টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বাংলাদেশ এখনো অনেকটাই নিরাপদ: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ২৩  নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):  বাংলাদেশে যাতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএস স্থান করে নিতে না পারে সেজন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, পৃথিবীর অনেক মুসলিম অধ্যুষিত দেশেই কোন না কোন অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। একমাত্র বাংলাদেশই এখনো অনেকটা নিরাপদ রয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যাতে আইএস স্থান না পায় আমরা সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাব। পৃথিবীতে মুসলিম অধ্যুষিত দেশেই কিছু না কিছু গোলমাল হচ্ছে। বাংলাদেশ আমেরিকা থেকেও নিরাপদ। এজন্য সকল শ্রেণির মানুষকে সক্রিয় হতে হবে।

তিনি আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশে আইএস আছে, জঙ্গি আছে— এ ধরনের ঘোষণা দেওয়ার একটা পাঁয়তারা চলছিলো। যেসব দেশ বাংলাদেশে আইএস আছে বলার চেষ্টা করছে তাদের দেশের অবস্থার তুলনায় এদেশে আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রাখতে পেরেছি।

খালেদা জিয়ার আমলে যেখানে প্রতিদিন খুন-খারাবী লেগেই থাকতো সেখান থেকে আমরা ধীরে ধীরে শান্তিপূর্ণ অবস্থায় যাচ্ছি।

বেগম খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্য হলো ২০১৩ সালে নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি আন্দোলনের নামে শত শত মানুষকে হত্যা করেছিলো। নির্বাচনকে বন্ধ করতে চেয়েছিলো।

বিএনপি নেত্রী ঘোষণা দিলেন, এই সরকারকে উৎখাত না করে ঘরে ফিরবেন না। প্রায় ৬৫ জন মানুষ নিয়ে উনি ৩ মাস গুলশান অফিসে থাকলেন। উনি এখন পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার করেন নাই। অবরোধ এখনও আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, অবরোধের নামে উনি প্রায় ৫০০ জন মানুষ হত্যা করলেন। সাধারণ জনগণ যারা বাসে চড়ে, ট্রেনে চড়ে, প্রাইভেটকারে যাতায়াত করেন, উনার হাত থেকে কোন কিছুই বাদ যায়নি। প্রায় ২,৫৮৩টি গাড়ি পুড়িয়েছেন। ১,১৩৮টি প্রাইভেটকার, ১৮টা রেল, ৮টা লঞ্চ পুড়িয়েছেন। এইভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন বাংলাদেশে।

তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষ হত্যা করা? সাধারণ মানুষের সম্পদ ধ্বংস করা রাজনীতি হয় কিভাবে? উনি বিদেশ গেলেন, তারপর দেখি বাংলাদেশে বিদেশি হত্যা হচ্ছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট সক্রিয় এবং তারা কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার শেষ করতে না পারলে এই দেশ অভিশাপমুক্ত হতে পারবে না। এই বিচারের রায় কার্যকর হচ্ছে বলে বাংলাদেশ অভিশাপমুক্ত হতে পারছে। অভিশাপমুক্ত হতে পারছে বলেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে।

হরতাল-অবরোধ সত্ত্বেও আমরা ছয়ের উপরে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। প্রায় দেড় কোটি বেকারকে আমরা কর্মসংস্থান দিতে সক্ষম হয়েছি। ৩৮ লাখের মতো বিদেশে পাঠিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল সারা বাংলাদেশে করবো। সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী এই শিল্প গড়ে তুলতে চাই। তাহলেই কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। যে এলাকায় যে পণ্য উৎপাদন হয়, সেগুলোকে সংরক্ষণ করার বিষয়ে কাজ করবে।

তিনি বলেন, আমরা দারিদ্র্যের হার ১৪ ভাগে নামিয়ে আনবো। এখন আর কেউ বাংলাদেশকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে পারে না।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত