টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বোয়ালখালীতে ১৪ দলের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় অবশেষে মামলা

বোয়ালখালী প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ১৩  নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):  চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ১৪ দলের গাড়ীবহরে হামলার ঘটনায় অবশেষে ২০দিন পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. আব্দুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে আজ বোয়ালখালী থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

জানা যায়, বোয়ালখালীতে পূজামন্ডপ পরিদর্শনের সময় ১৪ দলের গাড়ি বহরে হামলা ও গুলি চালায় স্থানীয় মান্নানের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত। এ হামলায় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন, উপজেলা জাসদের সভাপতি হাজী মনছপ আলী ও মো. আবুল কালাম গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনা দীর্ঘ প্রায় ১মাস পর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. আব্দুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে আজ বোয়ালখালী থানায় বিএনপি নেতা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হামিদুল হক মান্নানকে প্রধান ও ১৯ জনের নামের উল্লেখ করে বোয়ালখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

হামলার শিকার জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কাদের সুজন বলেন, আমরা পূজাম-প পরিদর্শন শেষে পার্কিং থেকে গাড়ীতে উঠার সময় পূর্বকল্পিতভাবে আমাদের গাড়ীবহর ঘিরে ফেলে মাদকস¤্রাট মান্নান ও কিলার ওসমানের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এসময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে দুর্বৃত্তরা কড়লডেঙ্গার পাহাড়ে দিকে চলে যায়। যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা ৪ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে বলে জানিয়েছেন উপজেলা জাসদের সভাপতি হাজী মনছফ আলী ও জাসদ নেতা শ্যামল বিশ্বাস।

উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় এমপির ছোট ভাই মনির উদ্দিন খান বলেন, হামলার ঘটনা জানিয়ে পাশ্ববর্তী পূজাম-পে দায়িত্বরত পুলিশকে খবর দিলেও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করলেও আমাদের ডাকে সাড়া দেয়নি। ঘটনার প্রায় একঘন্টা পর বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সামশুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যায়।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, কড়লডেঙ্গা ঋষিমঠ এলাকার একটি পূজামন্ডপ পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পার্কিং থেকে গাড়ি বের করার সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হামিদুল হক মান্নানের সাথে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল ওয়াদুদ এর মৃদু বাকবিত-ের জেরধরে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল কাদের সুজনের মাথায় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা। এদের এলাপাতাড়ি হামলায় মানুষ দিকবিদিক ছোটাছুটি করে। হামলায় আব্দুল কাদের সুজনসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়।

দলীয় সুত্রে জানিয়েছে পূজাম-পে হামলার ঘটনায় চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে আব্দুল কাদের সুজনের মাথায় ১টি ও আবুল কালামের মাথায় ৪টি সেলাই করা হয়েছে।

ঘটনার দিন খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (পটিয়া সার্কেল) মোহাম্মদ শামীম, সহকারি কমিশনার (ভূমি) দেওয়ান মো. তাজুল ইসলাম ও বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শামছুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে একাধিক নেতাকর্মির সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার প্রায় একমাস পেরিয়ে গেলেও হামলাকারিদের গ্রেপ্তার না করায় বোয়ালখালী মহাজোট তৃণমূল নেতাকর্মিদের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। বোয়ালখালী থানার ওসি শামছুল ইসলামের ইন্ধনে সরকার দলীয় লোকজনের গাড়ীবহরে মাদকস¤্রাট মান্নানের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মিরা এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগও করেন তারা।

দলীয় সুত্রে আরো জানায়, কড়লডেঙ্গার পাহাড়ের মাদকের বিশাল সিন্ডিকেটের হোতা ও থানার অর্থ যোগান দাতা হামিদুল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পটিয়া, বোয়ালখালী, বাকলিয়া ও কোতয়ালী থানায় হত্যা চেষ্টা, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মামলা রয়েছে এবং সে একসময়ের বোয়ালখালীর ত্রাস নিখোঁজ বাচা চেয়ারম্যান প্রকাশ-বাচার ছোট ভাই।

উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও মামলার বাদী আব্দুল ওয়াদুদ জানান, ঘটনার দিন দুপুরে মান্নানেরা পাশ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিএনপি-জামায়াতের কর্মিদের সংগঠিত করে বিশাল আকারে মধ্যহৃ ভোজের আয়োজন করে। তারা সংগঠিত হওয়ার কথা থানার ওসিকে অবহিত করলেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সেদিন থানার ওসির সহায়তায় আমাদের উপর এ পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটায়।

এদিকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন সহ বোয়ালখালীতে ১৪ দলের নেতাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজুর রহমান। তারা অনতিবিলম্ব হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের জোর দাবী জানান।

এ ব্যাপারে বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শামছুল ইসলাম মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মামলার ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত: গত ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন, উপজেলা জাসদ সভাপতি মনছপ আলী, সাধারণ সম্পাদক মনির খানের নেতৃত্বে ৪টি হাইস, ১টি পিকআপ ভ্যান ও ১৫/২০টি মোটর সাইকেলের গাড়ি বহর নিয়ে পূজামন্ডপ পরিদর্শনে গেলে উপজেলার কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের উত্তরভূষি ঋষি মঠ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

মতামত