টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পাঁচজনের কমিটি দিয়ে চলছে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি

চট্টগ্রাম, ২৪ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস): পূর্ণাঙ্গ কমিটিই নেই চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির। পাঁচ বছর ধরে এর সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে পাঁচ সদস্যের কমিটি দিয়ে। সরকারি দলের নির্যাতনের কথা বলা হলেও মূলত অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা যাচ্ছে না বলে জানান নেতাকর্মীরা।

তবে কেন্দ্র থেকে তাগাদা পেয়ে চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি গঠনের একটা চেষ্টা দেখা যাচ্ছে দলে। সম্প্রতি কমিটি গঠনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কার্যালয় নসিমন ভবনে সভায় বসেছিলেন নেতারা। কিন্তু দুই গ্রুপের মারামারির কারণে তা পণ্ড হয়ে যায়। এ থেকে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এদিকে কমিটির শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন আসতে পারে্- এমন আভাস পেয়ে মহানগর নেতাদের মধ্যে কেন্দ্রে লবিংয়ের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

নেতাকর্মীরা জানান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপিতে আবদুল্লাহ আল নোমান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর দলাদলি বেশ পুরনো। আলাদা গ্রুপ নিয়ে আছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহদাত। এ ছাড়া আরো দল-উপদলে বিভক্ত মহানগর বিএনপি। কেন্দ্র থেকে বারবার দল গোছানোর নির্দেশ দেয়া হলেও এসব কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারছে না চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি।

দলের বর্তমান সাংগঠনিক খবর নিতে গিয়ে জানা যায়, ২০১০ সালের জানুয়ারিতে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট নগর কমিটি ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় বিএনপি। এতে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি ও ডা. শাহাদাত হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এ ছাড়া সহসভাপতি করা হয় শামসুল আলম, দস্তগীর চৌধুরী ও আবু সুফিয়ানকে। এর মধ্যে দস্তগীর চৌধুরী মারা গেলে চার সদস্য দিয়েই চলে আসছে নগর বিএনপির কার্যক্রম।

এ কমিটি নগরীর ১৪টি থানার মধ্যে শুধু বাকলিয়া থানায় কমিটি গঠন করতে পেরেছে। অন্য থানাগুলোতে দুই-তিন সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে কাজ চালাচ্ছে। ওয়ার্ড কমিটি গঠন তো দূরের কথা গঠন করতে পারেনি একটি থানা কমিটিও।

এ ব্যাপারে মহানগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে বিগত আট বছর পার করছে বিএনপি। সরকারি দলের নির্যাতনে বিপর্যস্ত দল। এরপরও সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আওতাধীন থানা কমিটিগুলোতে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন কেন্দ্রের নির্দেশ পেয়েছি। সব থানায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে দলকে শক্তিশালী করা হবে।”

নগর বিএনপির কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়া উচিত এমন মন্তব্য করে মহানগর সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটির জন্য একটি তালিকা কেন্দ্রে জমা দিয়েছি। কিন্তু তা এখনো অনুমোদন দেয়া হয়নি। এ ছাড়া থানা ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন করে দলে গতিশীলতা আনতে হবে।”

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বর্তমান মহানগর কমিটিকে ব্যর্থ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “তারা চার বছরে সংগঠন গোছাতে পারেনি। তাই কমিটিতে নেতৃত্বের পরিবর্তন আনা দরকার। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও অঙ্গ সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজাতে হবে। তাহলেই দলের মধ্যে গতিশীলতা আসবে।”

বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চার বছর আগে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু এর আগে বিগত ১৩ বছরেও নগরীর কোনো থানায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি বিএনপি।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে শুধু মিছিল-মিটিংয়ে সীমাবদ্ধ ছিল বিএনপি। ফলে টালমাটাল চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থার প্রভাব পড়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও।

তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলেন, তবে বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। তাই সম্প্রতি কেন্দ্র থেকে দল গোছানোর নির্দেশ পেয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি।

বিএনপির উচ্চপর‌্যায়ের সূত্রে জানা যায়, মহানগর বিএনপির কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে কমিটির শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন আসতে পারে। এমন আভাস পেয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতাদের মধ্যে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। অনেক নেতা চট্টগ্রাম ছেড়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে।

মতামত