টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে সাড়ে ৮,০০০ কোটি টাকা অনুমোদন

sচট্টগ্রাম, ২৪  নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):: বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ৩.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ নির্মাণ করে কর্ণফুলী নদীর দুই তীরকে যুক্ত করতে সাড়ে ৮,০০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘কনস্ট্রাকশন অব মাল্টি ল্যান্ডরোড টানেল আন্ডার দ্য রিভার কর্ণফুলী’ র্শীষক এ প্রকল্প অনুমোদন পায়।

কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে এই টানেল নির্মাণকে সরকারের ‘স্বপ্নের প্রকল্প’ অভিহিত করে প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এর মধ্য দিয়ে সরকার চট্টগ্রামকে চীনের সাংহাইয়ের আদলে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের অবঠকের পর পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এ টানেল নির্মাণ নিয়ে অনেক শঙ্কা ও সংশয় ছিল। আজ প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদনের মধ্য দিয়ে তা দূর হলো। এটি একটি স্বপ্নের প্রকল্প। ২০২০ সালের আগেই এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।’

এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮,৪৪৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, যার ৪,৭৯৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার যোগান দেবে চীনের এক্সিম ব্যাংক।

বাকি ৩,৬৪৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সেতু কর্তৃপক্ষ।

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে কর্ণফুলী নদীর ওপর দুটি সেতু রয়েছে। তার ওপর আরো ব্রিজ নির্মাণ করা হলে গোড়ায় পলি জমে নদী নাব্যতা হারাতে পারে। তাই সরকার এ টানেল নির্মাণ করছে।’

এ টানেল একদিকে চট্টগ্রাম শহররে বন্দর এলাকা ও অন্যদিকে আনোয়ারা উপজেলাকে সংযুক্ত করবে। টানেল চালু হলে পর্যটন নগরী কক্সবাজারসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ আরো সহজ হবে। কর্ণফুলীর দুই সেতুর ওপর যানবাহনের চাপ কমবে বলেও সরকার আশা করছে।

এ টানেল নির্মাণের জন্য গত বছর ১০ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বেইজিংয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

এরপর বাংলাদেশ সেতু র্কতৃপক্ষ, চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি) ও অভি অরূপ অ্যান্ড পার্টনার্স হংকং লিমিটেড যৌথভাবে টানেলের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা করে। গত ৩০ জুন সেতু কর্তৃপক্ষ ও সিসিসিসির মধ্যে হয় বাণিজ্যিক চুক্তি।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আরো জানান, একনেক বৈঠকে ১৬,৯৭৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১২ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সরকারি অর্থায়ন ১১,৭২৫ কোটি ১৯ লাখ এবং প্রকল্প সাহায্য ৫,২৪৮ কোটি ৬৯ লাখ ও নিজস্ব তহবিল ৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

মতামত