টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বারইয়ারহাট পৌরসভাঃ আওয়ামী লীগ বিএনপির একাধিক প্রার্থী দলের সমর্থন পেতে মরিয়া

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই  প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ১৩  নভেম্বর (সিটিজি টাইমস): উত্তর চট্টগ্রামের অন্যতম বানিজ্যকেন্দ্র হিসেবে বারইয়ারহাট পৌরসভার গুরুত্ব সবার কাছে বেশি। ফেনী জেলার সীমানা পার হলেই চট্টগ্রামের গেইটওয়ে বারইয়ারহাট পৌরসভা। নির্বাচনী তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি। তার আগেই পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নির্বাচনী আমেজ। এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে একাধিক মনোনয়ন-প্রত্যাশী প্রার্থিতা লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। এসব মনোনয়ন-প্রত্যাশী এলাকায় দলের নেতাকর্মীদের কাছে টানতে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। পাশাপাশি জনগণের সাথেও সখ্যতা বাড়াতে কাজ করছেন। তাছাড়া দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের ঘোষণাকে মাথায় রেখে দলের প্রতি আগের চেয়ে বেশি সমীহ হয়ে হাইকমান্ডের সাথেও বাড়তি যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। আওয়ামীলীগ বিএনসপিসহ অন্যান্য দলের সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা ব্যস্ত মন্ত্রীর মনজয় করতে।

পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে এবং পোষ্টারের মাধ্যমে জনগনকে শুভেচ্ছো জানিয়ে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই দলের মধ্যে মেয়র পদে সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থী থাকায় প্রার্থী নির্বাচনে দলের মধ্যে দ্বন্দের আশংকা রয়েছে। মেয়র পদে আগ্রহী গ্রার্থীদের নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষন।

আওয়ামী লীগ : আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ থেকে যেসব সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন : বর্তমান মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. আবু তাহের ভূঁইয়া, আওয়ামীলীগ নেতা মীর আলম মাসুক, বারইয়ারহাট পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা নিজাম উদ্দিন প্রকাশ ভিপি নিজাম, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা রেজাউল করিম খোকন, কেরানী বাড়ি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ফজলুল করিম লিটন।

প্রার্থিতা নিয়ে মেয়র আবু তাহের ভূঁইয়া বলেন, ‘নির্বাচন করবো এবং আমার বিশ্বাস আমার কাজের মূল্যায়ন করে দল আমাকেই মনোনয়ন দিবে।’
পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘দল থেকে মনোনয়ন চাইব। দলের অভিভাবক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন যে সিদ্ধান্ত দিবেন তা মেনে নিব।’

প্রায় একই রকম বক্তব্য সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম খোকনের। তিনি বলেন, ‘মিরসরাইয়ের মাটি ও মানুষের নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন যে সিদ্ধান্ত দেবেন তা মেনে কাজ করবো।’

মীর আলম মাসুক বলেন, ‘জনগণের কল্যাণে কাজ করতে প্রতিদ্বদ্বিতা করবো। এখন লক্ষ্য একটাই জনগণের কাছে পৌঁছানো।‘জনপ্রতিনিধি হয়ে মানুষের সেবা করতে নির্বাচন করবো। দলের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা রাখবো।’

আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতা মীর আলম মাসুক, ভিপি নিজাম উদ্দিন ও রেজাউল করিম খোকন।

বিএনপি : মিরসরাইয়ে বড়ই ক্রান্তিকাল পার করছেন বিএনপির নেতারা। বারইয়ারহাট পৌর নির্বাচনে বেশ কয়েকজন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও আদৌ বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিবে কি না তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। হামলা-মামলায় জর্জরিত নেতারা তবুও দলের হয়ে মনোনয়ন চাইবেন এমন কথা জানিয়েছেন।

বর্তমানে যেসকল প্রার্থী বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে তারা হালেন, ‘বারইয়ারহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র জালাল উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান চট্টগ্রাম উত্তরজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মঈন উদ্দিন লিটন ও বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী। তারা সকলেই দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন এমনটিই নিশ্চিত হওয়া গেছে।

