টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফ্লাইওভারের যৌক্তিকতা জানতে চায় চট্টগ্রাম ফোরাম

Foramচট্টগ্রাম, ১১ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস): কোন যুক্তিতে চট্টগ্রামে উড়াল সেতু (ফ্লাইওভার)নির্মাণ করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছেন পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের নেতারা। তারা অভিযোগ করছেন, চট্টগ্রামে এই ধরনের প্রকল্পের কার্যকারিতা নেই এমন তথ্য-উপাত্ত ব্যাখ্যা-বিশ্নেষণ করে দেখালেও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) নির্মাণকাজ বন্ধ করছে না।

আজ বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ‘পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরাম’-এর এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। এতে ‘ফ্লাইওভার নির্মাণের যথার্থতা এবং পরিবহন খাতের উন্নয়নে চট্টগ্রামের দুর্দশা’ শীর্ষক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সহসভাপতি প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া।

২০১৪ সালের ২ জুন একই স্থানে একই বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটির নেতারা একই অভিযোগ করেছিলেন।

প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া বলেন, “বর্তমানে অকার্যকর প্রমাণিত হওয়া বহদ্দারহাটের উড়াল সেতু নির্মাণের সময় থেকে বিভিন্ন সময় আলোচনা সভা, বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলনে তথ্য-উপাত্ত ব্যাখ্যা-বিশ্নেষণ ও উপস্থাপনের মাধ্যমে সচেতন মহল চট্টগ্রাম মহানগরে উড়াল সেতু নির্মাণের অকার্যকারিতা সম্পর্কে বলে আসছে। কিন্তু এর পরেও এই সেতুগুলোর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি। তাই আমরা ওই বিষয়গুলোতে আলোচনার জন্য, উড়াল সেতু তৈরির পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কী যুক্তি রয়েছে তা জানতে চাই।”

সংবাদ সম্মেলনে উড়াল সেতুর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হয়, উড়াল সেতু কী উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হচ্ছে – যানজট নিরসন, নাকি শুধু উন্নয়নের মহোৎসব জনসাধারণের মাঝে দৃশ্যমান করানোর জন্য।

ভবিষ্যতে এই উড়াল সড়ক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন সুভাষ বড়ুয়া। তিনি বলেন, “উড়াল সেতুটি হয়ে গেলে ভবিষ্যতে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) ও মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) বাস্তবায়নের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। তখন এ উড়ালসেতুগুলো ভেঙে ফেলা ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা থাকবে না। কাজেই সঠিক ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করলে চলবে না।”

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের এক বক্তব্য সামনে এনে প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া বলেন, “মন্ত্রী বহদ্দারহাটের উড়াল সেতুর অকার্যকারিতা নিয়ে যা বলেছেন তার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু সেই মন্ত্রী আবার যখন বলেন লালখান বাজারের ফ্লাইওভারকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে, তখন আমরা শঙ্কিত হই। তারা কি এসব বুঝে-শুনে বলছেন, নাকি আবেগেতাড়িত হয়ে।”

সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া বলেন, “লালখানবাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত চট্টগ্রামের জনসংখ্যার কত শতাংশ যাতায়াত করে। বিমানেইবা কতজন যাতায়াত করে তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।” তিনি বলেন, “শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে চট্টগ্রামের মোট জনসংখ্যার শূন্য দশমিক ০২ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ লোক যাতায়াত করে। তাহলে এত কমসংখ্যক মানুষের জন্য এই বিশাল ব্যয় কিসের খাতিরে।”

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ফোরামের সভাপতি ও ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মুহাম্মদ সিকান্দার খান, সাধারণ সম্পাদক স্থপতি জেরিনা হোসেন, সহ সভাপতি প্রকৌশলী বিধান বড়ুয়া, সহসভাপতি এ বি এম এ বাসেত প্রমুখ।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত