টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সংবাদ প্রকাশের পর সিদ্ধান্ত: ভেঙ্গে ফেলা হবে ৩ বছর পর রাউজানের আমির মাকের্ট

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি 

Raozan-amir-market-picচট্টগ্রাম, ১২ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস): ঝুকিঁপূর্ণ হওয়ার সংবাদ দৈনিক প্রত্রিকা ও অনলাইনে প্রকাশের পর চট্টগ্রামের রাউজানের নোয়াপাড়া পথেরহাটের প্রাচিন আমির মার্কেট ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণের জন্য দফায় দফায় ব্যাবসয়ীদের সাথে বৈঠক করেছেন মালিক পক্ষ। কিন্তু দ্রুত মার্কেট ভেঙ্গে নতুন করে মার্কেট নিমার্ণে যেতে ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে পড়েছিল মালিক পক্ষ। দ্রুত মার্কেট ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণে মালিক পক্ষ উদ্যোগ নিলে ব্যবসায়ীরা আরো ১০ বছর সময় চেয়ে আবেদন করেন। এখানকার ব্যবসায়ীদের মাঝে মাকের্ট নতুন করে নিমার্ণে আতঙ্ক বিরাজ করলেও মালিক পক্ষ ঝূঁিক এড়াতে তাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। কিন্তু মালিক পক্ষ এত সময় নিয়ে ঝুঁিক নিতে নারাজ।

সর্বশেষ গত ১০ নভেম্বর বুধবার ব্যবসায়ীদের ডেকে পূনারায় সিদ্ধান্ত নিতে গেলে ব্যবসায়ীদের অনুরোধে মার্কেট ভেঙ্গে নতুন করে নিমার্ণে যেতে আরো ৩ বছর সময় দিতে বাধ্য হন।

জানাগেছে উপজেলার নোয়াপাড়া পথেরহাট বাজারের প্রাচীন এ মার্কেটটিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২৫০ দোকানের খুচরা ব্যবসায়ী। মার্কেট ভেঙ্গে ফেলা হলে এতগুলো ব্যবসায়ী মার্কেট নির্মাণকালীন বেকায়দায পড়ে যাবে। তাদের আয় রোজগার বন্ধ হয়ে যাবে।

মালিক কর্তৃপক্ষ বলছে ঝুর্কিঁপূর্ণ হওয়ায় মার্কেটটি ভেঙ্গে নতুন করে মার্কেট নির্মাণ করা হবে। নির্মাণ হওয়ার পর পুরনো ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে।

মার্কেটের মালিক পক্ষের মধ্যে শরাফত উল্লাহ বাবুল, জসিম উদ্দিন আমির ও নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা চেয়েছিলাম শীঘ্রই এ মার্কেট ভেঙ্গে নতুন মার্কেট নির্মাণে যেতে কিন্তু ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে আরো ৩ বছর সময় নিতে বাধ্য হই। কারণ মার্কেটে আমরা কোন ধরনের দুর্ঘটনার ঝুকিঁ নিতে চাইনা। ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক হয়েছে তারা ১০ বছর সময় চেয়েছে। তাই ৩ বছর সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মার্কেটের বিভিন্ন দোকানের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, গত কয়েকমাস আগে থেকে এখানকার ব্যবসায়ীরা মার্কেট ভেঙ্গে ফেলা হবে এমন খবর পেয়ে আতঙ্কিত হয়েছেন। কারণ এখানকার অনেক ব্যবসায়ী বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও ঋণ প্রদান সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রেখেছেন। হঠাত যদি মার্কেট ভাঙ্গা হয় তাহলে ব্যবসায়ীরা যাবেন কোথায়?

পাশাপাশি অনেক ব্যবসায়ীর একমাত্র উপার্যন মাধ্যম হচ্ছে এ মার্কেটের তাদের দোকানটি। হঠাত যদি মার্কেট ভেঙ্গে ফেলা হয় তাহলে ব্যবসায়ী চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। তাদের দাবী আরো ১০ বছর সময় দেওয়া হোক। এসময়টাতে ব্যবসায়ীরা তাদের লেনদেন দেনা পাওনা গ্রাহক থেকে গুছিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু মালিক পক্ষ এত সময় নিতে নারাজ।

এনিয়ে গত ১০ নভেম্বর বুধবার সকালে ২য় বারের মত আমির মার্কেট কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের সাথে পূনরায় বৈঠকে বসেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, মার্কেটের মালিক শফিক আহমদ, আলহাজ্ব নুরুল হক, শরাফত উল্লাহ বাবুল, জসিম উদ্দিন আমির, মে. নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মার্কেটের সকল ব্যবসায়ীরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, আলহাজ্ব শাহ আলম সওদাগর, এটিএম শামসুদ্দিন, মো. হাশেম, দিলীপ কুমার বড়ুয়া, নুরুল আলম সও, শাহ জালাল, এসকান্দর আলম সও. মীর আশেকুর রহমান, কামরুল ইসলাম বাবু, মো. কামাল উদ্দিন প্রমুখ।

বৈঠকে মালিক পক্ষ থেকে জানানো হয় মার্কেটটি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেছিল নোয়াপাড়া গ্রামের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা খায়েজ আহমদ চেয়ারম্যান, হাজী রশিদ আহমদ, শফিক আহমদ ও আলহাজ্ব নুরুল হক।

তারা জানান, দীর্ঘ ৩৮ বছর আগে আমাদের মুরব্বীদের হাতে প্রতিষ্ঠা করা এই মার্কেটটি এখন ঝুঁিকপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোন সময় দুঘর্টনা ঘটতে পারে। তাই ঝুঁিক এড়াতে আমরা চাচ্ছি ব্যবসায়ীদের সাময়িক অসুবিধা হলেও পুরাতন মার্কেটটি ভেঙ্গে নতুন করে মার্কেট নির্মাণ করার।

ব্যবসায়ীরা ১০ বছরের সময় চাইলেও আমরা এত সময় দিয়ে ঝুঁিক নিতে চাইনা। তবে ব্যবসায়ীদের চাপে পড়ে আলোচনার মাধ্যমে আমরা ৩ বছর সময় বেধেঁ দিই।

এ প্রসঙ্গে আমির মার্কেটের ফয়েজ ট্রেডার্সের মালিক ব্যবসায়ী এসকান্দর আলম বলেন, আমরা ১০ বছর সময় চাইলে মালিক কর্তপক্ষ আমাদের ৩ বছরের সময় বেঁেধ দিয়েছেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত