টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

১৭ বছরেও কাংক্ষিত উন্নয়ন হয়নি সীতাকুণ্ড পৌর এলাকায়

মো. ইমরান হোসেন
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি 

sitaknd-poro-sobaচট্টগ্রাম, ১১ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস): এ গ্রেডে উন্নীত হলেও ১৭ বছরেও কাংক্ষিত উন্নয়ন হয়নি সীতাকুণ্ড পৌরসভা এলাকায়। ওয়ার্ড অনুযায়ী রাস্তা-ঘাট,ডাষ্টবিন-ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নালা-নর্দমা, পানি-গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ নাগরিক সুবিধা শুধু খাতা-পত্রে। আপাত দৃষ্টিতে কিছু রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন দেখা গেলেও সার্বিক উন্নয়ন হয়নি কোথাও। এরপরও বিভিন্ন দাতা সংস্থার অনুদানে গড়ে উঠা উন্নয়নকে প্রচার-প্রচারনায় হাক-ডাক তোলা হয় বারবার। পৌরকরসহ আয়ের বিভিন্নখাত থাকার পরও উন্নয়নে তেমন কোনো নজির সৃষ্টি করতে পারেনি পৌর প্রশাসকরা।

১৯৯৮ সালে ৩ নং ইউনিয়ন পরিষদকে পৌরসভা হিসেবে ঘোষনা করে সরকার। দীর্ঘ ১৭ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো প্রতিটি ওয়ার্ডের অধিকাংশ রাস্তা-ঘাট কাচা ও আধা-পাকা অবস্থায় রয়েছে। অন্যান্য নাগরিক সুবিধা তো নেই বললে চলে। অপরিকল্পিত ঘর-বাড়ি উঠায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপর্যাাপ্ত। যততত্র ঘর-বাড়ি তোলার অনুমোদনের ফলে অবরোদ্ধ হয়ে পড়েছে পানি নিস্কাশনের পথ। বর্ষার শুরুতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়ে পানির নিচে তলিয়ে যায় প্রতিটি এলাকা। নামে মাত্র লাগানো লাইটপোষ্টের সংস্কার না থাকায় সন্ধ্যা হতেই অন্ধকারে নেমে পড়ে গ্রাম গ্রামে। লোকবলের অভাবে ডাষ্টবিনগুলো পরিস্কার হয় সপ্তাহে দু-একবার। আবার সংস্কার অভাবে বিলিন হয়ে পড়েছে ভেঙে যাওয়া ডাস্টবিন। যথা সময়ে পরিষ্কার না হওয়ায় আবর্জনার র্দুগন্ধে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী।

সোবহানবাগ গ্রামের অধিবাসী মহি উদ্দিন বলেন, গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ সংলগ্ন ডাষ্টবিনটি দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ে রয়েছে। ময়লা-আবর্জনা ফেলার সুর্নিদিষ্ট জায়গার অভাবে যত্রতত্র ময়লা ফেলছে স্থানীয়রা। এ ময়লার র্দুগন্ধে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাড়িঁয়েছে।

৮১.৪০ কি.মি. রাস্তা, ২৫ টি ডাস্টবিন, ১০৫০ টি লাইটপোস্ট, ৩.৮৬ কি.মি. খাল, ব্রীজ ৬টি, ১৯০টি র্কালবাট রয়েছে। এসবের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা কাজে ২০ জন পরিচ্ছন্ন কর্মচারী, লাইটপোস্ট মেরামতে রয়েছেন ১জন কর্মী কর্মে নিয়োজিত রয়েছেন, যা জনসংখ্যার তুলানায় অপ্রতুল। সার্ভেয়ারের শূন্য পদে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মবর্হিবুত কাজ করছেন লাইসেন্স বিভাগের একজন কর্মচারী। এ সার্ভেয়ারের জগাখিচুড়ি মাপঝোপে বন্ধ হচ্ছে না জায়গা-জমির দন্ধ। ঠিকাদারী কাজে ঘনিষ্ট জনদের একক আধিপত্বে কুক্ষিগত হয়ে পড়েছেন ঠিকাদাররা। ফলে উন্নয়ন কাজ এক ব্যাক্তির মাধ্যমে চলতে থাকায় উন্নয়ন কাজে চলে অনিয়ম ও দুর্ণিতি। এছাড়া মেয়রদের একক সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক কর্মকান্ড পরিচালিত হওয়ায় কোনাঠাসা হয়ে পড়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মকান্ড। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অফিস করেন যেনতেনভাবে। ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারীরা যথা সময়ে অফিসে উপস্থিত হলেও ইঞ্জিনিয়ার বিভাগ ও হিসাব রক্ষক পদের কর্মকর্তারা অফিস করেন নিজেদের সময়ে। এ ধরনের ইচ্ছা মাফিক কাজের ফলে নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত হয়ে শুধুমাত্র করের বোঝা বহন করতে হচ্ছে পৌরবাসীকে। দেখা যায় নাগরিকের আয় ব্যায়ের হিসাব নিকাশ ছাড়া বাড়তে থাকে বছর বছর দ্বীগুন করের বোঝা। এরপরও কর দিয়ে প্রর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা আশা করেন এলাকাবাসী।

সীতাকুণ্ড পৌরসভার বর্তমান মেয়র নায়ক (অব) শফিউল আলম বলেন,‘ আমার সময়ে পৌরবাসী যে নাগরিক সুবিধা পেয়েছে, অন্য কারো সময়ে তা পায়নি। এছাড়া সার্বিকভাবে জনগনের জীবন মান বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে আমার আমলেই সীতাকুণ্ড পৌরসভা ২য় গ্রেড থেকে ১ম গ্রেডে উন্নীত হয়েছে বলে তিনি জানান।

মতামত