টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

তরুণদের প্রতীক্ষা কবে খুলবে ফেসবুক

চট্টগ্রাম, ২৩  নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মধ্যে সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ফেসবুক। তবে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি গত বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ করে দেয় সরকার। সে সময় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ফেসবুক। সেই থেকে দেশে আজ ছয় দিন ধরে ফেসবুক বন্ধ রয়েছে।

বর্তমানে ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের পাশাপাশি সিটিজেন জার্নালিজমেরও মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এটি বন্ধ থাকায় অনেকেই পড়েছেন সমস্যায়। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে কর্মস্থল পর্যন্ত পড়েছে এর প্রভাব।

ফেসবুকের সঙ্গে ভাইবার ও অনুরূপ যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বন্ধ থাকায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। অনেকে অস্বস্তিতেও আছেন। বিশেষ করে উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের মধ্যে এই অস্বস্তি অনেক বেশি। তারা এখন অপেক্ষায় আছেন, কখন খুলে দেওয়া হবে ফেসবুক। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, চায়ের টেবিলসহ সবখানেই ফেসবুক নিয়ে আলোচনা। কোথাও কোথাও বিকল্প ব্যবস্থায় ফেসবুক চালানো হচ্ছে।

ফেসবুক বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের ছাত্র মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন  বলেন, ‘আজ ছয় দিন যাবৎ ফেসবুক বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ফেসবুক হলো যোগাযোগ করার সব থেকে বড় একটি মাধ্যম। তাই বন্ধ থাকার কারণে অনেক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না।’

এ বিষয়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী আফরিন জাহান লোপার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে আমি দেশে এবং দেশের বাইরে আমার বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতাম। কিন্তু কিছু দিন যাবৎ তা পারছি না। তা ছাড়া ফেসবুকে ছবি আপলোড করতে খুব ভালো লাগে আমার। এই কয় দিনে অনেক ছবি তুলেছি আমি এবং আমার বান্ধবীরা। কিন্তু ফেসবুক বন্ধ থাকায় তা আপলোড করতে পারছি না।’

সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মো. সাইফ বলেন, ‘ফেসবুক বন্ধের কারণে বন্ধু-বান্ধব ও লেখকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। আমার বিদেশেও কিছু কবি-সাহিত্যিকদের সঙ্গে ফেসবুকে নিয়মিত কথা হতো। কিন্তু এখন তা বন্ধ রয়েছে। তাদেরকে খুব মিস করছি।’

কথা হয় রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মল্লিকা জাহানের সঙ্গে। তিনি দুঃখের সঙ্গে বলেন, ‘ফেসবুক বন্ধ থাকায় খুব বোর লাগছে। মনে হয় যেন সময় কাটতেই চাচ্ছে না। খুব একা একা লাগে। ফেসবুক খোলা থাকলে আমার মনে হয় আখন আমার সঙ্গে অনেক বন্ধুরা আছে। এখন সেটি থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তাই মনটা খুব খারাপ।’

বাংলাদেশে বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সি তরুণ-তরুণীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তরুণদের একটাই প্রশ্ন—ফেসবুক চালু হবে কবে?

কথা হয় ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি রাজীব আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ফেসবুক বন্ধ থাকায় আমাদের ব্যবসা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ ফেসবুকের কোনো বিকল্প আমাদের হাতে নেই। সরকার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য এটি বন্ধ করেছে, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু অর্থনীতির কথা চিন্তা করে খুব দ্রুত এটা খুলে দেওয়া দরকার। তা না হলে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকেই বেকার হয়ে যেতে পারেন।’

এদিকে মোবাইল ফোন অপারেটরদের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রতিদিন তাদের সাড়ে চারশ’ টেরাবাইট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হতো। এখন ফেসবুক বন্ধের পর ব্যান্ডউইথের ব্যবহার তিনশ’ টেরাবাইটের নিচে নেমে এসেছে।

গ্রামীণফোনের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স মাহমুদ হোসাইন বলেন, মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা বেশিরভাগ সময় ফেসবুক ব্যবহার করেন। এটি খুবই জনপ্রিয় একটি অ্যাপস। এটি বন্ধ থাকার ফলে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার কমাটাই স্বাভাবিক। ফলে অন্য গ্রাহকরা ব্রাউজিংয়ে গতি বেশি পাচ্ছেন।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছিলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের নজরদারি বাড়ানো হবে। এ লক্ষ্যে ইন্টারনেট সেফটি সলিউশন (আইএসএস) সিস্টেম ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলছে। এই পদ্ধতি যুক্ত হলে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত সব ধরনের অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও আপলোড, বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেওয়া, গুজব ছড়ানোসহ হয়রানি বন্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারির জন্য আইএসএস নামক সিস্টেম ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার চূড়ান্ত রায়েও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বহাল রাখে আপিল বিভাগ। রায়ের কিছুক্ষণের মধ্যেই বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সারা দেশে ফেসবুক, ভাইবারসহ কয়েকটি অ্যাপস বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর দুপুর সোয়া ১টার দিকে ইন্টারনেট সংযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়। দেড় ঘণ্টা পর ইন্টারনেট সংযোগ আবার খুলে দেওয়া হলেও বন্ধ রয়েছে সামাজিক যোগাযোগের এই সাইটগুলো।-রাইজিংবিডি

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত