টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পাহাড় কেটে সড়ক নির্মান বন্ধে কক্সবাজার পৌর মেয়রকে নোটিশ

Cox Poribes Notice_1ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:
পাহাড় কেটে কক্সবাজার শহরের রুমালিয়াছড়া-সমিতি বাজার বাইপাস সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধে পৌর মেয়র সরওয়ার কামালকে নোটিশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার অফিসের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম।
সেই সাথে প্রকল্পে নিযুক্ত ঠিকাদারের নাম ঠিকানা এবং কার্যাদেশ প্রদান সংক্রান্ত কাগজপত্র সরবরাহের জন্য পৌর মেয়রকে অনুরোধ করেছেন।
একই সাথে কেন মেয়র সরওয়ারের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট টিম কর্তৃক মামলা দায়ের ও পরিবেশ আইনের ৭ ধারায় ক্ষতিপুরণ/জরিমানা আদায় করা হবে না তা আগামী ২৪ নভেম্বরের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
১৬ নভেম্বর সোমবার পরিবেশ অধিদপ্তরের স্মারক নং- পঅ/কঃজেঃকাঃ/পাহাড় কর্তন/০৯২/২০১১/৫৩৮ মূলে চিঠিটি তিনি পৌর মেয়র বরাবর পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে উল্লেখ আছে, পাহাড় কাটার বিষয়টি ১৬ নভেম্বর জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচিত হয়। সভায়  পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ব্যতিরেকে কোন সরকারী প্রকল্পে পাহাড় কর্তন বা ড্রেসিং না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এর আগে ১১ নভেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি টীম পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণ করার দৃশ্য সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন বলে জানান সরদার শলীফ।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষন আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ৬-খ ধারা অনুসারে, ‘কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরকারী বা আধা সরকারী বা স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন বা মোচন করা যাইবে না।  তবে শর্ত থাকে যে, অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণক্রমে কোন পাহাড় বা টিলা কর্তন বা মোচন করা যাইতে পারে।’
সরদার শরীফ জানান, উপরোক্ত প্রকল্পের অনুকুলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ব্যতিরেকে পাহাড় কর্তন করে রাস্তা নির্মান করছেন।
ইতোপূর্বে লাইট হাউজ ও ঘোনারপাড়া এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ব্যতিরেকে পাহাড় কর্তন করে রাস্তা নির্মাণ এবং সরকারী খাস খতিয়ানভুক্ত জমি অবৈধ দখলদার সৃষ্টিতে সহযোগিতা করছেন বলে পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন পরিবেশ অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে পৌর মেয়র সরওয়ার কামাল বলেন, রাস্তাটি ব্যক্তিগত উদ্দোগে নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে পৌরসভার কোন টেন্ডার বা ওয়ার্ক অর্ডার নেই। এমনকি পৌরসভার কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীও রাস্তা নির্মাণের সাথে জড়িত নয়।
তিনি আরো জানান, ওই জায়গাটি পৌরসভার আওতার বাইরে। এটি ঝিলংজা মৌজায় পড়েছে। ২০০৫ সালে পাহাড়টি কাটা হয়। বর্তমানে স্থানীয়রা মিলেমিশে ইট বসাচ্ছে। এতে পৌরসভার কোন সম্পৃক্ততা নেই।
তাছাড়া রাস্তাটি নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেছেন পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান। এতে পৌরসভাকে দায়ী করার কোন যৌক্তিকতা নাই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মতামত