টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

তুমি কে হে? বিদেশ থেকে টাকা এনে চলো: ইফতেখারকে সুরঞ্জিত

aচট্টগ্রাম, ১০ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস): তিনদিনের মধ্যে বক্তব্যের জন্য ক্ষমা না চাইলে সরকার টিআইবির বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত।

তিনি মঙ্গলবার বিকেলে কমিটির বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান।

বর্তমান জাতীয় সংসদকে ‘পুতুল নাচের নাট্যশালা’ মন্তব্য করায় গতকাল সোমবার সংসদে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য তিনদিন সময় বেঁধে দেন সুরঞ্জিত।

সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুজ্জামানের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তুমি কে হে, তুমি কে? তুমি বিদেশ থেকে টাকা এনে চলো।’

এ সময় আওয়ামী লীগের প্রবীণ এই নেতা জানান, সংসদ, সংবিধান ও রাষ্ট্র নিয়ে ‘অবমাননাকর’ বক্তব্য দিলে সরকার বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (এনজিও) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান করার কথা বিবেচনা করছে।

মঙ্গলবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ‘বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন বিলে’ ওই বিধান রাখার বিষয়ে আলোচনা হয় বলেও জানান তিনি।

সুরঞ্জিত বলেন, ‘সরকার যদি বিবেচনা করে যে, কোনো এনজিও সংসদ, রাষ্ট্র, বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে অশালীন ও অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হবে। কমিটিও এটা বিবেচনা করছে।’

গত ১ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে ওঠার পর পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।

এরপর গতকাল সোমবার সংসদ অধিবেশনে এক অনির্ধারিত আলোচনাতেও ওই বিধান নিয়ে কথা বলেন সুরঞ্জিত।

তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ প্রতিবেদনের সমালোচনা করেন এবং বর্তমান সংসদ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানের বক্তব্য তিনদিনের মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

একই দিন সংসদে ওই বক্তব্যের সমালোচনা করেন বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ এবং ক্ষমতাসীন দলের এমপিরা। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ সংসদের বিশেষ অধিকার কমিটিতে টিআইবিকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদেরও দাবি করেন।

এর জবাবে মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘জাতীয় সংসদের সম্মানিত সদস্যগণ ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ প্রতিবেদনকে যেভাবে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেছেন, তাকে ইতিবাচক এবং টিআইবির কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করছি।’

সংসদের যে কোনো উদ্যোগে সহায়তা করতে টিআইবি প্রস্তুত আছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি।

এরপর সংসদীয় কমিটির বৈঠকের পর বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে সুরঞ্জিত বলেন, ‘এনজিওগুলো এমন অবস্থা ধরছে যে- আমার ঘরের ছাও, আমারে খাইতে চাও। তারা সরকার ও রাষ্ট্রের প্যারালাল হয়ে উঠছে। এই অধিকার তাদের নেই।’

তিনি বলেন, ‘তাদের কাজ সেবামূলক কাজ করা। নির্বাচন নিয়ে কথা থাকতেই পারে। সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলো কথা বলবে। এর মধ্যে এনজিও কেন? ড. ইফতেখার কিছু কথা বলেছেন যা অগ্রণযোগ্য ও অবমাননাকর।’

ইফতেখারুজ্জামানের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য বলেন, ‘সংসদকে পাপেট শো বলেছে। তুমি কে হে? তুমি কে? তুমি এনজিও। বাইরের টাকা এনে চলো। যে কথা বলেছে তা ফিলদি (নোংরা)।’

অন্য এনজিওগুলোকেও টিআইবির বিষয়ে দায়িত্ব নিতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের অবস্থান এনজিও’র বিরুদ্ধে নয়। অন্য এনজিওদের দায়িত্ব নিতে হবে। তাদের বলতে হবে ইফতেখার তাদের মুখপাত্র কি-না। যদি তারা ‘হ্যাঁ’ বলে, তা হলে একরকম, না হলে অন্যরকম।’

তিনদিন সময় বেঁধে দেওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে সুরঞ্জিত বলেন, ‘সময়ের মধ্যে তাদের বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। না হলে আইন অনুযায়ী… । তাকে লাইসেন্স… ইচ্ছামতো কথা বলার অবাধ লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। সেটা পলিটিক্যাল পার্টিকে দেয়া আছে।’

তিনি বলেন, ‘টিআইবি সীমা লঙ্ঘন করেছে। সামাজিক, আইনি, সাংবিধানিক সকল সীমা লঙ্ঘন করেছে। আজ আওয়ামী লীগ আছে, কাল বিএনপি আসতে পারে, পরশু জাতীয় পার্টি আসতে পারে। উনি (ইফতেখারুজ্জামান) কে?’

সুরঞ্জিত বলেন, ‘কেউ যদি মনে করে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে প্রতিষ্ঠানকে হেয় করবে। সেটা বিদ্বেষমূলক ও দূরভীসন্ধিমূলক। সংসদ তাদের লক্ষ্যবস্তু কেন? তারা অসাংবিধানিক কিছু চায়?’

এ সময় তিনি ইফতেখারুজ্জামানকে রাজনীতি করার খায়েশ থাকলে রাজনৈতিক দলে গিয়ে নাম লেখানোরও পরামর্শ দেন।

এনজিওদের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রবীণ এই নেতা বলেন, ‘এনজিওদের দেশসেবা ছাড়া কোনো কাজ নাই। তারা যদি সেটি করতে চায়, সরকারের অধীনে নিবন্ধিত হতে হবে। সরকার মনে করলে তারা থাকবে, না হলে থাকবে না।’

এর আগে সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, মো. শামসুল হক টুকু, মো. আব্দুল মজিদ খান, তালুকদার মো. ইউনুস, মো. জিয়াউল হক মৃধা এবং সফুরা বেগম বৈঠকে অংশ নেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত