টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফাঁসি কার্যকরের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন

চট্টগ্রাম, ২০ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস): একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার রাতে শীর্ষ এই দুই রাজনীতিকের মেডিকেল চেকআপ শেষে ফাঁসির মঞ্চ ও দুজন জল্লাদকে প্রস্তুত করা হয়েছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির বলেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের রায়ের কপি কারাগারে পৌঁছানোর পর ফাঁসির মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার রাত দুইটার মধ্যে সেটি শেষ হয়।

তিনি বলেন, মঞ্চটি ধোয়ামোছা শেষে এর চারপাশে শামিয়ানা টানানো হয়েছে। ফাঁসি কার্যকর করতে শাহজাহান ও রাজু নামের দুজন জল্লাদকেও প্রস্তুত করা হয়েছে।

বিভিন্ন মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, জল্লাদ শাহজাহান ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করেন। আর চলতি বছরের ১২ এপ্রিল আরেক জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরে ভূমিকা রাখেন জল্লাদ রাজু।

শাহজাহান ১৪৩ বছরের বেশি কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ৩৬ বছর ধরে তিনি কারাগারে আছেন। আর রাজু ১৫ বছর ধরে কারাগারে আছেন।

শাহজাহান বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পাঁচ আসামি, এরশাদ শিকদারসহ বিভিন্ন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে দুজন কারা চিকিৎসক সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের মেডিকেল চেকআপ করেন।

চেকআপে অংশ নেওয়া ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা রাতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের মেডিকেল চেকআপ করেছি। উনারা সুস্থ আছেন। তাদের শারীরিক কোনো সমস্যা নেই।’

তার সঙ্গে ডা. হাবিব নামে আরেকজন কারা চিকিৎসক চেকআপে অংশ নেন।

এদিকে, ফাঁসির রায় কার্যকর ঘিরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও এর আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

গত বুধবার মানবতাবিরোধী অপরাধে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করে তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।

এর একদিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার রিভিউ আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি কারাগারে পৌঁছানো হয়েছে। পরে সেটি দুজনকেই পড়ে শোনানো হয়।

এ সময় তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তারা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না? তখন দুজনেই জানান, তারা এ ব্যাপারে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন।

তাদের জানানো হয়, আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের আর কোনো সুযোগ নেই। তখন তারা পরিবারের সঙ্গে আবার দেখা করতে চেয়েছেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত