টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাউজানে বৃদ্ধা খুন: রাতের আধাঁরে নিরুদ্দেশ পুত্রবধু!

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি 

Raozan-Marder-pahartoli-(1)চট্টগ্রাম, ১১ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস): রাউজানে পাহাড়তলী ইউনিয়নের শাহদুল্লাহ কাজীপাড়ায় খুন হওয়া বৃদ্ধা নুর আয়েশার পুত্রবধূ সন্দেহের মধ্যে থাকা কুসুম আকতার (২৫) রাতের আধাঁরে হঠাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতের (শেষ সময়ে) কোন এক সময় নিজের একমাত্র শিশুকন্যাকে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। কুসুম আকতারের স্বামী মো. মুবিনের ধারণা হয়তো সে ঘাতক কামালের সাথে পালিয়েছে। এই ঘটনায় তিনি রাউজান থানা পুলিশ ও স্থানীয় পাহাড়তলী ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করছেন।

এব্যাপারে স্বামী মো. মুবিন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন ‘মা খুন হওয়ার পর থেকে ভয়ে আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে ছোট মামা আবুল হাশেমের ঘরে ছিলাম। সোমবার রাতে আমি অন্যকাজে বাইরে রাত যাপন করি। ওই রাতের শেষ দিকে সে মামার ঘর থেকে সবার অজান্তে কৌশলে দরজা খুলে আমার একমাত্র কন্যা সন্তান নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। সকালে তার বাবার বাড়ি নোয়াপাড়ায় খবর নিলে সেখানে সে যায়নি বলে নিশ্চিত করেন আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন।’ কি কারনে, কার সাথে যেতে পারে এরকম প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন আমার মনে হয়, হয়তো সে আমার মায়ের হত্যার সাথে জড়িত থাকতে পারে, আর সেজন্যে সে ওই ঘাতক কামালে সাথে পালিয়ে গেছে। এখন আমি কি করবো, আমার মেয়ের জন্যে আমার অন্তর পুড়ছে।’ ইউপি চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন বলেন ‘মুবিনের স্ত্রী নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে মুবিন আমাকে ও থানা পুলিশকে অভিযোগ দিয়েছে।’ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন ‘কুসুম আকতার যেখানে ছিল, সেখান থেকে নিরুদ্দেশ হয়েছে বলে শুনেছি। তবে নিরুদ্দেশ হওয়ায় কুসুম আকতার ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে বলে অনেকটা নিশ্চিত হতে পারছি। এব্যাপারে বৃদ্ধা নুর আয়েশা হত্যার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. নুরুন্নবী বলেন ‘স্বামী মুবিন ও এলাকার একটি পক্ষ বলছে গৃহবধূ কুসুম আকতার পালিয়েছে, আরেকটি পক্ষ বলছে, পুলিশ ডাকলে সে হাজির হবে-বিষয়টি স্পষ্ট করে কিছু বুঝা যাচ্ছেনা।

উল্লেখ্য যে, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে নিজ ঘরে খুন হন নুর আয়েশা। এ হত্যার বিষয়টি তার পুত্রবধূ কুসুম আকতার প্রায় ২৪ দিন গোপন রাখার পর ১৬ অক্টোবর বিষয়টি নিহতের পুত্র মুবিনের স্ত্রী কুসুম আকতার গোপন রহস্য ফাঁস করেন এবং খুনের প্রত্যক্ষদর্শি হিসেবে আদালতে বর্ণনা দেন। কুসুম আকতারের মতে নিহতের ভাতিজা শেখ কামাল ও তার অপর এক সহযোগি এই পূর্ব ক্রোধের জের ধরে এই খুনের ঘটনা ঘটায়। তবে অনেকে এ ঘটনার সাথে কুসুম আকতারও জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করে আসছে। এদিকে ঘটনা ফাঁস হওয়ার প্রায় ১৫ দিনের মাথায় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছ থেকে নিহত নুর আয়েশার লাশটি কবর থেকে উত্তোলনের জন্যে অনুমতি মেলে। দেড় মাস পর গত শুক্রবার সকাল ১০টায় বৃদ্ধা মহিলা নুর আয়েশার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়না তদন্ত শেষে পুণরায় দাফন করা হয়।

মতামত