টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাক্ষুসী মাতামুহুরী‘র ভাঙনে পাল্টে গেছে আলীকদমের চিত্র!

এস.এম ইসমাইল হাসান
আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি

Nodhi-Vangonচট্টগ্রাম, ১৭ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):  রাক্ষুসী মাতামুহুরীর ভাঙনে আলীকদম উপজেলার মানচিত্র আজ পাল্টে গেছে। মাতামুহুরী নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে উপজেলার হাজারের অধিক পরিবার।ইতিমধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়েগেছে সিড়িঁ, রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ, কালভার্ট, শ্বসান ও হতদরিদ্র পরিবার গুলোর সাজানো সংসার।চিরাচরিত তার এই স্বভাব বজায় রাখতে গিয়ে পাল্টে দিয়েছে আলীকদমের মানচিত্র। এমন আরো অনেক স্থাপনা রয়েছে যা নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা রয়েছে।

অন্যদিকে প্রতি বছর আলীকদম উপজেলার শতাধিক গ্রাম পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট বন্যায় প্লাবিত হয়। বন্যা পরবর্তী সরকারী ও বেসরকারী সংস্থাগুলো এগিয়ে আসে ত্রান সামগ্রী নিয়ে। কিন্তু এবিষয় নিয়ে জনমনে প্রশ্ন জাগছে যে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের স্থায়ী কোন সমাধান কর্তৃপক্ষ নিবে কিনা? বিষয়গুলো ক্ষতিয়ে দেখতে গিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করলেন প্রকৃতির প্রতি উদাসিনতাকে। তারা বলেন প্রতি বছর যে হারে অপরিকল্পিত জুম চাষ ও বৃক্ষ নিধন হচ্ছে, তাতে পাহাড়ের মাটি ক্ষয়ে ক্ষয়ে এসে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। আর এই নদী ভরাটের কারণেই এসব পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। একটি গবেশনায় দেখা যায় বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চলিয় এসব পাহাড় গুলো প্রতিবছর গড়ে ১৬ ইঞ্চি পর্যন্ত ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। সেই অনুপাতে পাহাড়ি নদ-নদীগুলো দিন দিন ভরাট হয়ে আসছে।

জানা যায়, ১৯৯৩ সালে নদী ভাঙন রোধ ও লামা-আলীকদমকে বন্যামুক্ত করার জন্য তৎকালিন প্রধানমন্ত্রীর নিকট ডজন খানেক আবেদন করেন। প্রধান মন্ত্রীর স্পেশাল এ্যাফেয়াস বিভাগ থেকে সচিব পানি উন্নয়ন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রনালয়কে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিদের্শ প্রদান করে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই সময় একটি প্রকল্প গ্রহণ করে প্রাক্কলন তৈরি করেছিলো। প্রায় দেড় যুগেরও বেশী সময় অতিবাহীত হওয়ার পর গত সপ্তাহে লামা-আলীকদমের বুক চিরে বয়ে যাওয়া মাহামুহুরীর ভাঙন স্বচোখে দেখে গেলেন পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এ সময় তিনি নদীর কুল ভাঙন রোধে অতিদ্রুত প্রকল্প গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন। তবে আশার আলো জাগাতে পারেনি নদীকুলের সাধারন জনগনের বুকে। প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটি হবে আলীকদম সেনানিবাস এলাকা সংলগ্ন মাত্র কয়েকশ মিটার।

আলীকদম উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি সমর বডুয়া পূর্বদেশকে বলেন, প্রতি বছর আলীকদম উপজেলার শতাধিক গ্রাম পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট বন্যায় প্লাবিত হয়। পাহাড়ের ঝিরি বেয়ে আসা পানি মাতামুহুরী নদীতে মিশে প্রবল স্রোতে লন্ডভন্ড করে দেয় রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ, কালভার্ট, শ্বসান ও হতদরিদ্র পরিবার গুলোর সাজানো সংসার। গত কয়েক বছরে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শ‘খানেক গ্রামের অসংখ্য বাড়ি, ফসলি জমি, মৎস খামার,উপজাতি শ্বসান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। আজ ভাঙন কবলিত পরিবার গুলো বসবাস করছে অন্যের বাড়িতে আশ্রীতা হয়ে। স্ব স্ব ভূমির মালিক আজ ভূমিহীন প্রজা মাত্র।

এ বিষয় নিয়ে কথা বলছিলাম আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মর্কতা মোঃ আল-আমিনের সাথে তিনি বলেন, আমি এই বিষয় নিয়ে মন্ত্রনালয়ে চিঠি দিয়েছি, মাননীয় পার্বত্য বিষয়ক প্রতি মন্ত্রী বীর বাহাদুরকে অবগত করেছি এবং আলীকদম সেনানিবাসের প্রকল্পটি যখন মাননীয় পানি সম্পদ মন্ত্রী মহোদয় দেখতে আসছিলেন তখনও আমি ছাবের মিয়া পাড়া,মংলা পাড়া,মংপাখুই হেডম্যান পাড়াসহ যে এলাকা গুলো মাতামূহুরী নদীর ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে যাচ্ছে সেই ব্যপারে ভাঙ্গন রুদেও জন্য মন্ত্রী মহোদয়রের কাছে কিছু বরাদ্ধ চেয়েছি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত