টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফেসবুক টুইটার হেয়াটসঅ্যাপে নিয়ন্ত্রণ আসছে 

whatsapp-twitter-y-facebookচট্টগ্রাম, ০৯ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস): সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। অথচ দেশের প্রায় পৌনে দুই কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে। সমস্যা হলো—বাংলাদেশের ফেসবুকের সঙ্গে কোনও চুক্তি না থাকায় ফেসবুক নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা, অভিযোগের কোনও সুরাহা শতভাগ নিশ্চিত করা যায় না। বরং বাংলাদেশের প্রতি ফেসবুক কর্তৃপক্ষের ‘খামখেয়ালি’ মনোভাব রয়েছে। তাদের ইচ্ছে হলো, সমস্যার সমাধান দিল। ইচ্ছে হলো না তো, কোনও পাত্তাই দিল না। তবে, এই সমস্যার সমাধান হতে যাচ্ছে। এরই লক্ষ্যে সরকার ফেসবুক. টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপে নিয়ন্ত্রণ আনতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সূত্রমতে, দেশের মানুষকে সাইবার হয়রানি থেকে রক্ষা করতে গঠিত সাইবার হেল্প ডেস্কে গত দেড় বছরে ১২ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। যার ৭৫ ভাগই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক নিয়ে। অভিযোগের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বাজে তথ্য বা বিকৃত ছবি প্রকাশ। এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ জমা হচ্ছে হেল্প ডেস্কে। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউটিউব।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বাংলাদেশে ফেসবুকের অ্যাডমিন প্যানেল বসানোর অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে বিটিআরসিকে একাধিক শর্ত জুড়ে দিয়ে চিঠির উত্তর দেয়। কমিশনও বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে পারে, এমন কোনও শর্ত মেনে না নিয়ে বরং আলোচনার ভিত্তিতে দুই পক্ষকে আরও ছাড় দিয়ে এ বিষয়ে অগ্রসর হওয়ার কথা জানিয়ে চিঠি দেয়। তবে ফেসবুক থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টি ওখানেই থেমে রয়েছে।

তবে, সরকার বিষয়টিতে এখানেই ক্ষ্যান্ত না দিয়ে বরং সরাসরি সরকারি পর্যায়ে চেষ্টা চালিয়ে যায়। আর এরই সুফল পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সরকার এবার যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে সরকার টু সরকার (জি টু জি) পর্যায়ে চুক্তি করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে একটি বিশেষ চুক্তি করতে যাচ্ছে। ওই চুক্তি হলে ফেসবুক, টুইটার ও বিভিন্ন ওটিটি (ওভার দ্য টপ) সেবা যেমন ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপ ইত্যাদি দেশে বসেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। তখন আর ফেসবুক কর্তৃপক্ষের দিকে চেয়ে থাকতে হবে না।

বর্তমানে কাজের অবস্থা জানিয়ে বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান আহসান হাবিব খান বলেন, বাংলাদেশের প্রতি ফেসবুক কর্তৃপক্ষের ‘খামখেয়ালি’ মনোভাব রয়েছে। ফেসবুক আমাদের নয়, পুরো বাইরের কন্ট্রোলে। আমরা ওদের অনুরোধ করি, এই সাইটটি বন্ধ করো। ওরা কখনও করে, কখনও করে না।

বিটিআরসির সচিব সরওয়ার আলম বলেন, ফেসবুক, টুইটার, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ যুক্তরাষ্ট্রের ল্যান্ড বাউন্ডারিতে। ওগুলো ওদের প্রতিষ্ঠান। ফলে ওদের ধরা সহজ নয়। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বিষয়ে মিউচুয়াল এগ্রিমেন্ট করলে তখন ফেসবুক, টুইটার, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপসহ আরও অনেক সেবা একটি আমব্রেলার নিচে চলে আসবে। ফলে সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা উদ্যোগ নিতে পারব। তখন সমস্যা দিন দিন অনেক কমে যাবে।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে জঙ্গিদের যোগাযোগ ও অর্থায়ন রুখতে এবং তাদের খুঁজে বের করতে কিছু ‘ভাইবারসহ বেশ কিছু অ্যাপ’ সাময়িক বন্ধ করার বিষয়ে ইঙ্গিত দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে সুফল থাকলেও অপরাধীদের ব্যবহারে এর কিছু কুফল পাওয়া যাচ্ছে।-বাংলা ট্রিবিউন

মতামত