টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘বাবুর্চিকে কমিশন দিলেই পাম ওয়েল হয়ে যায় এক নম্বর ঘি’

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই  প্রতিনিধি 

imagesচট্টগ্রাম, ১৫ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):  ঘি, দুধ ছাড়া যা তৈরি করা সম্ভব নয়।বর্তমান বাজারে রসনার অন্যতম খাদ্যদ্রব্য তৈরি হচ্ছে দুধ ছাড়াই। হাল সময়ে ভেজিটেবল ঘি নামের একটি রসনা উপকরণ বাজারে আসলেও তা ভেজালে ভরা। মুলত পামওয়েল, সয়াবিন, রং ও ঘি এর থ্রি ফ্লেভার মিশ্রিত করে তৈরি করা হচ্ছে ভেজিটেবল ঘি। আর বাবুর্চিকে কমিশন দিলেই এসব রং মিশ্রিত পামওয়েল ঘি হয়ে যায় এক নম্বর ঘি। মিরসরাই উপজেলায় নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থাগুলো এসব ভেজাল ঘি এর বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা না নেয়ায় পার পেয়ে যাচ্ছে ভেজাল ঘি উৎপাদন ও বিক্রির সাথে জড়িতরা। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় এখন ভেজাল ঘি’তে সয়লাব। খাঁটি ঘি’য়ের তুলনায় ভেজাল ঘি’তে লাভ কয়েকগুন বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের গছিয়ে দিচ্ছেন ক্ষতিকারক এসব ঘি। ফলে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার প্রায় সব হাটবাজার এখন ভেজাল ঘি’তে ছেয়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের অধিক মুনাফা লাভের প্রবত্তি ও লোভকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এসব ঘি। আর বাজারে খাঁটি ঘি না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেকেই এ ভেজাল ঘি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়ি। তা দিয়ে ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে নানান মুখরোচক খাবার। যা খেয়ে ধীরে ধীরে দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। অধিকাংশ মানুষ জানতেও পারেন না যে, বাজার থেকে কিনে আনা এই ঘি’তে থাকা ভেজালের কারণে তিনি সুস্থ শরীর হারিয়ে অসুস্থ রোগীতে পরিণত হচ্ছেন। এদিকে সাধারণ ক্রেতারা জানান, বাজারে এখন অসংখ্য ব্র্যান্ডের ঘি পাওয়া যাচ্ছে। এসব ঘি’য়ের মধ্যে কোনটি খাঁটি-কোনটি ভেজাল তা বোঝা তাদের পক্ষে সম্ভব না হওয়ায় দোকানিদের উপর আস্থা রাখেন। তারা যে ঘি ভালো বলে জানায় সেটি কিনে নিয়ে যান। বাড়িতে নিয়ে যাবার পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বুঝতে পারেন যে কিনে আনা ঘি’ ভালো মানের নয়। তখন আর কিছুই করার থাকে না। টাকাটা লোকসান দিয়ে দরকার হলে আবারো নতুন কোন ব্র্যান্ডের ঘি ক্রয় করেন। অনেক সময় পরে নিয়ে যাওয়া সেই ঘি’ও ভেজাল বলে বুঝতে পারেন। এতে হতাশ হওয়া ছাড়া তাদের কিছুই করার থাকে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যে কোন অনুষ্ঠানে রান্নার জন্য বাবুর্চিকে ঠিক করা হয়। আর রান্নায় কোন ঘি ব্যবহার হবে সেটা বাবুর্চি ঠিক করে দেন। ব্যবসায়ীদের সাথে আঁতাত করে পামওয়েল ঘি এক নম্বর বলে চালিয়ে দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বারইয়ারহাট পৌর বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা ক্রেতাদের কাছে যখণ ঘি বিক্রি করি তখন একটি টোকেন রেখে দি বাবুর্চির জন্য। বাবুর্চি রান্না শেষে ঘি এর প্যাকেটের একটি অংশ দোকানে নিয়ে আসেন। টোকেনের সাথে মিলিয়ে মূল্যের অর্ধেক কমিশন দিয়ে দেয়া হয়। আমরা এভাবে ঘি বিক্রি করতে আগ্রহী নয় তারপরও বাবুর্চি ছাড়া তো বিক্রি সম্ভব নয়। আমার দোকান থেকে না ক্রয় করলে অন্য দোকান থেকে ক্রয় করবে।

এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়া আহম্মেদ সুমন বলেন, ভেজাল ঘি বিক্রি হচ্ছে এ ধরনের কোন অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। তারপরও আমরা বিভিন্ন দোকানে ভেজাল ঘি বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবো।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

One comment

  1. ভাই, টিএনও, ইউএনও এর কাছে গিয়ে লাভ নেই । পাবলিকের গনহারে মাইর ছাড়া উপায় নেই । বাবুর্চিকে কাছে থেকে দেখিছি, কি জগন্য পণ্যকে ভালো পণ্য বলে সাপোর্ট দিচ্ছে । আর বাবুর্চির তালিকায় লিখিত ব্রান্ডের পণ্য না আনলে ১নং পণ্য হয়ে যায় ২নং ।

মতামত