌনে দুই বছর মামলাটির তদন্ত করেন কোতোয়ালি থানার সাবেক উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান। গত এপ্রিল মাসে এটি তদন্তের জন্য নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে পাঠানো হয়। প্রথমে নগর ডিবির সাবেক পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম তদন্ত করেন। সর্বশেষ তদন্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন ডিবির পরিদর্শক আতিক চৌধুরী।

হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী আর সাইফুল আলম লিমন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত । জোড়া খুনের পর বাবর গ্রেপ্তার হলে তাকে যুবলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য পদ থেকে এবং লিমন গ্রেপ্তার হলে তাকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সহ সম্পাদকের পদ থেকে বহিস্কার করে নিজ নিজ সংগঠনের কেন্দ্রিয় কমিটি। লিমন আর স্বপদে ফিরতে না পারলেও কিন্তু বাবর এক বছরের মধ্যে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদোন্নতি পেয়ে উপ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হন।

এদিকে এই মামলার প্রধান আসামি সাইফুল আলম লিমনকে গতকাল অস্ত্র-গুলিসও তিন সহযেযাগীসহ গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

মতামত