টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সাকা-মুজাহিদের ফাঁসিকার্যকর কবে

চট্টগ্রাম, ১৯ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):  একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হওয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

তবে কবে নাগাদ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে, কিংবা দুজনের রায় একই সঙ্গে হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডও কি একই সঙ্গে কার্যকর হবে্- এমন কৌতূহলও জেগেছে অনেকের মধ্যে। তবে এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না কেউ।

তবে আইনি দিক দিয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষিত হলেও রায় কার‌্যকরের আগে আরো কিছু আনুষ্ঠানিক কাজ সারতে হয়। এর মধ্যে প্রধান কাজটি হলো আদালতের চূড়ান্ত রায়ের কপি কারাগারে পৌঁছার পর দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনের সুযোগ দেয়া। সে ক্ষেত্রে সময়ের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, “রায় কবে কার্যকর হবে বা একই সঙ্গে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে কি না, সেটি রাষ্ট্রই ভালো বলতে পারবে। এটি এখন রাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে।”

এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “নিয়মানুযায়ী আইনি সব ধাপই শেষ বলে আমি মনে করি। তবে কারা কর্তৃপক্ষ বলেছে রিভিউ নিয়ে আদালত যে রায় দিয়েছেন, সেটির কপি তাদের পেতে হবে। এরপর তারা কার্যকরের বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে। সেজন্য রায়ের কপির বিষয়ে আমি আদালতে জানিয়েছি। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়া যাবে।’

একটি সূত্র জানিয়েছে, “আজ সন্ধ্যার মধ্যেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি কারাগারে পৌঁছার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে আজ দুপুরে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে কারাগারে দেখা করেছেন তার পরিবার। দুপুরের পর কারাগারে যান মুজাহিদের পরিবারের সদস্যরা। তারাও দেখা করে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছেন। গুঞ্জন আছে আজ রাতেই ফাঁসি কার্যকর হতে পারে।

ওই সূত্রটি আরো জানায়, সরকার রায় ঘোষণার আগে-পরে দেশব্যাপী নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। সাকা-মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর সামনে রেখে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থার দরকার হবে না। এ জন্য অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার দণ্ড কার্যকর করতে চাইছে।

কারা সূত্র জানায়, চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় এখন শুধু বাকি সাকা-মুজাহিদের প্রাণভিক্ষার ধাপ। আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপিটি কারাগারে পৌঁছলেই তারা সাকা-মুজাহিদকে তা পড়ে শুনাবেন। এরপর একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কারা কর্তৃপক্ষ সাকা-মুজাহিদের কাছে জানতে চাইবেন তারা কৃতকর্মের দায় স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না। তারা যদি প্রাণভিক্ষা চান তাহলে তাদের সময় দেয়া হবে। আর না চাইলে কারা কর্তৃপক্ষ দেরি না করে দণ্ড কার্যকর করবে।

তবে সরকারের সঙ্গে আলাপ করে দণ্ড কার‌্যকরের সময় নির্ধারণ হবে বলে জানায় সূত্র।

আরে জেলকোডের ৯৯১ বিধি অনুসারে ৭ বা ২১ দিনে দণ্ড কার্যকরের নিয়ম আন্তর্জাতিক অপরাধ মামলায় প্রযোজ্য হবে না।

এর আগে একই অপরাধে দণ্ড কার্যকর হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতা আবদুল কাদের মোল্লা ও মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের। এখন দণ্ড কার্যকরের পথে সাকা-মুজাহিদের।

গতকাল রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করার পর এক প্রতিক্রিয়ায় মুজাহিদের বড় ভাই ও ফরিদপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আলী আফজাল মোহম্মদ খালেছ জানিয়েছিলেন, মুজাহিদ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন না।

তিনি বলেন, “কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামান ভাইও তাদের ফাঁসির রায়ের পরে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাননি। ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রশ্ন আসে না। কারণ, মুজাহিদ অন্যায় করেননি। তাই মুজাহিদও ক্ষমা চাইবেন না।”

অন্যদিকে সালাউদ্দিন চৌধুরী প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করবেন কি না এখনো তার পরিবার ও আইনজীবীর পক্ষ থেকে কোনো কিছু জানা যায়নি।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আলবদর প্রধান মুজাহিদকে তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে তার রায়ে সর্বোচ্চ আদালত শুধু বুদ্ধিজীবী হত্যার ষড়যন্ত্র ও ইন্ধনের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। বাকি দুটির একটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অন্যটিতে খালাস দেন।

এ ছাড়া একই বছরের ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাকা চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেন।

এরপর দুই আসামিই ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। আপিলের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর এই দুই যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড বহালসংক্রান্ত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি প্রকাশিত হয়।-ঢাকাটাইমস

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত