টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাঙ্গুনিয়ায় সাকার খামার বাড়ি এখন সুনসান নিরব

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি 

Rangunia-saka-pic--2চট্টগ্রাম, ২২ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস): এক সময়ের দাপুটে এই বিএনপি নেতার সমস্ত দর্প চূর্ন হয়ে কবরে বিলীন হলেন সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী। ফাঁসি কার্যকরের পর থেকে নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গুনিয়ার খামার বাড়ি এখন সুন্সান নিরবতা বিরাজ করছে। একাধিকবার নির্বাচিত এমপি এক সময়ের বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের প্রভুর নির্মম পরিনতির পর এখন কেউ পাশে নেই। এমনকি লাশের পাশে নিকটাতœীয় ছাড়া দলীয় কোনো নেতাকর্মীদের দেখা মিলেনি। রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের কোনো প্রতিক্রিয়াও নেই। এদিকে ফাঁিস কার্যকর হওয়ায় রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরন করা হয়েছে। রাঙ্গুনিয়ায় নিরাপত্তা ব্যাবস্থা কঠোরতম। কোন অঘটন বা অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ করতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, বিজিবি সহ অসংখ্য প্রশাসনিক নজরদারী অব্যাহত আছে। উপজেলার চন্দ্রঘোনা, মরিয়ম নগর, গোচরা চৌমুহনী, শান্তির হাট, পারুয়া,আলমশাহ পাড়া, রানীর হাট, ও পৌর সদর ইছাখালীতে পুলিশের পাশাপাশি ব্যাপক সংখ্যক বিজিবি মোতায়ন করা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোথাও কোন অঘটন ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হুমায়ুন কবীর জানান, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সজাগ রয়েছে।

সাকা পরিচিতি : ১৯৪৯ সালের ১৩ মার্চ রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামে জন্ম সাকার। তার পিতা মুসলিম লীগ নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরীও দাপুটে মুসলিম লীগ নেতা ছিলেন। ১৯৭৯ সালে রাউজান থেকে মুসলিম লীগের ব্যানারে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন যুদ্ধাপরাধী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাকা চৌধুরী। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকেও এমপি নির্বাচিত হন। নব্বই’র দশকে গঠন করেন রাজনৈতিক দল এনডিপি। ১৯৯১ সালে এনডিপি ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালেও বিএনপির ব্যানারে সাংসদ হন। রাজনীতি করতে গিয়ে তার নির্বাচনী এলাকা রাউজান, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়ায় নিজস্ব একটি বলয়ও তৈরি করেন তিনি। রাঙ্গুনিয়ায় আধিপত্য বিস্তার করে গড়ে তুলে আলিশান খামার বাড়ি। ৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে ঘোষিত ফাঁসির রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে সাকা যুগের অবসান হল।

অভিযোগ রয়েছে, এনডিপি গঠনের পর নিজ এলাকা রাঙ্গুনিয়ায় সাকার পরোক্ষ মদদে গড়ে ওঠে সন্ত্রাস বাহিনি। একাধিক সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বাহিনীর হাতে রাঙ্গুনিয়ায খুন, ডাকাতি, অপহরণ, জিম্মী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনসহ একের পর এক অপরাধ ঘটতে থাকে। এ নিয়ে শুরু হয় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সাকা সমর্থিত সন্ত্রাসী বাহিনীর দ্বন্ধ। গোডাউন এলাকায় গড়ে উঠা কাদের নগর নামে খামার বাড়িতে সংঘটিত হতো বিভিন্ন অপরাধের নীল নক্সা। এছাড়াও বিএনপি দলীয় সমস্ত কর্মকান্ড এখান থেকে পরিচালিত হতো। এমনকি তৎকালীন প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরাও সাকা চৌধুরীর আজ্ঞাবহ হয়ে থাকত।

রাঙ্গুনিয়ার প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে আলাপকালে তারা জানিয়েছেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাব-আচরণ ছিল এমনি যেন উনিই রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়িসহ উত্তর চট্টগ্রামের একচ্ছত্র অধিপতি। এলাকার সংখ্যালঘুরা তার ভয়ে তটস্থ থাকতেন । সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সন্ত্রাসী লালন-পালন বা আশ্রয়- প্রশ্রয়ের মধ্য দিয়ে ত্রাস সৃষ্টি, সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করাসহ অসংখ্য অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত