টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সন্ত্রাস বন্ধে ঐকমত্যে বাংলাদেশ-ভারত

BD-INDIAচট্টগ্রাম, ২৫ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):: বাংলাদেশ-ভারত অমীমাংসিত বিষয় সমাধানে আন্তরিক হয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দুই দেশের জেলা প্রশাসক সমন্বয়ে গঠিত প্রতিনিধি দল।

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস মিলনায়তনে বুধবার ভারতের মিজোরাম রাজ্য এবং বাংলাদেশের দুই পার্বত্য জেলা প্রশাসকদের সমম্বয়ে গঠিত প্রতিনিধি দলের সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

একই সঙ্গে সীমান্তে হত্যা, অপহরণ, চোরচালানসহ সীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধে ঐকমত্যে পৌঁছান দু’দেশের প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া বৈঠকে দু’দেশের জেলা প্রশাসক পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মো. সামশুল আরেফিন। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন আশিষ মাদাহারু মুরে।

এর আগে সকালে সীমান্ত সম্মেলনের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ। সভায় বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত এলাকায় অবৈধ প্রবেশ ঠেকানো, যৌথ সীমান্ত জরিপকাজ পরিচালনা, মাদকপাচার নির্মূল, চোরাচালান ও অপহরণের ঘটনা রোধ, দ্বৈত নাগরিকত্ব বিলোপসহ সীমান্তে যে কোনো ধরনের অপরাধ নির্মূল করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের ৩২টি জেলার ১০১টি উপজেলা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের আট জেলার ২৩টি উপজেলার সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে ভারতের। বাংলাদেশের বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি জেলার সীমান্ত ও মিজোরাম রাজ্যের তিনটি জেলার সীমান্ত নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিনিধি দলের প্রধান ও রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মো. সামশুল আরেফিন।

দুপুরে বৈঠক শেষ হলে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিনিধি দল। সংবাদ সম্মেলনে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের সীমান্তে এ মুহূর্তে বড় কোনো সমস্যা নেই। বড় কোনো সঙ্কটের সম্মুখীন আমরা হচ্ছি না। যে সব সমস্যা আছে সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান। এ সব সমস্যা আমরা কীভাবে সমাধান করতে পারি সেটা নিয়ে আলোচনায় বসেছিলাম। আমাদের আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সীমান্তে যে কোনো পরিস্থিতি জেলা প্রশাসন পর্যায় থেকে বাংলাদেশ ও ভারত দ্রুত পরস্পরকে অবহিত করবে। দুই দেশের সরকার কিংবা উচ্চপর্যায়ের যে কোনো সিদ্ধান্তও জেলা প্রশাসক পর্যায়ে আলোচনা হবে।’

সম্মেলনে মিজোরামের লাংলাই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আশিষ মাদাহারু মুরে বলেন, ‘গত জানুয়ারিতে আমরা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে প্রথম বৈঠক করেছিলাম। এর ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বিভাগের বৈঠক হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বিরাজমান কিছু সমস্যা ছাড়া আমাদের সীমান্তে আর বড় কোনো সঙ্কট নেই। এর পরও এ ধরনের বৈঠক আমাদের স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলবে।’

বৈঠকে যোগ দিতে ভারতীয় প্রতনিধি দল মঙ্গলবার চট্টগ্রামে এসে পৌঁছায়। বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার ভারতীয় প্রতিনিধি দলের চট্টগ্রাম ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

মতামত