টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে চায় বিএনপি

চট্টগ্রাম, ১২ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):  প্রথম দিকে বিরোধিতা করলেও শতসাপেক্ষে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বিএনপির মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এ আগ্রহের কথা জানান।

তিনি গণতন্ত্র ও দেশের বৃহত্তম স্বার্থে রাজনৈতিক সমঝোতার পথ বেছে নিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

স্থানীয় সরকার বিল এখনো বিএনপি পর্যবেক্ষণ করছে জানিয়ে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘প্রস্তাবিত দলীয় প্রতীকে এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনে অনেক অসমাঞ্জস্য রয়েছে। এসব নিয়ে আমাদের দল ও নাগরিক সমাজ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও সরকার এতে কোনো পাত্তা না দিয়ে নিজেদের ভাবনা অনুযায়ী একগুঁয়েমি নীতি নিয়েই অগ্রসর হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দল মনে করে, বর্তমান আজ্ঞাবাহী এই নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে কোনোভাবেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করানো সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক সময়ের ঢাকা-চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনই তার বড় প্রমাণ।’

বিএনপির কাউন্সিল এবং আগামী পৌর নির্বাচনে বিএনপিকে বাধাগ্রস্ত করতে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে অভিযোগ এনে দলের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, সারাদেশে নতুন করে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর তল্লাশি করা হচ্ছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় তিন সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে গত কয়েকদিনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এমনি একটি প্রেক্ষাপটে সরকার হঠাৎ করেই দলীয় মনোনয়ন ও দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি বিল সংসদে উত্থাপন করেছে। যে সংসদ গত ৫ জানুয়ারি বিনাভোটের নির্বাচনে গঠিত হয়েছিল এবং যার ১৫৪ সদস্যই বিনাভোটে নির্বাচিত বলে গণ্য হয়েছেন।’

রিপন বলেন, ‘বিএনপি আগেও বলেছে দলীয় প্রতীকে মনোনয়নে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে সমাজ আরো বিভাজিত হয়ে পড়বে। সেই সঙ্গে রাজনীতির বাইরে যেসব সমাজসেবী এসব নির্বাচনে অংশ নিতেন তাদের অংশগ্রহণ আর সম্ভব হবে না।’

তিনি বলেন, ‘সরকার যদি সত্যিই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হোক এটা চায় তাহলে অবশ্যই সরকারকে গ্রেপ্তারদের মুক্তি দিতে হবে এবং সকল ধরনের দমন নিপীড়নের কৌশল থেকে সরে আসতে হবে। আর তা না হলে অনুষ্ঠিতব্য আগামী পৌর নির্বাচন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতোই প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং দেশে-বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি আরো ক্ষুণ্ন হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সরকারকে এ অপরাজনীতির কৌশল থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। গ্রেপ্তার সকল নেতাকর্মীকে মুক্তি দিতে আহ্বান জানাচ্ছি। ধরপাকড় বন্ধ করারও আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। আশা করব চলমান রাজনৈতিক সংকটকে উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন।’

মতামত