টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চকলেট বেচে ইতালির শীর্ষ ধনী

mচট্টগ্রাম, ১৪  নভেম্বর (সিটিজি টাইমস): মিশেল ফেরেরোবিশ্বখ্যাত চকলেট ব্যবসায়ী মিশেল ফেরেরো এ বছরের গোড়ার দিকে ৮৯ বছর বয়সে মারা যাওয়ার সময় ছিলেন ইতালির সেরা ধনী। ২০০৮ সালে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট বার্লুসকোনিকে পেছনে ফেলে সেরা ধনী হন।

চকলেটের ব্যবসার সুবাদে তাঁর মোট ধনসম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ১৭ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৭০০ কোটি পাউন্ড স্টার্লিং, যা বাংলাদেশের ২ লাখ ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সমান। এই অর্থ বাংলাদেশের চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের এক বছরের জাতীয় বাজেটের (২ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা) দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি।

মিশেল ফেরেরোকে বলা হতো বিশ্বের সবচেয়ে খামখেয়ালি, হেঁয়ালিপূর্ণ ও রহস্যময় চকলেটবিক্রেতা। তাঁর আবিষ্কৃত চকলেটগুলোর মধ্যে রয়েছে নিউটেলা, কিন্ডার সারপ্রাইজ, ফেরেরো রোচার, টিক ট্যাক ইত্যাদি। এসব পণ্য দ্রুত দেশে দেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, যা তাঁকে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের কাতারে নিয়ে যায়।

ইতালির উত্তরাঞ্চলে আল্পস পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত আলবা শহরে ছিল মিশেলের ফেরেরো চকলেট ফ্যাক্টরি বা কারখানা। দুনিয়াজুড়ে ফেরেরো চকলেটের জনপ্রিয়তা দেখে বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠে। তারা গুণমানসম্পন্ন এই চকলেট তৈরির গোপন কৌশল চুরি করতে স্পাই বা গোয়েন্দা পর্যন্ত নিয়োগ করে।

তবে মিশেল ছিলেন আরও অনেক বেশি চালাক ও সতর্ক। তিনি চকলেট তৈরির রেসিপি বা প্রণালি আরবিতে অনুবাদ করে তা মিসরের রাজধানী কায়রোতে নিয়ে সুবিধাজনক জায়গায় লুকিয়ে রাখেন। আর ল্যাবরেটরি ছিল পার্শ্ববর্তী মোনাকোর মন্টে কার্লোতে। সেখান থেকে তিনি প্রতিদিন হেলিকপ্টারে চড়ে আলবার কারখানায় আসতেন। একই সঙ্গে তাঁর কারখানায় যেকোনো দর্শনার্থীরই প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ।

তবে যুগ যুগ ধরে বাইরের লোকজনের প্রবেশ নিষেধ থাকলেও অবশেষে ওই কারখানায় ঢুকে সেটির উৎপাদন প্রক্রিয়াসহ বিস্তারিত জানার সুবর্ণ সুযোগটি পেয়েছেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেইলঅনলাইনের সাংবাদিক হানাহ্ বার্টস। কারখানাটিকে নিয়ে তাঁর লেখা ছাপা হয় গত মঙ্গলবার।

মেইলঅনলাইনের প্রতিবেদনে উঠে আসে ফেরেরো চকলেট ফ্যাক্টরির সাফল্যের যত অবিশ্বাস্য ইতিহাস। এটি প্রতিষ্ঠা করেন মিশেলের ভাই পিয়েত্রো। তাঁরা উত্তর-পশ্চিম ইতালির এক চকলেটখামারি কৃষকের সন্তান। ১৯৩৩ সালে একটি বেকারি খোলার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁদের ব্যবসা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। যুদ্ধ শেষে আবার শুরু হয় ব্যবসা।

মিশেল ১৯৫৭ সালে কোম্পানির নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত হন। তখন তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের সন্তানদের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে না পারব, ততক্ষণ আমি বিশ্রাম নেব না।’ তাঁর কারখানার কর্মীদের কখনো দাবি আদায়ের জন্য ধর্মঘট করতে হয়নি।
১৯৬০-এর দশকে তিনি কিন্ডার, নিউটেলা ও টিক ট্যাক আবিষ্কার করেন। ১৯৭০-এর দশকে পকেট কফি চকলেট ও ১৯৮০-এর দশকে ফেরেরো রোচার নিয়ে আসেন।

মিশেল জীবনে কখনো সংবাদপত্রে সাক্ষাৎকার দেননি। এ সম্পর্কে তাঁর মতাদর্শ ছিল, ‘কারও নাম কেবল জন্ম ও মৃত্যুর দিনেই পত্রিকায় ছাপা যেতে পারে।’

১৯৭০ সালের দিকে খেলনার দোকান ছিল খুবই কম। তাই মিশেল কিন্ডার চকলেটের ভেতরে নানা ধরনের ক্ষুদ্র খেলনা ঢুকিয়ে দিলেন। এতে শুরু হলো নতুন বাজিমাত। বদৌলতে ফেরেরো এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম খেলনা প্রস্তুতকারী কোম্পানি।

মিশেলের শেষকৃত্যে ৬০ হাজার মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে বিশ্বের বেশ কয়েকজন প্রধানমন্ত্রী এবং রাজপরিবারের লোকেরাও ছিলেন।

শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে তাঁর ছোট ছেলে জিওভানি বলেন, ‘বাবা সব সময়ই মানুষের জন্য একটি কারখানা চেয়েছিলেন, কারখানার জন্য মানুষ চাননি।’-মেইল অনলাইন অবলম্বনে/প্রথম আলো

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত