টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রায় কার্যকর যেকোনও সময়

bnp-bjiচট্টগ্রাম, ১৮ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):  মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যেকোনও সময় কার্যকর হতে পারে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায়। আজ বুধবার সকালে আপিলের মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর আর কোনও আইনি প্রক্রিয়া বাকি নেই। এখন সরকার যখন যেভাবে চাইবে ফাঁসি কার্যকর করতে পারবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম।

এরই মধ্যে পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা নির্ধারণে কেন্দ্রীয় কারাগারে বৈঠকে বসেছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে এখনও সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানানো হয়নি।

রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে পারিবারিক কোনও সিদ্ধান্ত নেই বলে জানিয়েছেন মুজাহিদের ছোট ছেলে আলী আহমেদ মাবরুর। তারা কারাগারে সাক্ষাতের চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, আমরা পরিবারের সদস্যরা কারাগারে দেখা করার চেষ্টা করছি। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে প্রয়োজন হলে আমাদের ফোন করা হবে। দেখা করতে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করবো।

এরপর যদি মুজাহিদ ক্ষমা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সেটার বিষয়ে আইনজীবীদের পরামর্শ অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে উল্লেখ করে মাবরুর বলেন, এখন সবই অনিশ্চিত।

সাকার আইনজীবী হুজ্জাতুল ইসলাম আলফেসানি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে আগামীকাল সাক্ষাতের চেষ্টা করা হতে পারে।

দুই-একদিন আগে সাকা চৌধুরীকে কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। মুজাহিদ আগে থেকেই এই কারাগারে রয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারাগারের এক কর্মকর্তা বলেন, কিভাবে ফাঁসি কার্যকর হবে এবং একসঙ্গে হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত সরকারের। সাকাকে মৃত্যু পরোয়ানা শোনানো হয়েছিল কাশিমপুর কারাগারে। তারপর এক জেল থেকে আরেক জেলে নেওয়ার নজির খুব কম থাকলেও তাকে আনা হয়েছে।

২০১০ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বহুল প্রতীক্ষিত বিচার শুরুর পর এ দুটি হলো তৃতীয় ও চতুর্থ মামলা, যার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হলো। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছিলেন। ওই রায় চ্যালেঞ্জ করে মুজাহিদের আইনজীবীরা সর্বোচ্চ আদালতে যান। সর্বোচ্চ আদালতও ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখেন। তবে প্রসিকিউশনের আনা সাতটি অভিযোগের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল তাকে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড দিলেও আপিল বিভাগ শুধু ষষ্ঠ অভিযোগে অর্থাৎ বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখেন।

এদিকে, ট্রাইব্যুনালের রায়ে চার অভিযোগে সাকা চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছিল। আপিল আংশিক মঞ্জুর করে আপিল আদালত আটটিতে দণ্ডাদেশ বহাল রেখে একটিতে খালাস দিয়েছে।

কবে নাগাদ রায় কার্যকর হবে জানতে চাইলে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার বিষয়ে মতামত জানতে চাইবেন, এরপর পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেবেন। তখনই বোঝা যাবে রায় কার্যকর হওয়ার সময় এসেছে।-বাংলা ট্রিবিউন

মতামত