টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাউজানে ৫০ এর অধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি

Raozan-ocched-picচট্টগ্রাম, ২৫  নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনীতে ৫০ টির অধিক অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে।

আজ ২৫ নভেম্বর সকাল ৯টা হতে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত চট্টগ্রাম ডিসি অফিসের এক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এর পূর্বে এসব অবৈধ দোকানপাটের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিগত বছরখানেক পূর্বে থেকে এসব অবৈধ দোকানের মালিককে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বেশ কয়েকবার নোর্টিস দেওয়া হয় বলে জানাগেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কুল প্রদীপ চাকমা বলেন, জেলা প্রশাসকের কর্মকর্তা আমিরুল কাইছারের নেতৃত্বে এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সরকারী জায়গা দখল করে গড়ে উঠা এসব অবৈধ দোকানপাটের কারণে পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে দীর্ঘস্থায়ী যানজট লেগে থাকত। যার কারণে এই পথে যাতায়তকারী হাজার হাজার যাত্রীসহ নানা লোকজনকে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হত। এ অঞ্চলের যাত্রীসাধারণের দূর্ভোগ লাগবে স্থানীয় সাংসদ রেলপথ মন্ত্রাণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ফজলে করিম চৌধুরীর এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহন করেন বলে জানান স্থানীয়রা।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অবৈধ দোকানপাটসহ নানা স্থাপনা উচ্ছেদ করার সরকারী বিধিনিষেধ তোয়াক্কা না করে একবছরের মধ্যে আবার গড়ে ওঠে এসব স্থাপনা।

এসব দোকানপাটের মধ্যে ছিল ফুলকলির মিষ্টি, ফুলেল মিষ্টি দোকান থেকে শুরু করে সিরামিক ও সিলভার, ফল, কুলিং কর্ণার, স্টেশনারী, পানের দোকান, চায়ের দোকান, জুতার দোকান, মাংসের দোকান, ফাস্ট সিকিউরিটি ব্যাংক ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ, একটি দ্বিতল ভবনসহ প্রায় ৫০টিরও আধক দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। অনেক ব্যবসায়ী তাদের মালামাল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই দোকানের মালামাল সরাতে না পারায় অনেক মালপত্র বিনিষ্ট হয়েছেন। এসব দোকানের অধিকাংশ ব্যবসায়ী স্থানীয় প্রভাবশালী দখলদারদের কাছ থেকে সেলামী বা ভাড়ায় নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এই উচ্ছেদের কারনে অনেক ব্যবসায়ীর পরিবারের উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম হারিয়ে। অনেকের অবস্থা পথে বসার মত। এদের মধ্যে স্টেশনারী ও কুলিং কর্ণার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মুবিন জনান, একবছর পূর্বে চৌদ্দ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তার দোকানটি এক দখলদারের কাছ থেকে ক্রয় করেছিল। এটাই তার এবং তার পরিবারের একমাত্র উপার্জন স্থল। এটি হারিয়ে সে এখন কি করবে বুঝতে পাড়ছে না। আশীষ নামের এক ব্যবসায়ী জানান, মাত্র কয়েক সপ্তাহ পূর্বে টেলিকমের ব্যবসা পরিচালনার জন্য দেড় লক্ষ সেলামী দিয়ে দোকান নিয়েছি, যা আজই উদ্ভোধন করার কথা ছিল।

স্থানীয় মমতাজ নামের এক ব্যবসায়ী জানান, এই উচ্ছেদ অভিযানে গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর সাময়িক অসুবিধা হলেও হাজার হাজার মানুষ এর সুফল ভোগ করবে। তবে এসব জায়গা যাতে পুনরায় দখল নাহয় এব্যাপরে স্থানীয় প্রসশাসনকে তদারিক করতে হব্।

এই উচ্ছেদ অভিযানের সময় পাহাড়তলী ইউনিয়ন চেয়াম্যান মো. রুকন উদ্দিন, কদলপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহেদ উদ্দিন লিংকন উপস্থিত ছিলেন।

মতামত