দিদারুল আলম মিয়াজী জানান, ‘দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো। দলের সিদ্ধান্ত মেনে কাজ করবো। আমার বিশ্বাস দল আমাকে সমর্থন দিবে। কারণ দলের দূর্দিনে আমি নেতা-কর্মীদের সাথে রয়েছি। এছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আমি বেশকিছু মামলা নিয়ে আদালতে আত্মসমর্পন করে ৩ মাস কারাভোগের পর বর্তমানে জানিয়ে বেরিয়ে আসি। নির্বাচন করতে আমি প্রস্তুত রয়েছি।’ সাবেক মেয়র জালাল উদ্দিন বলেন, ‘দল যদি নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো। সেক্ষেত্রে দল যদি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয় তাহলে তাঁর পক্ষে কাজ করবো।’

বিএনপি নেতা মঈন উদ্দিন লিটন বলেন, ‘গতবারও নির্বাচন করেছি। এবারও করবো। গতবার জনগণ আমাকে ভোট দিলেও ভোট বাক্স লুট করে নিয়ে গেছে। এবার অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নিব, দল আমাকে সমর্থন দিবে এবং ইনশাল্লাহ জয়লাভ করবো।’

এদিকে আওয়ামীলীগ বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকলেও জামায়াতের রয়েছে একক প্রার্থী। বারইয়ারহাট পৌরসভায় জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুইবারের নির্বাচিত বর্তমান কাউন্সিলর নুরুল হুদা হামিদীর নাম শুনা যাচ্ছে। এলাকায় তার জনপ্রিয়তা ও ভালো ইমেজ রয়েছে। দলীয় প্রতিকে নির্বাচন অংশ নিতে না পারলেও স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন হামিদী। নুরুল হুদা হামিদী বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ ভালো থাকলে মেয়র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করার সীদ্ধান নিয়েছি। তবে সেটা পরিবেশ পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে।

পৌরসভা পরিচিতি : ২০০০ সালে তৃতীয় শ্রেণী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত বারইয়ারহাট পৌরসভা বর্তমানে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। তবে এখনো হয়নি চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই পৌরসভার নিজস্ব ভবন। ২ দশমিক ১২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের বারইয়ারহাট পৌরসভায় মোট ভোটার ৬ হাজার ৬শ’ ২৯ জন। হালনাগাদ যুক্ত হলে প্রায় ৮ হাজার ভোটার এবারের নির্বাচনে ভোট প্রদান করবে। তবে প্রথম শ্রেণীর এই নগরীতে গড়ে ওঠেনি উন্নত সড়ক (যোগাযোগ ব্যবস্থা), টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বাস্তবায়ন হয়নি নগরায়নের পরিকল্পনা। তবে চলতি বছর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এই পৌরসভাকে মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আনে। তবে এটি গেজেট আকারে এখনো পাশ হয়নি। এছাড়া এটি উত্তর চট্টগ্রামের সবচে বহৎ বাণিজ্যিক এলাকা হলেও উন্নয়নের দিক দিয়ে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। এছাড়া আয়তনের দিক দিয়ে সবচে ক্ষুদ্র পৌরসভা এটি। যাতে নেই শিশুদের বিনোদনের পার্ক, পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট, সরকারি হাসপাতাল ও পরিকল্পিত টার্মিনাল। বর্তমানে বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. আবু তাহের ভূঁইয়া।

এখানকার নাগরিকদের বক্তব্য, বিগত নির্বাচনগুলোতে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দিয়ে জনগণের ভোট আদায় করে পরে তা বেমালুম ভুলে গেছেন নির্বাচিতরা। এবার সে ভুল আর করা যাবে না। যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিকে নির্বাচিত করে প্রাণের নগরীকে বাঁচাতে হবে।

বারইয়ারহাট পৌর নির্বাচন নিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, আওয়ামীলীগ বড় দল, তাই মনোনয়ন অনেকেই চাইতে পারে। তফসিল ঘোষনা করা হলে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত নিয়ে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান (সাময়িক বরখাস্তকৃত) ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বলেন,সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারনা ও গনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয়ভাবে প্রার্থী নির্বাচনের ব্যাপারে কোন নির্দেশনা কেন্দ্র থেকে আসেনি। আসলে সে প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত হবে। সেক্ষেত্রে দলের ত্যাগী নেতাদের মূলায়ন করা হবে।

মতামত