টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

শেক্সপিয়ার লিভস্- ‘এ ডিফরেন্ট রোমিও-জুলিয়েট’ মঞ্চায়ন করবে ব্রিটিশ কাউন্সিল

 bচট্টগ্রাম, ১২ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):  আগামী বছর ব্রিটিশ কাউন্সিলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শেক্সপিয়ার লিভস্। শেক্সপিয়ারের ৪শ’ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে বিশ্বব্যাপী এ আয়োজন উদযাপিত হবে। শেক্সপিয়ারের শিল্পভাষ্যের মাধ্যমে সংস্কৃতির বিনিময়ের ধারাকে উদ্ভাসিত করবে শেক্সপিয়ার লিভস্। ২০১৬ জুড়ে সত্যিকার অর্থে বিশ্বব্যাপী শেক্সপিয়ারের জীবন ও কাজকে উদযাপন করার জন্য শেক্সপিয়ার লিভস্ কাজ করবে।

এ অনুষ্ঠান উপলক্ষে আগামী বছর ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী তরুণ শিল্পীদের নিয়ে যুক্তরাজ্যের গ্রেয়াই থিয়েটার ও বাংলাদেশের ঢাকা থিয়েটারের সাথে যৌথভাবে শেক্সপিয়ারের ‘রোমিও-জুলিয়েট’ নাটকটি মঞ্চস্থ করবে। আজ ফুলার রোডে অবস্থিত ব্রিটিশ কাউন্সিল কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ডিরেক্টর বারবারা উইকহ্যাম ও ডেপুটি ডিরেক্টর ম্যাট পিউসি। ব্রিটিশ কাউন্সিলের সাথে এ উদ্যোগের সাথে ব্র্যাকসহ আরও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

ব্রিটিশ কাউন্সিল অভিনব এ উদ্যোগটির নাম দিয়েছে ‘এ ডিফরেন্ট রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’। নাটকটিতে যৌথভাবে নির্দেশনা দিবে গ্রেয়াই থিয়েটারের আর্টিস্টিক ডিরেক্টর জেনি সিলি ও ঢাকা থিয়েটারের ডিরেক্টর নাসির উদ্দীন ইউসুফ। সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন ফর দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি) বাংলাদেশ, ব্র্যাক, বাংলাদেশ রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ ফর ডেভেলপমেন্ট, গভর্নেন্স অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট (ব্রিজ) অ্যান্ড গ্রাম থিয়েটার থেকে প্রতিবন্ধী শিল্পীরা এ নাটকে অংশ নিবেন।

এ প্রকল্পের লক্ষ্য আগামী মার্চ মাসে জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে এ নাটকের মঞ্চায়ন করা। সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত নাটকটির দর্শক সারিতে উপস্থিত থাকবেন নীতি-নির্ধারক, প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করে এমন সব সংস্থার লোকজন এবং শিল্পমোদীরা। ব্রিটিশ কাউন্সিল এ প্রকল্প নিয়ে খুবই আশাবাদী। তারা ভবিষ্যতেও এটা ধারাবাহিকভাবে করতে চায়। ঢাকায় মঞ্চায়নের পর নাটকটি আরও পাঁচটি শহরে মঞ্চায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, দেশব্যাপী দর্শক টিভিতে নাটকটি দেখবে, নাটকের পুরো ভ্রমণ নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মিত হবে যা আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শিত হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ অনুষ্ঠানটি ৫ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটি নিয়ে জেনি সিলি বলেন, আমি বাংলাদেশে বধির ও অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের মধ্যে প্রতিভা অণে¡ষণের এ যাত্রার অংশ হতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। এ প্রকল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেননা বধির ও স্বাভাবিক দৃষ্টিতে অক্ষম মানুষেরা কি করতে পারে এ নিয়ে মানুষের ধারণা বদলে দিবে এ প্রকল্প। বিশ্বের অনবদ্য প্রেমাখ্যান ‘রোমিও-জুলিয়েট’ মঞ্চায়নে অংশ নিবে এসব শিল্পী। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা নতুন একটি পৃথিবী তৈরি করব যেখানে সবারই ভালোবাসার এবং ভালোবাসা পাওয়ার অধিকার থাকবে।

নাসির উদ্দীন ইউসুফ তার বক্তব্যে বলেন, শেক্সপিয়ারের কাজ সময় ও সংস্কৃতির সীমা পেরিয়ে গেছে। তাঁর কাজের ওপর ভিত্তি করে গড়া এ প্রকল্পের লক্ষ্য ভাবনার উদ্রেক করে এমন বার্তার মাধ্যমে একটি বৃহৎ দর্শক শ্রেণির সাড়া পাওয়া। আর এমন একটি প্রকল্পের সাথে জড়িত থাকতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংস্কৃতি মঞ্চে ‘রোমিও-জুলিয়েট’র শাশ্বত কাহিনিকে সবার সামনে উপস্থাপন করবে অত্যন্ত মেধাবী তরুণ প্রতিবন্ধী শিল্পীরা। তারা সবাইকে দেখিয়ে দিবে যে ইচ্ছা, পরিকল্পনা ও অনুশীলনের বলে সব বাঁধাকেই জয় করা যায়। ভিন্নভাবে চিন্তা করার জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলকে ধন্যবাদ।

ব্রিটিশ কাউন্সিল ২০১৩ সালে এ প্রকল্প শুরু করে। প্রতিবন্ধীদের ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিয়ে তাদেরকে নিয়ে অভিনয় কর্মশালা পরিচালনা করে আসছে সংস্থাটি। প্রতিবন্ধীরা যাতে তাদের নিজেদের পরিচয় তুলে ধরে তাদের সামাজিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করতে পারে ও নিজেদের যোগ্যতার সমৃদ্ধি ঘটাতে পারে এজন্য প্রতিবন্ধীদের ক্ষমতায়ন ঘটানো এ প্রকল্পের লক্ষ্য। ঢাকা থিয়েটার ও জেনি সিলি আলাদাভাবে দু’ বছর কর্মশালা পরিচালনার পর ব্রিটিশ কাউন্সিলের সাথে অংশিদারিত্বে এ প্রকল্পে কাজ শুরু করে এ প্রকল্পকে আরও বেশি সম্ভাবনাময় করে তোলার জন্য। এ কর্মশালার জন্য সম্ভাবনাময় ১৭জন অংশগ্রহণকারী নির্বাচন করা হয় যারা আগামী মার্চ মাসে নাটকটি মঞ্চস্থ করতে পারবে।-প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত